১০, মে, ২০২১, সোমবার | | ২৮ রমজান ১৪৪২

সেন্টমার্টিন পরিষ্কার-সচেতনতায় নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী

আপডেট: ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯

সেন্টমার্টিন পরিষ্কার-সচেতনতায় নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী

[মেহেদি হাসান রনি,(ঢাকা)]:গল্পটা একদল সচেতন শিক্ষার্থীদের নিয়ে। যারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভ্রমণে গিয়ে অন্য সবার মতো স্পটে ময়লা আবর্জনা যত্রতত্র তো ফেলেনী বরং তারা এক নতুন উদ্যোগ নিয়েছিলো।
ভ্রমণ স্পটের বর্ণণা এবং করুণ অবস্থাঃকক্সবাজার থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে টেকনাফ উপজেলা সদর। সেখানে সেন্ট মার্টিন ঘাট থেকে আপনি বেসরকারি কোম্পানির জাহাজ বা ট্রলার ধরবেন। সাগরপথে দক্ষিণে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ধরে ৩৮ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আপনি নামবেন সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পূর্ব দিকের ঘাটে।
দৈর্ঘ্য চার কিলোমিটার আর প্রস্থে দুই কিলোমিটার, ছোট্ট দ্বীপ সেন্টমার্টিনের সবখানেই রকমারি আবর্জনা-উচ্ছিষ্ট, রান্নার বর্জ্য, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল, টিনের ক্যান, আরো কত কী! এমনকি সৈকতেও আবর্জনা আর পচা গন্ধ। দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপটি আসলে একটি পাথুরে ভূখণ্ড। দ্বীপটি হাজার বছরের পুরনো। এর মধ্যে বিপুল প্রবাল ও সামুদ্রিক ঘাস এসে জমা হয়েছে। পৃথিবীর খুব কম দ্বীপে এ ধরনের বৈশিষ্ট্য আছে। যেখানে সামুদ্রিক ঘাস ঘন, সেখানে নানা ধরনের মাছ আছে। নানা ধরনের রঙিন মাছ ও ঘোড়ামুখো ‘ঘোড়ামাছ’ এ দ্বীপে রয়েছে। তবে এখন এই দ্বীপে কাক আর কুকুরের ছড়াছড়ি। মানুষের কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে এসব বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে দূষণ। হোটেল-মোটেলের কোনোটিরই নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। পর্যটকদের উচ্ছিষ্ট, পানির বোতল, এমনকি মলমূত্র দ্বীপের যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। এভাবে দ্বীপটি একটি ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে।
১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছিল সরকার। অর্থাৎ, এ দ্বীপের পানি, মাটি, বায়ু বা প্রাণীর ক্ষতি করেন এমন কোনো কাজই করা যাবে না। কিন্তু দ্বীপে পর্যটন বা লোকবসতির বিস্তার সে কথা মনে রাখছে না।
ছাউনি দেওয়া ভ্যান অল্প রাস্তার জন্যও বিরাট ভাড়া হাঁকবে। হোটেলে উঠতে যাবেন! গড়পড়তা হোটেলেরও ভাড়া শুনে আঁতকে উঠতে পারেন। ঘর যদিও-বা পেলেন, তেমন সাফসুতরো না। সেবাও ভালো না।ঘাটে নামার পর থেকে আপনার নাকে লেগে থাকবে একটা বোটকা গন্ধ। লম্বায় ৪ কিলোমিটার আর প্রস্থে ২ কিলোমিটার এই ছোট্ট দ্বীপে যেখানে যাবেন, সব ছাপিয়ে চোখে পড়বে রকমারি আবর্জনা-উচ্ছিষ্ট, রান্নার বর্জ্য, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল, টিনের ক্যান, আরও কত কী!এমনকি দূরের সৈকতেও আবর্জনা আর পচা গন্ধ আপনার পিছু ছাড়বে না। দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ এই দ্বীপে কাক আর কুকুরের ছড়াছড়ি। দ্বীপে মানুষের কর্মকাণ্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাক-কুকুর বাড়ছে। বাড়ছে দূষণ।ডিমের আকারের এ দ্বীপ হাজার বছরের বেশি পুরোনো। সরকার ১৯৯৯ সালে দ্বীপটিকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে। অর্থাৎ, এ দ্বীপের পানি, মাটি, বায়ু বা প্রাণীর ক্ষতি করে, এমন কোনো কাজ এখানে করা যাবে না। কিন্তু এ দ্বীপে পর্যটন বা লোকবসতির বিস্তার সে কথা মাথায় রাখছে না।
সেন্ট মার্টিনকে বাঁচানোর জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ডিসেম্বরে একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা করেছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, গত মার্চ থেকে পর্যটক কম যাবে। এবং কেউ রাতে থাকবে না। ক্রমে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে পর্যটকের সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হবে। তবে সিদ্ধান্তটি ধোপে টেকেনি। দ্বীপজুড়ে দিনে-রাতে মানুষের বিচরণ চোখে পড়ে।
একদল তরুণ শিক্ষার্থী, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের কম্পিউটার ক্লাব (NUBCC) এর উদ্যোগে ১১-১৩ তারিখ একদল তরুণ সেন্টমার্টিনে ট্যুরে যায় ৪ জন শিক্ষকসহ।তাদের ট্যুরের বিশেষত্ব ছিলো তারা সেন্টমার্টিন দুষণ রোধে সেখানেই এক মানববন্ধন করে এবং সেন্টমার্টিনের বিভিন্ন প্রবাল দ্বীপে পরিষ্কার অভিযান পরিচালনা করে।তারা প্লাস্টিকের দুষণ রোধে এই কার্যক্রম চালায়।Think Clean,Save the St.Martinএই স্লোগানকে ধারণ করে তারা সেখানে বিভিন্ন ময়লা,আবর্জনা, প্লাস্টিকের প্যাকেট,প্লাস্টিকের বোতল,প্লাস্টিকের কৌটা সহ বিভিন্ন ময়লা পরিষ্কার করে তা নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলে। বিভিন্ন সচেতনতামূলক ব্যানারে তারা তাদের সচেতনতামুলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে।
নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক জনাব শামসুদ্দোহা আলম মানববন্ধনে পরিবেশ সচেতনা নিয়ে বলেন,আমরা সবাই ভ্রমণে এসে প্রাকৃতিক পরিবেশকে নষ্ট করছি।যে প্লাস্টিক হাজার বছরেও পঁচে না, সেই প্লাস্টিকের বর্জ্য আমরা সেন্টমার্টিনে ফেলছি।যার ফলস্বরূপ সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যের যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি প্রবালদ্বীপের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।সকল টুরিস্টদের সচেতন হতে হবে এবং সেন্টমার্টিন,সমুদ্র তথা পরিবেশকে পরিষ্কার রাখতে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে।
নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন বলেন,আমরা অন্য সবার থেকে একটু আলাদাভাবে আমাদের ট্যুরের প্লান করেছি।আমরা তরুণরা যদি সচেতন না হই আর অন্যদের সচেতন না করি তাহলে সমুদ্র দুষণের এই প্রতিযোগিতা চলমান থাকবে।একসময় আমরা আমাদের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলবো।তাই আমরা সবাইকে সচেতন করতে এই মানববন্ধন এবং পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করি।