আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০১৯

আপডেট:

জাকিরুল ইসলাম, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ও তাদের পূর্ণবাসন করতে ভিক্ষুকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর নিলেন বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুর রহমান।
গতকাল বিকেলে উপজেলার কাটলা ইউনিয়নে ভিক্ষাবৃত্তি করা জানো বালার (৭৫) বাড়িতে উপস্হিত হন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুর রহমান। জানো বালা তখন বারান্দায় বসে অবাক দৃষ্টিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলেন।
জানো বালা থাকেন ছেলের ঘরের বারান্দায় অগোছালো একটি বিছানায়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানো বালাকে একটি থাকার বাসস্হান ও তার নাতনীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন।
পরে একে একে খোঁজ খবর নেন অত্র ইউনিয়নে ভিক্ষাবৃত্তি করা মিরবালা, মজিরন, খতেজা, রাফিয়াসহ আরো অনেকের।
হরিরামপুর গ্রামের ভিক্ষাবৃত্তি করা মিরবালা (৭০) জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর পেটের দায়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ভিক্ষাবৃত্তি করেন তিনি। তার এক ছেলে উজ্জল থাকেন নিজের আলাদা সংসার নিয়ে। ভাঙ্গা একটি ঘরের মাটিতে শুয়ে থাকেন তিনি। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকেও একটি বাসস্হান ও তার ছেলেকে একটি ভ্যানগাড়ি দেবার আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুর রহমান জানান, বিরামপুর উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করবার লক্ষে তাদের পূর্ণবাসন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তাই সরকারের পাশাপাশি বিত্তবান, ও সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই তাদের ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বের করে আনা সম্ভব।
তিনি আরও জানান, তাদের পূর্ণবাসনের জন্য কাউকে বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, ভিজিডি কার্ড ও ১০ টাকা কেজি চালের আওতায় আনা হবে। এবং যাদের ছেলে সন্তান রয়েছে তাদের ভ্যান গাড়ী পাবারও ব্যাবস্হা করা হবে।
এ সময় উপস্হিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুন নাহার, ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সমন্বয়কারী শ্রী বিদ্যুৎ কুমার মন্ডল, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ সরকারী/বে-সরকারী এবং বিভিন্ন এনজিও সংস্হার কর্মকর্তা কর্মচারী প্রমুখ।