আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০১৮

আপডেট:

সুজন পারভেজ,(ফরিদপুর প্রতিনিধি):ফরিদপুর সদর-৩ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লড়াই বেশ জমে উঠেছে।আর এ আসনে দুই হেভিওয়েট ক্ষমতাসীন দলের ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।সম্পর্কে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই এবং সরকারের এলজিইডি মন্ত্রী। অপরদিকে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। সম্পর্কে তারা মামা-ভাগিনা। বরাবরই ফরিদপুরের ফরিদপুর সদরের গুরুত্বপুর্ন এ আসনটি বিএনপির কব্জায় থাকে। বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ
ফরিদপুর-৩ আসনটি বরাবরই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ফাঁসিতে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আলী আহসান মুজাহিদের কারণে ছন্দপতন ঘটে। সেবার ২০ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় আলী আহসান মুজাহিদকে। আর আওয়ামী লীগ থেকে যথারীতি নির্বাচন করেন ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিএনপির চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী মাঠে লড়াই করে। শেষ পর্যন্ত বিএনপির ঘাঁটিতে আঘাত হেনে বিপুল ভোটে জয়ী হন ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি নির্বাচিত হয়ে বিপুল উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে বিএনপির ভোট ব্যাংক তছনছ করে দেন। উন্নয়ন কর্মকান্ডে শরিক হতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা যোগদান করেন আওয়ামী লীগের পতাকা তলে। সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠে আওয়ামী লীগ আর দুর্বল হয়ে পড়ে বিএনপি।
ইন্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের একক নেতৃত্বের কারনে ফরিদপুর ৩ আসনে বিএনপি বহু ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইন্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন পুনরায় সংসদ সদস্য হলে ফরিদপুরবাসীর উন্নয়নে তিনি বৃহৎ ভূমিকা পালন করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে ইন্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন একক প্রার্থী। দলের অন্য কোন নেতা এ আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেননি।অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন সাবেক স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ।
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই দলের এ দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই জমজমাট হয়ে উঠেছে। স্ব স্ব দলের নেতা-কর্মীরা হন্যে হয়ে ভোটারদের কাছে ছুটছেন এই দুই ভিআইপি প্রার্থীর জন্য।সম্পর্কে মামা ভাগিনার মধ্যে লড়াইয়ের শেষ তৃপ্তির হাসিটা কে হাসে সেটাই এখন দেখার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে দুই প্রার্থীই জয়ের ব্যাপারে খুব আশাবাদী সেটাই ব্যাক্ত করেছেন