৩০, সেপ্টেম্বর, ২০২০, বুধবার | | ১২ সফর ১৪৪২

চিরকুট লিখে চট্টগ্রাম সীতাকুন্ডে গৃহবধুর আত্মহত্যা

আপডেট: আগস্ট ৭, ২০১৯

  • Facebook Share
চিরকুট লিখে চট্টগ্রাম সীতাকুন্ডে গৃহবধুর আত্মহত্যা

আশরাফ আলি,চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামমে সীতাকুণ্ডের বার আউলিয়া এলাকায় গলায় ফাঁস দিয়ে চন্দনা রানী সরকার (২৫)  নামে এক গৃহবধু আত্মহত্যা করেছে। বার আউলিয়া বত্তারপাড়া এলাকায় বত্তার বাড়ির আবুল কাসেমের ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলায় এঘটনা ঘটে।
পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। চন্দনা রানী সরকারের স্বামী শ্রী জয় কুমার সরকার। সে বার আউলিয়া এলাকায় আর এফ এল একটি গোডাউনে টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত আছে। তারা স্বামী স্ত্রী গত শনিবার (৩ আগষ্ট) উক্ত এলাকায় ভাড়া বাসায় উঠে। তাদের বাড়ি বগুড়া জেলার শেরপুর থানার চকখানপুর গ্রামে।
জানা যায়, সকালে চন্দনার স্বামী অফিসের উদ্দ্যেশে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। বেলা ১১ টার দিকে ফোন করে স্বামীকে ভাত খেতে আসতে বলে। জয় কুমার দুপুর দেড়টার সময় ঘরে এসে দেখেন দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। এসময় জোড়ে ধাক্কা দিয়ে দরজা খোলে দেখতে পান তার স্ত্রী সিলিং ফ্যানের সাথে উড়না পেঁছিয়ে ঝুলে আছে। জীবিত আছে ভেবে সে দেহটি মাটিতে নামিয়ে আনে। পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য নাছির উদ্দিনকে জানালে তিনি বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই জুলফিকার হোসেন ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জয় কুমারকে আটক করেছে। এদিকে চন্দনা রানী সরকার গলায় ফাসঁ দেওয়ার আগে স্বামীর সাথে অভিমান করে একটি চিরকুট লিখে যায়।
এতে তিনি বলেন, “তোমার পরিবার আর সংসার নিয়ে সুখে থাকো, আমি চলে গেলাম, জীবনে ছোট্ট একটি ভুলের জন্য জীবনটাই বিসর্জন দিলাম, আর ভুলটা হলো ভালোবেসে তোমাকে বিয়ে করা। আমাকে বজরাপুর পাটিয়ে দিও, আমার লাশ ছোঁয়ার কোন অধিকার তোমাদের নেই”।
পুলিশ চিরকুটটি জব্দ করেছে।
এ ব্যাপারে স্বামী জয় কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতরাতে (মঙ্গলবার) চন্দনার ফেইসবুকে তার এক কলেজ বন্ধু ভাইবা পরিক্ষা কেন দাওনি জানতে চাই, লিখাটি দেখে আমি আমার স্ত্রীকে প্রশ্ন করি “তুমিতো আমাকে বলেছো ভাইবা পরিক্ষা দিয়েছো, তুমি পরিক্ষা না দিয়ে আমার সাথে মিথ্যা কেন বললে? এই নিয়ে রাতে দুইজনের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। আবার ঠিক হয়ে যায়।
সকালে আমি অফিসে যাওয়ার পর আমাকে ফোনও করে। এখন কেন সে আত্মহত্যা করেছে তা বুঝতে পারছিনা। চন্দনা রানী সরকার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া আকবর আলী কলেজের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী ছিলেন।