২২, আগস্ট, ২০২০, শনিবার | | ৩ মুহররম ১৪৪২

শিক্ষার্থীদের মাঝে আলো ছড়াচ্ছে ‘শো দ্যা ক্রিয়েটিভেটি’

আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০১৯

  • Facebook Share
শিক্ষার্থীদের মাঝে আলো ছড়াচ্ছে ‘শো দ্যা ক্রিয়েটিভেটি’

খুরশিদ জামান কাকন :
সময়ের সাথে আমরা আধুনিক হচ্ছি। আমাদের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হচ্ছে। এখন আমরা কেউ পিছিয়ে থাকতে চাইনা। সবাই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চাই। জীবন চলার পথে নতুনত্ব কিছু করতে চাই। নিজের সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চাই। 
শিক্ষাজীবনে পড়াশোনার বাইরে আমরা অনেকেই অনেক কিছু করে থাকি। কেউ গাইতে, কেউ ছবি আঁকতে, কেউবা হয়তো আবৃত্তিতে পারদর্শী। কিন্তু উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে আমরা অনেকেই মাঝপথে হতাশ হয়ে পড়ি। নিজেকে সৃজনশীল কাজকর্ম থেকে দূরে রাখি।
প্রতিভা সবারি থাকে। প্রতিভা প্রকাশের জন্য চাই উপযুক্ত পরিবেশ। সেইসাথে বিকশিত প্রতিভাকে কাজে লাগানোর জন্য চাই যথাযথ প্লাটফর্ম। আর এই ফ্লাটফর্মকে খুঁজে দিতে ও প্রতিভাবানদের মাঝে উৎসাহ জোগাতে গড়ে উঠেছে ‘শো দ্যা ক্রিয়েটিভেটি’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা শো দ্যা ক্রিয়েটিভেটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজকর্ম তুলে ধরার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বহিঃপ্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই সংগঠনটির নিজস্ব পেজ ও গ্রুপে রয়েছে ত্রিশ  হাজারের অধিক শিক্ষার্থী। যারা তাদের সৃজনশীল কার্যক্রমগুলো এই সংগঠনের মাধ্যমে ফেসবুকে তুলে ধরছে। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এইসকল সৃজনশীল শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের জন্য বেছে নিচ্ছে। এতে করে যেমন একজন দক্ষ কর্মী খুঁজে পাওয়া যায়, তেমনি ভালো অবস্থানে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। 
শো দ্যা ক্রিয়েটিভেটি শুধু অনলাইনে নয়, কাজ করে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতেও। ইতিমধ্যে তারা ঢাকা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার আয়োজন করেছে। নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, ফেসবুকের যথাযথ ব্যবহার ও এর ভালো-মন্দ দিক সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করছে শো দ্যা ক্রিয়েটিভেটি। পাশাপাশি বিভিন্ন রেডিও চ্যানেলের মাধ্যমে এই সংগঠনের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সৃজনশক্তি কাজে লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছে।
২০১৮ সালের জুলাই মাসে যাত্রা শুরু করার পর অনেক শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে শো দ্যা ক্রিয়েটিভেটি। সেইসাথে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর চাকরীর ব্যবস্থা করেছে। এরমধ্যে ছয়জন গ্রাফিক্স ডিজাইনার ও দুইজন চিত্রশিল্পী রয়েছেন। যারা এখন পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খন্ডকালীন চাকরি করছেন। 
শো দ্যা ক্রিয়েটিভেটির প্রতিষ্ঠাতা আর কে সোহান জানান, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তো আমরা সবাই ব্যবহার করি। কিন্তু নিজের সৃজনশীল কাজগুলো সবার সামনে তুলে ধরার জন্য এই মাধ্যম কয়জনইবা ব্যবহার করি? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে আরো কার্যকরী ও উপকারী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাওয়াদ আহমেদ জানান, “আমরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পিং করে শিক্ষার্থীদের মাঝে জনসচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। ইন্টারনেট ও ফেসবুকের যথাযথ ব্যবহার করার পরামর্শ প্রদান করছি।’ ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন জানান, ‘ফেসবুকে অনেক বড় বড় পেজ ও গ্রুপ রয়েছে। কিন্তু তাদের কাছে অনেক অনুরোধ করেও দেখা যায় তারা আমাদের সৃজনশীল কাজগুলোকে তুলে ধরতে চায়না। আমাদের এই সংগঠনের মাধ্যমে যে কেউ খুব সহজে যেমন তার নিজের সৃজনশীল কাজ সবার সামনে তুলে ধরতে পারবে। ঠিক তেমন যে কেউ তার পছন্দ অনুযায়ী একজন সৃজনশীল কর্মী খুঁজে নিতে পারবেন। আমরা শো দ্যা ক্রিয়েটিভেটি পরিবার এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করে দেওয়ার চেষ্টা করছি।”