আপডেট: নভেম্বর ৫, ২০১৯

আপডেট:

সকল অনিয়মই যার কাছে নিয়ম, তিনি হচ্ছেন নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার মিলন মাঝি। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই অর্থের পাহাড় তৈরির উদ্দেশ্যে নানান দুর্নীতিতে লিপ্ত হন। এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকার এবং সরজমিন অনুসন্ধানে সকল অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সরকারী ঘর দেয়া হবে বলে এলাকার বহু পরিবারের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সরকারী নিয়ম না মেনে অর্থের বিনিময়ে ৬০ বছরের কম বয়সী একাধীক ব্যাক্তিদের বয়স্ক ভাতা পাইয়ে দিচ্ছে ইউপি মেম্বার মিলন মাঝি। এ বিষয়ে সরজমিন অনুসন্ধানে গেলে সড়ই গ্রামের বারইয়ালী (পান চাষের শ্রমিক) সুধীর মন্ডল বলেন, আমার বয়স প্রায় ৭০ বছর সরকারের দেয়া বয়স্ক ভাতা পাওয়ার আশায় গত ২ বছর ধরে মেম্বারের কাছে ধর্ণা ধরতেছি। টাকা দিতে পারিনাই তাই আমাকে মেম্বার ঘুরাইতেছে। অথচ যাদের বয়স ৫০ এর কম তাদেরকেও টাকার বিনিময়ে বয়ষ্ক ভাতা এনে দিচ্ছে মিলন মেম্বার। একই এলাকার আব্দুস সোবাহান অভিযোগ করে বলেন, ভাতা পাইয়ে দিবে বলে গত দের বছর আগে মিলন মেম্বার তার কাছ থেকে সরকারী খরচের কথা বলে ৩ হাজার টাকা নিয়েছে। আজ কাল পরশু এই বলে তাকেও ঘুরাচ্ছে। পুরুষের ক্ষেত্রে বয়স্ক ভাতা পেতে ৬৫ বছর বয়স হতে হবে সরকার কর্তৃক এমন নির্দেশনা থাকা সত্বেও সড়ই গ্রামের ৫৭ বছর বয়সী আব্দুল সোমেদ তালুকদার এবারই প্রথম বয়স্ক ভাতা গ্রহন করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। হালনাগাদ ভোটার লিষ্টে এই ব্যক্তির জন্ম তারিখ ১৯৬৫ লেখা রয়েছে বলেও প্রমান মিলেছে। তাহলে কি ভাবে তিনি বয়স্ক ভাতা পেলো সে বিষয়ে সোমেদ তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি মিলন মাঝির দুর্নীতির কথা স্বিকার করে বলেন, মেম্বারকে সে ৪ হাজার টাকা দিয়েছে আর মেম্বার তাকে ভাতা পাওয়ার লিষ্টে নাম উঠিয়ে দিয়েছে। অপরদিকে কুলকাঠি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নেছার হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, গত জুন মাসে সরকারী ঘর বরাদ্দ পাইয়ে দিবে বলে সরকারী খরচের কথা বলে তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে মিলন মেম্বার। কিন্তু ঘর না পাওয়ায় মেম্বারকে টাকা ফেরতের জন্য বললে মেম্বার তাকে আগামী বছর ঘর দিবে বলে তাড়িয়ে দেন। একই অভিযোগ করে হাসি বেগম বলেন, ঘর দিবে বলে ৩ বছর আগে সরকারী খরচের জন্য আমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেয় ইউপি মেম্বার মিলন মাঝী। সুদে টাকা এনে তাকে দেয়ার ১ বছর পর বুঝতে পারি আমি মেম্বারের প্রতারনার ফাদে পা দিয়েছি। ঘর তো দেয়ই নাই আজ পর্যন্ত টাকাটাও দেয় নাই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সড়ই গ্রামের আরেক গৃহবধূ বলেন, সরকারী ঘরের জন্য স্বামীকে না বলে ২৩ হাজার টাকা যোগার করে মেম্বারকে দিয়েছিলাম। ঘর না দেয়ায় আমি টাকা ফেরৎ চাইলে সে আমাকে দিনের পর দিন ঘুরাচ্ছে। একাধীক বিবাহ করা এই মিলন মাঝি এলাকার বহু গৃহবধূদের উত্যক্ত করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে সরকারী ঘর বরাদ্দ এবং বয়স্ক ভাতা নিয়ে এলাকায় সে কয়েক বছর যাবত যেভাবে গরীব মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছে তা যেনেও কুলকাঠি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের নিরব ভুমিকা রহস্যজনক বলে মনে করেন এলাকাবাসী। অভিযুক্ত মেম্বার মিলন মাঝীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। তার ব্যবহৃত ০১৭১২৪৬৬৮২৫ নম্বর মোবাইল ফোনে বহুবার কল করা হলেও সে কল রিসিফ করেননি। এবিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাইলে চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান বাচ্চু এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমার মেম্বার দুর্নীতিতে লিপ্ত রয়েছে সে বিষয়ে কিছুই আমি জানিনা। মেম্বার দুর্নীতিতে জড়ালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বয়স্ক ভাতার বিষয়ে চেয়ারম্যান সরাসরী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়ী করে বলেন, জাতীয় পরিচয় পত্রের বয়স যাচাই করার আমার কোন এখতিয়ার নাই। তা দেখবে উপজেলা সমাজসেবা অফিস কর্তৃপক্ষ। আর যদি জাল পরিচয়পত্র কেউ জমা দিয়ে আবেদন করে থাকে সেও দোষী হবেন। চেয়ারম্যানের এই বক্তব্য নাকচ করে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী এ প্রতিনিধিকে বলেন, বয়স্কভাতা গ্রহনকারীর আবেদন যাচাই করবে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ চেয়াম্যান ও মেম্বাররা। একান্ত সাক্ষাৎকারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরো বলেন, একাধীক ভাতা গ্রহনকারীদের বয়স কমের অভিযোগ আগেও পেয়েছি। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান দ্বায় এড়াতে পারবেননা। কারন বয়স্ক ভাতা প্রদান কমিটির সভাপতি হচ্ছেন কুলকাঠি ইউনিয়ন চেয়ারম্যন আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী এও বলেন আপাতত অভিযুক্তদের ভাতা স্থগিত করে দিচ্ছি। বয়স যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পেলে তালিকা প্রস্তুতকারীসহ যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে নিতিমালা মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।