২৩, আগস্ট, ২০২০, রোববার | | ৪ মুহররম ১৪৪২

কুমারী মা স্বামীর অধিকার পেতে থানায় অভিযোগ, মানববন্ধন

আপডেট: নভেম্বর ২২, ২০১৮

  • Facebook Share
কুমারী মা স্বামীর অধিকার পেতে থানায় অভিযোগ, মানববন্ধন

জি.  এম শরীফ, (হাইমচর প্রতিনিধি, চাঁদপুর):   চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়নের মধ্য বাখরপুর গ্রামে অসহায় এক দরিদ্র পরিবারের তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রভাবশালী পরিবারের এক যুবক তার ইজ্জত লুন্ঠন করেছেন। ওই তরুণি ইতিমধ্যে একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছে। শিশুটির বর্তমান বয়স ২৩ দিন। কুমারী ওই মা স্বামীর অধিকার পেতে আইনী সহায়তা চেয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) সকালে ওই তরুণির পক্ষের লোকজন ও গ্রামবাসী চাঁদপুর মডেল থানা প্রাঙ্গনে মানববন্ধন করেছে। তবে মানববন্ধনের বিষয়টি পুলিশ টের পায়নি।

ঘটনার বিবরণে জানায়, ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মধ্য বাখরপুর গ্রামের মাঝি বাড়ির মোঃ বিল্লাল হোসেন মাঝির বড় মেয়ে মিলি আক্তার (১৫) মধ্য বাখরপুর মরহুম ক্বারী রুস্তম আলীর দাখিল মাদরাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। মাদরাসায় আসা-যাওয়ার পথে একই এলাকার বেপারী বাড়ির আবুল কাশেম বেপারী বখাটে মেঝো ছেলে আল-আমিন বেপারী (২৫) মিলিকে উত্ত্যক্ত করত। প্রায় সময় তাকে মাদরাসায় আসা যাওয়ার পথে প্রেমের প্রস্তাব দিত। বখাটে আল-আমিনের হাত থেকে বাঁচতে মিলি তার প্রেমে সাড়া দেয়।

মিলির এই সরলতার সুযোগ নিয়ে আল-আমিন তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ইজ্জত হনন করে বলে মিলির পিতা বিল্লাল মাঝি জানান। এরই মধ্যে মিলি অন্তসত্বা হয়ে পড়ে। গত ২৩ দিন পূর্বে ১ নভেম্বর মিলি একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কথা জানতে পেরে আল-আমিন এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে। অসহায় কুমারী মা মিলি আল-আমিনের কাছে স্বাশীর অধিকার পেতে বেশ কয়েকবার শালীশ বৈঠক ডাকে। কিন্তু মিলির পরিবার শালীশে উপস্থিত হলেও আলÑআমিনের পরিবার উপস্থিত হয়নি। গত ১৬ নভেম্বর শুক্রবার মিলি আক্তার নিজে বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় আলÑআমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।
গত বুধবার ২১ নভেম্বর চান্দ্রা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খান জাহান আলী কালু পাটওয়ারী বিষয়টি মীমাংসার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের শালীশ বৈঠক ডাকেন। মিলির পরিবার ইউপি কার্যালয়ে উপস্থিত হলেও অভিযুক্ত আল-আমিন ও তার পরিবার উপস্থিত হননি।
চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইবরাহিম খলিল জানান, চান্দ্রায় এক অসহায় তরুণীর সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রেমের ফাদে ফেলে তার ইজ্জত কেড়ে নিয়েছে এক যুবক। ওই ভিকটিম থানায় অভিযোগ জানিয়েছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুরাণবাজার পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে বিবাদী পক্ষ বলছে অভিযুক্ত আল-আমিন একা এই ঘটনা ঘটায়নি। তার সাথে অন্য যুবকও রয়েছে। কিন্তু ভিকটিম অভিযোগ করেছে আল-আমিনের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক। আর বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আল-আমিন তার ইজ্জত জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়েছে। যা ফলে এখন তার এই অবস্থা। স্থানীয়রা জানায়, কাশেম বেপারীর ছেলে আল-আমিন বেপারী ও তার ভাইয়েরা এলাকায় চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী। তারা এলাকায় নানা ধরনের অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। আল-আমিন এক সময় রাজমিস্ত্রির কাজ করত। তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য বর্তমানে বিদেশে থাকায় টাকার দাপট দেখিয়ে এলাকায় নানা ধরনের অপরাধ করে যাচ্ছে। আমরা চাই অসহায় এই মিলিকে যেন আলÑআমিন স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে থাকে। অন্যথায় মিলি যেন আইনের মাধ্যমে সঠিক বিচার পায় সেই জন্য্ই আমরা চাঁদপুর মডেল থানার সামনে মানব বন্ধন করছি।

তারা আরো জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ দায়েরের পর তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আল-আমিনের পিতা কাশেম বেপারীকে আটক করে। আপোষ মিমাংসার কথা বলে মুছলেকা দিয়ে কাশেম বেপারী পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পায়। বর্তমানে তারা মিলির পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।