২৪, আগস্ট, ২০২০, সোমবার | | ৫ মুহররম ১৪৪২

ঠাকুরগাঁওয়ে রাস্তার কাজে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরায় সাংবাদিক হেনস্তা

আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০১৯

  • Facebook Share
ঠাকুরগাঁওয়ে রাস্তার কাজে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরায় সাংবাদিক হেনস্তা


ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে রাস্তা সংস্কার কাজের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরতে ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও ধারণ করছিলেন সাংবাদিক ফারুক হোসেন। ঠিক এমন সময় ক্যামেরা আটকে চিত্র ধারণে বাধা প্রদান করেন ও সাংবাদিক ফারুক হোসেনকে ধমকের স্বরে কথা বলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী রায়হান আলী।

মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল থেকে হরিপুর মহাসড়কের বলিদ্বারা নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

চিত্র তুলতে বাধার শিকার সাংবাদিক ফারুক হোসেন দেশের বেসরকারি মোহনা টেলিভিশনের উপজেলা প্রতিনিধি এবং রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভাপতি। অভিযুক্ত প্রকৌশলী রায়হান আলী বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে রাণীশংকৈল উপজেলায় কর্মরত আছেন।

সাংবাদিক ফারুক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার রাণীশংকৈল থেকে হরিপুর মহাসড়ক সংস্কার কাজের কার্পেটিংয়ের কাজ চলছিল। এ সময় কার্পেটিংয়ে নিম্নমানের এবং বড় বড় পাথর দিয়ে কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে বলে আমার মুঠোফোনে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

তিনি আরও বলেন, মোবাইলে অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে উপ সহকারী প্রকৌশলী রায়হান আলীর সামনেই নিম্নমানের পাথর ও বড় বড় পাথর দিয়ে কার্পেটিং চলছে এবং ওপরে নিয়মানুযায়ী পাথর দিয়ে রোলার দিয়ে ফিনিশিং দিচ্ছে। যদিও বড় ছোট পাথরের মিশ্রণে এবং রোলারে তা সমান না হয়ে ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এমন অনিয়মের চিত্র ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও ধারণ করতে গেলে ক্যামেরা আটকে ধরেন ওই প্রকৌশলী এবং ধমকের স্বরে আমার সাথে কথা বলেন।

সাংবাদিক ফারুককে হেনস্তা করা ও সড়ক সংস্কার কাজের ঘটনাটি জানার পরে কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক বিস্তারিত তথ্য জানতে চাই । এ সময় তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশসহ সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী রায়হান আলী।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মোজাহার এন্টারপ্রাইজ নামক একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রাণীশংকৈল জিরো পয়েন্ট থেকে হরিপুর উপজেলার জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মোট আটত্রিশ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণসহ সংস্কার করার চুক্তি করেছেন। তারই কাজ চলছিল আজ।

এ বিষয়ে প্রকৌশলী রায়হান আলীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, রাস্তার কাজ যেদিকে সমাপ্ত হয়েছে সেদিকে উনি (সাংবাদিককে) ছবি না তুলে চলমান রাস্তার কাজের ছবি ধারণ করছিলেন। আমি ক্যামেরা ধরিনি। শুধু উনাকে (সাংবাদিককে) বলেছি যেদিকে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ওই দিকের ছবি ধারণ করতে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস হলো। কাজে কোনো অনিয়ম করছি না আমরা। তাছাড়া আমি সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করে যাচ্ছি।

ঠাকুরগাঁও সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মুনসুরুল আজিজ বলেন, সাংবাদিকের ক্যামেরা আটকে ধরার ক্ষমতা কারো নেই। আর যদি রাস্তা সম্পর্কিত কোনো তথ্যের প্রয়োজন হয়। আপনি জেলা অফিস থেকে নিতে পারবেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কে এম কামরুজ্জামান সেলিম জানান, বিষটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম শাওনসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা।

তারা জানান, উপ সহকারী প্রকৌশলীকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা না চাইলে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেন তারা।