২২, এপ্রিল, ২০২১, বৃহস্পতিবার | | ১০ রমজান ১৪৪২

ডোমারে মুক্তা চাষ শিক্ষক আল মামুন

আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০১৯

  • Facebook Share
ডোমারে মুক্তা চাষ শিক্ষক আল মামুন


ডোমার(নীলফামারী)প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমারে মুক্তা চাষ করে সফল হয়েছেন উদ্যোক্তা সেলিম আল মামুন নামের এক স্কুল শিক্ষক।

ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের জামিরবাড়ী চাকধাপাড়া গ্রামের অমিজ উদ্দিনের ছেলে আঠিয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম আল মামুন বাবু বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনষ্টিটিউট ময়মনসিংহ থেকে ৪ দফায় প্রশিক্ষন নিয়ে বাড়ীর পাশে দুটি পুকুরে ঝিনুকে মুক্তা চাষ শুরু করেন।তিনি এলাকার জেলেদের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গা থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করেন। ঝিনুক গুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে পুকুরে ছেড়ে দেয়া হয়। সেখানেই প্রাকৃতিক নিয়মেই তৈরী হয় মুক্তা।

এ ব্যাপারে শিক্ষক সেলিম আল মামুনের স্ত্রী রেজওয়ানা আক্তার বন্যা জানান,এ কাজে প্রচুর শ্রম দিতে হয়। ঝিনুক গুলোকে প্রক্রিয়াজাত করনে পরিবারের সবাই কাজ করে থাকি। আমার স্বামীর পাশাপাশি মেয়ে শামিমা শাম্মি বৈশাখী, সুমাইয়া আফরোজ বর্ষা,ছেলে রিজওয়ান আল মাহফুজ রহিত,আমার শশুর অমিজ উদ্দিন এবং আমার জা ফাতেমা আক্তার ফেন্সি প্রক্রিয়াজাত করনে সহযোগীতা করে থাকেন। মোট ২৫ হাজার ঝিনুক সংগ্রহ করি। এর মধ্যে ২হাজার ৭শত ঝিনুক অপারেশন করা হয়।ঝিনুকগুলোকে প্রথমে পরিস্কার করে এক ঘন্টা পর অপারেশন করে ঝিনুকের ভেতরে ইমেজ ঢুকিয়ে সেলাই করে জালের ঝুড়ির মধ্যে রাখা হয়। লম্বা ঝুড়িতে ১২টি এবং গোল ঝুড়িতে ৪টি করে ঝিনুক পুকুরে রাখা হয়। ২১দিন পর ঝিনুকগুলো তুলে পুকুরে উন্মুক্ত করা হয়। ৮থেকে ৯মাস পর সেখান থেকে মুক্তা পাওয়া যায়। ঝিনুক থেকে তিন প্রকার মুক্তা চাষ করা যায়। ইমেজ মুক্তা তৈরী হতে সময় লাগে ৮থেকে ৯মাস, রাইজ মুক্তা তৈরী হতে সময় লাগে ২৪থেকে ৩৬মাস এবং নিউক্লি মুক্তা তৈরী হতে সময় লাগে ১৮থেকে ২৪মাস।এ যাবত ওই প্রকল্পে তিনি দেড় থেকে দু লাখ টাকা ব্যয় করেছেন।

শিক্ষক সেলিম আল মামুন বলেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনষ্টিটিউট থেকে জানানো হয়, মুক্তাগুলোর গুনগত মান ভালো হলে একটি মুক্তার মূল্য ৫হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনষ্টিটিউট আমার উৎপাদিত মুক্তাগুলো বিক্রি করতে সহযোগীতা করবেন। এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছাঃ শারমিন আকতার জানান, ঝিনুকে মুক্তাচাষ প্রকল্পটি পরিক্ষামূলক ভাবে চলছে। এখনো মাঠ পর্যায়ে এ প্রকল্প চালু হয়নী।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনষ্টিটিউট ময়মনসিংহ এর প্রকল্প পরিচালক মহসেনা বেগম তনু জানান,গোলাকার মুক্তার বাজার বাংলাদেশে রয়েছে। বিভিন্ন জুয়েলারীতে অলংকার তৈরীতে ব্যবহার করা হয়। ইমেজ মুক্তার বাজার পার্শবর্তী দেশে রয়েছে। আমাদের দেশে একেবারে নতুন। দেশে এখনো বাজার তৈরী হয়নী। আমাদের দেশে বাজার তৈরী করতে হবে।আমরা তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছি,ইমেজের ডিজাইন যেন সুন্দর হয়। এ গুলোকে বর্তমানে বিভিন্ন জুয়েলারী দোকানে বিক্রি করতে হবে। বর্তমানে অলংকার তৈরীতে মুক্তার ব্যবহার বাড়ছে।এই প্রকল্পটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। আমরা এর বাজার তৈরীতে দেশে এবং বিদেশে অনেকের সাথে কথা বলেছি। তারা সরজমিনে গিয়ে উৎপাদিত মুক্তা দেখে উদ্যোক্তার সাথে কথা বলে মুক্তা কিনতে প্রয়োজনিও ব্যবস্থা নেবেন।