১৪, মে, ২০২১, শুক্রবার | | ২ শাওয়াল ১৪৪২

কোরআন শিখানোর উদ্দেশ্যে মাদরাসা খুললেও চলছে রমরমা বানিজ্য

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০

কোরআন শিখানোর উদ্দেশ্যে মাদরাসা খুললেও চলছে রমরমা বানিজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি
চাঁদপুর হাইমচরে কোরআন শিখানোর উদ্দেশ্যে মাদরাসা খুললেও এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের অভিযোগ এখন সেখানে চলছে রমরমা ব্যবসা। অনিবার্য কারণে সময়মত বেতন পরিশোধ  করতে না পারলে কোরআন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে বাচ্চা নিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালক, মোহতামীম ও শিক্ষকবৃন্দ। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের এমন আচরণে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, হাইমচর আলগী বাজার পশু হাসপাতালের সামনে যোগ্য হাফেজে কোরআন তৈরির নিমিত্তে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠিত হয় দারুল কোরআন হাফিজিয়া মাদরাসা। এই মাদরাসায় ছাত্র ভর্তি ঠেকাতে নিজের বসবাসের জন্য নির্মাণ করা ভবনে হযরত ফাতেমা রা. মহিলা হাফিজিয়া মাদরাসা নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে ছাত্র ভর্তি শুরু করে। মহিলা হাফিজিয়া মাদরাসায় ছাত্র ভর্তি করানোর কারণে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সেখানে ভিন্ন একটি শাখা খুলে ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়। বর্তমানে তাদের প্রতিষ্ঠান ব্যবসামূখি হয়ে পড়ায় গরীব, দুঃখী, মেহনতী ও অসহায় মানুষের প্রতি চলছে অবিচার। নির্দিষ্ট সময়ে টাকা দিতে না পারলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন কর্তৃপক্ষ।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মাদরাসা ব্যবসাটি দোকানের ব্যবসার চেয়ে লাভজনক বিধায় দোকান বন্ধ রেখে মাদরাসার পেছনে সময় দিচ্ছেন বেশী। নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টাকা হাইমচর কারীমিয়া ইসলামিয়া মাদরাসায় কন্ট্রাকে লাগিয়ে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা নিয়ে আসছেন তিনি।
হাইমচর সাবু মাষ্টার মোড়ের স্থায়ী বাসিন্দা হাফেজ মোঃ নোমান জানান, তার ছেলেকে এ মাদরাসায় ভর্তি করানোর সময় অনেক সুযোগ সুবিধার কথা বললেও তার কিঞ্চিৎ পরিমাণও পাননি তিনি। পরিশেষে টাকার সমস্যার কারণে সময়মত বেতন পরিশোধ করতে পারেনি বলে তার ছেলেকে মাদরাসা থেকে বের করে দেন কর্তৃপক্ষ।
একই কারনে হাইমচরের ব্যবসায়ী ইউসুফ আগামী ২১ তারিখের মধ্যে তার ছেলেকে মাদরাসা থেকে নিয়ে যাবেন বলে অভিযোগ করেন।
 ধর্মকে পুঁজি করে আনাচকানাচে গড়ে ওঠা মাদরাসা গুলোর পরিচালক গন, মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে, গলায় পাড়া দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। এমতাবস্থায় এলাকাবাসী ও অভিভাবকগন প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।