১০, মে, ২০২১, সোমবার | | ২৮ রমজান ১৪৪২

নীলফামারীতে চলতি বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন

আপডেট: মে ২০, ২০১৯

নীলফামারীতে চলতি বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন

নাঈম শাহ্, নীলফামারীঃ চলতি বোরো মৌসুমে খাদ্য গুদামে সরকারীভাবে
অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে নীলফামারীতে। গতকাল রবিবার
(১৯ মে) বেলা তিনটায় নীলফামারী সদও উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের আদর্শপাড়া
গ্রামে কৃষক রুবিনা বেগমের বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন
নীলফামারী জেলার আনুষ্ঠানিকভাবে বোরো ধান সংগ্রহের উদ্ধোধন করেন। এ সময়
কৃষক রুবিনা বেগম এক মেট্রিক টন ধান বিক্রি করে। প্রথমবারের মত সরকারী
খাদ্য গুদামে এক মেট্রিক টন ধান বিক্রি করতে পেরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে
পড়ে কৃষক রুবিনা বেগম। কৃষক রুবিনা বেগম এসময় বলেন, “মোর জীবনোত প্রথম
সরকারের কাছোত ধান বেচানু। এর আগোত অনেক চেষ্টা করিয়াও সরকারের কাছোত ধান
বিক্রি করির পাও নাই। অ্যাইজ সরকারের লোকজন মোর বাড়িত আসিয়া মোর কাছোত
ধান কিনি নিয়াগেইল। মুই কোন দিন ভাবোনাই স্যারেরঘর মোর বাড়িত আসি মোর
কাছোত ধান কিনিবে।” কৃষক রুবিনা বেগম আরো বলেন,“ প্রধান মন্ত্রী শেখ
হাসিনা সরকার এই বার এক হাজার ৪০ টাকা মন ধরে আমাদের কাছে সরাসরি ধান
কিনেছে এ জন্য আমি শেখ হাসিনার মঙ্গল কামনায় সব সময় দোয়া করবো ।” কৃষক
রুবিনা বেগম আরো জানান, এবার দুই একর জমিতে বোরো আবাদ করেছে সে। চারা
রোপন থেকে শুরু করে কাটা-মাড়াই পর্যন্ত প্রতি বিঘায় তার খরচ হয়েছে ১৩
হাজার ৫০০ টাকা। প্রকৃতি অনুকুলে থাকায় দুই একর জমিতে অনেক ধান ফলেছে।
ধান কাটাই মাড়াই শেষ করেছেন তিনি। কিন্তু উৎপাদন খরচের চেয়ে বাজারে ধানের
দাম অনেক কম থাকায় বেশ উৎকন্ঠায় ছিলেন। গতকাল রবিবার (১৯ মে)  রুবিনা
বেগমের সেই উৎকণ্ঠার অবসনা ঘটে। সরকারের ধান ক্রয় কমিটির লোকজন বাড়িতে
গিয়ে তার কাছ থেকে সরাসরি এক মেট্রিক টন ধান ক্রয় করায়। নীলফামারীতে
মন্দা চলছে ধানের বাজার। এবার বোরো মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হলেও উৎপাদন
খরচের চেয়ে বাজার মূল্য কম হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন নীলফামারীর
কৃষকরা।জমি ও বীজ তৈরি থেকে শুরু করে ঘরে তোলা পর্যন্ত এক মণ ধানে খরচ
পড়েছে অন্তত ৭৩০ টাকা। এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ৪০০ টাকা মণ দরে। একজন কৃষি
শ্রমিককে এক দিনের মজুরী ৫০০ টাকা পরিশোধে প্রয়োজন হচ্ছে ৫০ কেজি ধান।ওই
মন্দাভাব কাটাতে রবিবার বিকালে কৃষকের বাড়িতে গিয়ে ধান কিনে সরকারি ক্রয়
অভিযানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন। জেলা প্রশাসক নাজিয়া
শিরিন জানান, “সরকার সরাসরি সাধারণ কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনবে। প্রান্তিক
কৃষক ছাড়া একটি ধানও কিনতে দেয়া হবে না। যাতে কৃষক ন্যায্যমূল্যে তাদের
উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে পারেন। এ ছাড়াও নারী কৃষকরা যাতে হয়রানী হতে না
হয় সেদিকে আমাদের কঠোর নজর রয়েছে। তারা সহজে যাতে সরকারের এই ক্রয়
অভিযানে তাদের উৎপাদিত ধান (পণ্য) বিক্রি করতে পারে সেটাও আমাদের ভাবতে
হবে। নীলফামারী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন জানান সরকারী ভাবে
এবার বোরো ধান ক্রয় অভিযানে নীলফামারীর ছয় উপজেলায় সরাসরি কৃষকেদের কাছ
থেকে ধান ক্রয় করা হবে দুই হাজার ৬১২ মেট্রিক টন। এর মধ্যে নীলফামারী
সদরে ৭৪০, সৈয়দপুরে ২৩৬,ডোমারে ৪১৩,জলঢাকায় ৪৬২,ডিমলায় ৪১১ ও কিশোরীগঞ্জ
উপজেলায় ৩৫০ মেট্রিক টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নীলফামারীর উপ-পরিচালক
আবুল কাশেম আযাদ বলেন, জেলার ছয় উপজেলায় কৃষক পরিবারের তালিকা রয়েছে ৩
লাখ ৮৩ হাজার ৫৩৯ জন। এবার ৮৩ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা
হয়েছে। ফলন ভাল হয়েছে। এই ধানে ৩ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন চাল পাওয়া
যাবে।ধান সংগ্রহের অভিযানের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক সদর উপজেলা খাদ্য
গুদামে চাল সংগ্রহ অভিযানেরও উদ্ধোধন করেন। এ সময় সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত
নির্বাহী কর্মকর্তা সুজাউদ্দৌলা, জেলা মিল মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব
আজিজুল ইসলাম, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন অভি, জেলা কৃষি
বিভাগের উপপরিচালক মো. আবুল কাশেম আয়াদ, মেসার্স সামসুল অটো রাইস মিলের
চেয়ারম্যান সামসুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রশিদ
মঞ্জু উপস্থিত ছিলেন।সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, জেলার ছয় উপজেলায় এবার সরকারী
ভাবে ১৭ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৬১৬ মেট্রিক টন আতপ চাল
সংগ্রহ করা হবে।চাল সংগ্রহের জন্য ৫৯৬ জন মিলার ইতোমধ্যে চুক্তিবদ্ধ
হয়েছে খাদ্য বিভাগের সাথে। এরমধ্যে ১৮টি অটো রাইস মিল এবং ৫৭৮টি হাসকিং
মিল মালিক রয়েছেন।




