আপডেট: নভেম্বর ১৭, ২০১৯

আপডেট:

তারিকুল ইসলাম জুয়েল, কাশিমপুরঃ সিডর, বন্যা, ও ঝড়ের পর দূর্যোগের আরেক নাম ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের প্রধান রাস্তা ” কাশিমপুর-শ্রীপুর রোড”।
গাজীপুর সিটির ৪নং ওয়ার্ড ও ৫নং ওয়ার্ডের শৈলডুবিতে বসবাসরত ১০০% মানুষকেই কোন না কোন কাজের জন্য কাশিমপুর-শ্রীপুর রোড় দিয়েই যেতে হয়। উঁচু নিঁচু, ছোট বড় গর্তে, এলোমেলো ইট ফেলানো, পানিতে ডুবে থেকে এই প্রধান রোডটি যেমন ভয়ংকর হয়ে উঠছে তেমনি ৪নং ও ৫নং ওয়ার্ডের প্রবেশ পথগুলোও বেহাল। বাহির থেকে নতুন কোন লোক এলে গাজীপুর সিটিকে হাস্যকর সিটি বলেই মনে করে তারা। প্রতিনিয়ত অভিশাপ দিয়ে যায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
প্রতিদিন হাজারো মানুষের পদচারনায় মুখরিত থাকে এই রাস্তাটি। অথচ গাজীপুর সিটি হওয়ার পর থেকে পাঁচ বছর ধরে আজ অবধি এই রাস্তার বেহাল দশা। গাঁয়ে কাঁদা মাখাঁ, অটো- রিক্সা উল্টে যাওয়াসহ কত ভোগান্তি, কত হয়রানি, চাঁপাকষ্ট আর শত অভিযোগ বুকে নিয়ে হাজারো মানুষের পথ চলা।
গার্মেন্টসের গাড়ীগুলো প্রায়ই ফেঁসে যাচ্ছে রাস্তার মাঝে, তখনি ইট, পাথড় এলোমেলো ভাবে ফেলে পার হচ্ছে তারা। আর বিঘ্ন ঘটাচ্ছে সাধারণ মানুষের চলাচলের। চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রিক্সা, অটো, ভ্যান, মোটরসাইকেল সহ সাধারন যাত্রীদের। একটু বৃষ্টি হলেই দীর্ঘদিন রাস্তায় পানি জমে থাকে। তখন বোঝার উপায় থাকেনা কোথায় উঁচু, কোথায় নিচুঁ, কোথায় বড় নাকি ছোট গর্ত, নাকি এলোমেলো ইটের আস্তানা! এই রোডের যানবাহনগুলোকে তখন অনুমানের উপরই চলতে হয়। আর বিপত্তি ঘটে তখনই! রাস্তার কিছু অংশও খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে সমতল। এই রাস্তার ধারেই ১১/১২ টি স্কুল- কলেজের কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী। স্কয়ার টেক্সটাইল, ডিবিএল গ্রুপ, মন্ডলগ্রুপ, ঢাকা ইপিজেডসহ ছোট বড় আরো ৫/৭টি গার্মেন্টস ফ্যক্টরীর হাজার হাজার শ্রমিক ও অন্যান্য পেশার লোকজনের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম কাশিমপুর-শ্রীপুরের বেহাল রাস্তাটি। এসব স্কুল কলেজের কোমলমতি ছাত্রছাত্রী, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর শ্রমজীবি ভাই-বোনেরা এই ভয়ংকর মৃত্যুর ফাঁদ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছে । কেউ পিছলে পড়ে গিয়ে আহত কিংবা যানবাহনের ছিটাঁনো কাঁদায় কাপড় নষ্ট হয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সেদিনকার স্কুল বা অফিস। রিক্সার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভেঙ্গে পড়ছে প্রতিনিয়ত। আহত হচ্ছে শিশু, নারী, বৃদ্ধ সহ অসহায় যাত্রীরা, আর গরীব খেটে খাওয়া রিক্সাওয়ালাদের আয়ের সিংহভাগই চলে যাচ্ছে রিক্সা মেরামত করতে।
মোটরসাইকেল, রিক্সা কিংবা পায়ে হেঁটে কোনটারই উপায় নেই সুস্থভাবে মার্কেট কিংবা বাড়ী ফেরার।গর্ভবতী মহিলা বা গুরুতর অসুস্থ রোগীরা এইসব রাস্তাদিয়ে হাসপাতালও যেতে চায় না। ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের অঘোষিত রাজধানী সুলতান মার্কেটের ঔষধ ব্যবসায়ী মোঃ রাসেল মিয়া বলেন, অসুস্থ অবস্থায় এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া মানেই মৃত্যুর দিকে আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। স্টেশনারী ব্যবসায়ী সোহাগ মিয়া বলেন, আমার চোখের সামনেই অটো, রিক্সা উল্টে গিয়ে অনেকেই আহত হয়েছে। রিক্সা থেকে পড়ে যাওয়া এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। বিশেষ করে শিশুদের এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া মানেই জীবন হাতে নিয়া যাওয়া। ডায়াবেটিস, এইডস এর মত নিরব আরেকটি ঘাতক হলো কাশিমপুর-শ্রীপুর রোড সহ এর আশপাশের প্রবেশ পথগুলো। প্রতিদিন কেউ না কেউ ওইসব রোগে যেমন মারা যাচ্ছে, তেমনি প্রতিদিন এই রাস্তার যাত্রীরা কেউ না কেউ আহত হচ্ছে। এটা চিরন্তনবানীর মতই হয়ে গেছে।
এই রাস্তাটির জন্য অসহায় কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী, শ্রমজীবি, হাট- বাজারগামী হাজারো মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। ৪নং ওয়ার্ডবাসী রাস্তা সংস্কার করার দাবী জানিয়ে জানিয়ে আজ তারা ক্লান্ত।
নতুন মেয়র দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আশায় বুক বেধেঁ ছিল এই রাস্তার সাধারণ যাত্রীরা। কিন্তু দশ মাস পেরিয়ে গেলেও অবস্থার কোন উন্নতি হচ্ছেই না। রবং অবনতির দিকে যাচ্ছে।
স্বপ্ন দেখা ব্যর্থ হয়ে মেনে নিয়েছে ভোগান্তি মাখা ভাগ্যকে। অসহায় নাগরিকরা জীবিকার তাগিদে গজবের এই নগরীতে নিজেকে প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিন বা সিরিয়াবাসীর মতই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পথ চলা ছাড়া আর কোন উপায় দেখছে না ।।