২২, আগস্ট, ২০২০, শনিবার | | ৩ মুহররম ১৪৪২

বগুড়ায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

আপডেট: নভেম্বর ৫, ২০১৯

  • Facebook Share
বগুড়ায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

বগুড়া প্রতিনিধি:

বগুড়ার সদরের শেখেরকোলা ইউনিয়নে যৌতুক লোভী স্বামী যৌতুকের দাবিকৃত টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ বাথরুমের তীরের সাথে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় বগুড়ার সদর থানা পুলিশ উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের বালাকৈগাড়ি গ্রামে পপি বেগম (২২) নামের এক গৃহবধ‚র ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে। পপির পরিবারের দাবি তাঁর স্বামী যৌতুকের দাবিতে হত্যার পর মরদেহ বাথরুমে ঝুলিয়ে রেখেছেন।

নিহতের পারিবার ও স্থানীয় বাসিন্দা স‚ত্র জানায়, ৬ বছর প‚র্বে ঠেঙ্গামারা চাঁদপুর এলাকার সরোয়ার সরদারের মেয়ে পপির সাথে সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের বালাকৈগাড়ি গ্রামের লুৎফর রহমানের পুত্র রিপনের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী রিপন যৌতুকের দাবিতে কারণে অকারণে স্ত্রী পপিকে মারধর করতো। এক সময় স্ত্রী পপি স্বামীর দাবিকৃত যৌতুকের সমস্ত টাকা পরিশোধ করলেও একটু পান থেকে চুন খোসলেই আবার স্বামী স্ত্রীর বিবাদ শুরু হয়। এর একপর্যায়ে পপির পরিবার স্বামী রিপনের নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে মেয়ে পপিকে বাড়িতে নিয়ে রিপনকে ডিভোর্স দেয়। এরপর রিপন পপির সাথে আবার যোগাযোগ করে। পপিকে বিভিন্ন কৌশলে ফের বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সংসার জিবনে তাদের রিপা (৪) ও রাজিয়া ৯ মাসের ২টি কন্যা সন্তান রয়েছে। সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে পপি বিয়েতে রাজি হয়। এই বিয়েতে রিপন আবারও ৫০হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় ঝগড়া লেগে থাকত। এতে পপির পরিবার কখনোই তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করতেন না। এরই ধারাবিকতায় মঙ্গলবার সকালে বাথরুমে পপির ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফেরদৌস হোসেন কে জানালে তিনি তাৎক্ষণিক সদর থানা পুলিশকে অবগত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহতের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) মর্গে পাঠায়। এ বিষয়ে তদন্তকর্মকর্তা এসআই সোহেলের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না।