নীলফামারীতে ভিজিএফ’র চাল পাবেন চার লাখ অতি দরিদ্র মানুষ।

নাঈম শাহ্, নীলফামারীঃ নীলফামারীতে আসন্ন ঈদুল ফিতরে ৪ লাখ ৪ হাজার ৩১৫
জন অতি দরিদ্র মানুষ ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ১৫ কেজি করে চাল পাবে।
সংস্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে
উপ-বরাদ্দের পরিপত্র সংস্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহি অফিসার বরাবর পাঠিনো
হয়েছে। ভিজিএফ এর সুবিধাভোগিদের  মধ্যে জেলার ৬০ টি ইউনিয়নে ৩ লাখ ৯০
হাজার ৪৫২ জন এবং পেীরসভায় ১৩ হাজার ৮৬৩ জন রয়েছে।জেলার ত্রান-পূর্ণবাসন
কার্যালয় থেকে জানা যায়, জেলার ৬ উপজেলায় ডিমলায় ৬৭ হাজার ১৮৮ জন,
নীলফামারী সদরে  ৯০ হাজার ৬৯০ জন, ডোমারে ৫৩ হাজার ৭০১ জন, জলঢাকায় ৭৮
হাজার, কিশোরগঞ্জ ৫৬ হাজার ৫৪৭ জন, সৈয়দপুরে ৪৪ হাজার ৩২৬  জন। চার
পেীরসভায় নীলফামারীতে ৪ হাজার ৬২১ জন, ডোমারে ১ হাজার ৫৪০ জন, সৈয়দপুরে
হাজার  জন, জলঢাকায় ৩ হাজার ৮১ জন। জেলার ত্রান-পূর্ণবাসন কর্মকর্তা এস এ
হায়াৎ বলেন, জেলায় ৬ হাজার ৬৪ দশমিক ৭২৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে ।
এবং প্রত্যেকে ১৫ কেজি করে চাল পাবে । আগামি ৩ জুনে মধ্যে চাল উত্তোলণ
করে বিতরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উপজেলাগুলোতে।