১৪, মে, ২০২১, শুক্রবার | | ২ শাওয়াল ১৪৪২

বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট চিতলমারীতে

আপডেট: মে ১৪, ২০১৯

বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট চিতলমারীতে

অলোক (বাগেরহাট )চিতলমারী

সুপেয় পানির তীব্র সংকট চলছে চিতলমারী উপজেলায় ।সংকট এতটাই তীব্র আকার ধারণ করছে এলাকার জনগন বাধ্য হয়ে পান করছে সাধারণত টিউবওয়েল ও পুকুরের পানি।ফলে আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে।

পানির অপর নাম জীবন ।বইয়ের মাধ্যমে এ সত্য কথা জানলেও এখন এমন অবস্থা হয়ে উঠছে পানির অপর নাম মরণব্যাধি।সুপেয় পানির এত সংকট দেখা দিচ্ছে দিনের পর দিন তা ভাবতে অবাক লাগছে।যে সব বিশুদ্ধ পানির উৎস ছিল এই তীব্র তাপাদাহে প্রায় শুকিয়ে তলানিতে এসে পড়েছে ।এখন ভরসা শুধু স্মৃষ্টিকর্তার উপর।আশেপাশের নদী গুলো প্রায় অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ছে।গৃহস্থালির কাজ সারতে ব্যবহৃত হচ্ছে খাবার পানি।

সরজমিনে চিতলমারীর বিভিন্ন বাসিন্দাদের সাথে আলাপ চারিতায় জানা যায় বিশুদ্ধ পানির উৎস দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে ।বাগেরহাট বা স্থানীয় ভাবে পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম থাকায় বোতলজাত (জারের পানি)পানির দাম বেশি হত্যয়ায় সাধারণ জনগনের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।সরকারী ভাবে সুপেয় পানির সরবরাহ না থাকায় বাধ্য হয়ে  পানাপোযোগী পানি পান করতে হচ্ছে ।এতে ডাইরিয়া ,কলেরা ,টাইফয়েডের মতো বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধছে শরীরে।

বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলারবিভিন্ন হাট বাজারে ২০০উপরে হোটেল ,রেস্তারা সহ পথে ঘাটে সহাস্রাধিক চায়ে দোকান আছে।প্রতি নিয়ত এখানে কয়েক হাজার লিটার পানির প্রয়োজন হয়।এ পানির জোগান স্থানীয় ভাবে মিটে থাকে।চাহিদা মেটাতে স্থানীয় পানাপোযোগী পুকুর বা টিউবওয়েল বেঁছে নেন দোকানদারেরা।এই সুযোগ ব্যবহার করে ভ্যানওয়ালারা দূরদৃরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে ড্রাম প্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায় । তাছাড়া প্রত্যেক পরিবারের পানির চাহিদা ব্যাপক।তীব্র তাপাদাহে মানুষ থেকে প্রানীকূল পর্যন্ত বিপর্যস্ত।

চিতলমারীর উপজেলা পরিষদের ভিতর ও চরবানীয়ারীতে দুইটি বিশুদ্ধ পানির উৎস হাই সাওয়া পাম্প থাকলেও এখন তা সঠিক রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে  অকেজো ।এ ছাড়া বিভিন্ন এনজিও বা ব্যক্তি উদ্যেগে নির্মিত পন্ডস স্যান্ড ফিল্টার (পি এস এফ) ,রেইন ওয়াটার হার্বেস্ট্রিং(আর ডব্লিউ এইস)বৃষ্টির পানি সংরক্ষন প্রকল্প থাকলেও তা সীমিত । যে সব পুকুরে পি এস এফ স্থাপিত তার পানির পরিমান দিন দিন কমে যাচ্ছে ।

সরকারী উদ্যেগের কোনসুব্যবস্থা না থাকায় এনজিও নির্মিত পুকুর ফিল্টারের উপর ঝুঁকছে সাধারণ জনগন।সন্তোষপুর ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামে ব্রাক নির্মিত দুটি পুকুর ফিল্টারের উপর ভরসা কয়েক কিলোমিটারের বাসিন্দাদের।ভোর রাতের আযান দেবার সময় থেকে শুরু করে রাত ১-২টা পর্যন্ত পানি নিতে দেখা যায়।এমন চিত্র গতকাল সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়।সন্তোষপুর ইউনিয়ন ও সদর ইউনিয়নের কয়েক গ্রামের বিশেষ করে মহিলা ও মেয়েরা কলস ,পট লম্বা লাইনে  দিয়ে সিরিয়ালে থাকে পানি সংগ্রহ করার জন্য।মন্দির সংলগ্ন ব্রাক নির্মিত পুকুর ফিল্টার থেকে পানি নিতে আদিখালি গ্রামের কয়েক জন বলেন চিতলমারীর ফিল্টার নষ্ট তাই বাধ্য হয়ে রাতের বেলায় পানি নিতে হয় ।দিনের বেলায় স্থানীয় লোক জনের জন্য সিরিয়াল পাওয়া যায় না।এছাড়া চৌদ্দহাজারী,সাড়েচারানি,লড়ারকুল সহ একাধিক গ্রামের পুরুষ মহিলারা এখান থেকে পানি সংগ্রহ করে।

সন্তোষপুর মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোককুমার মন্ডল ও ছায়া রানী ব্রক্ষ্ম বলেন , বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের একমাত্র পানের উপযোগী পানি এই ফিল্টার থেকে সংগ্রহ করে থাকি।

দুইটি পুকুর ফিল্টারের রক্ষনাবেক্ষনের দ্বায়িত্ব থাকা শংকর মজুমদার, নরেশ মজুমদার, অপূর্ব মজুমদার,সুব্রত মজুমদার, প্রনব বিশ্বাস, মধুসূদন বালা,আকাশ মজুমদার বলেন ব্রাক শুধু নির্মাণ করে দিছে ।এর পরের যাবতীয় খরচ আমরা সামান্য টাকা নিয়ে কাজ করাই।সকলে সেই টাকা  না দিয়ে  রাতের আধঁরে পানি নিয়ে যায় ।মাঝে মাঝে স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে।সকলের কথা মাথায় রেখে অধিকাংশ সময় পকেটের টাকা দিয়ে আমরা ফিল্টার মেরামত করি।এজন্য ব্রাক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে ছোট করতে চাই না। এব্যপারে স্থানীয় ইউনিয়ন জনপ্রতিনিধি নির্মল মন্ডল বলেন আমাদের সন্তোষপুর ইউনিয়নে ডিপ টিউবওয়েল বসানো যায় না।গেলেও পানি লবনাক্ত।একাধিক বার চেষ্টা করেও সুফল পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে আমি নিজেও অবগত আছি।

এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট।সাধারণ জনগন এই সমস্যা আসু সমাধানের জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।