৩, মার্চ, ২০২১, বুধবার | | ১৯ রজব ১৪৪২

পঞ্চগড়ে কিশোরী কন্যারত্নদের মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ শুরু

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১

  • Facebook Share
পঞ্চগড়ে কিশোরী কন্যারত্নদের মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ শুরু

মুজিববর্ষে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোগ কন্যারত্ন। ‘সুস্থ্য কিশোরী, নিরাপদ আগামী’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে স্থানীয় কিশোরীদের বাল্যবিয়ের কুফল ও প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষা দেয়া হচ্ছে। এবার এসবের পাশাপাশি যোগ হলো আত্মরক্ষার প্রাথমিক কৌশল মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বোদা উপজেলার পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে দুই দিনব্যাপী মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে উপজেলার ১০০ কিশোরী অংশ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রশিক্ষক গ্রান্ড মাস্টার ম্যাক ইউরি বজ্রমুণি ও ক্যাপ্টেন (অব.) শাহনাজ জাহান এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছেন। প্রাথমিকভাবে জেলার পাঁচ উপজেলার ৫০০ কিশোরীকে আত্মরক্ষা ও ক্ষমতায়নে ব্যুত্থান মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক ড. সাবিনা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ফারুক আলম টবি, বোদা পৌর মেয়র ওয়াহিদুজ্জামান সুজা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোলায়মান আলী ও বোদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, কন্যারত্ন এখন পঞ্চগড় জেলার ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে। বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে এসব কন্যারত্ন জেলা প্রশাসনের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিজেরা যেমন সচেতন হচ্ছে, অন্যদেরও সচেতন করছে। মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ কন্যারত্নদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং তাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়ক হবে।

বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও বাল্যবিয়ের কুফল নিয়ে জুম অ্যাপের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনলাইনে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কন্যারত্নদের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন কর্নার থেকে নারী বিশেষজ্ঞ, প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা, স্পিকার, মন্ত্রী, সচিব, সাংবাদিক, শিক্ষক, এনজিও ব্যক্তিত্ব, সফল মা, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতারা সংযুক্ত হয়ে তাদের মুল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেন। জেলা প্রশাসক ড. সাবিনা ইয়াসমিনের পক্ষে মুজিববর্ষ উপলক্ষে এই বিশেষ উদ্যোগকে ‘কন্যারত্ন’ হিসেবে নামকরণ করা হয়।

জেলা প্রশাসক ড. সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বাল্যবিয়ে রোধে শিক্ষা সহায়ক উপকরণ হিসেবে জেলার স্কুলগামী এক হাজার ৭০০ কিশোরীকে একটি করে বাইসাইকেল দেয়া হয়েছে। স্কুলগামী কিশোরী কন্যাদের আরও বাইসাইকেল দেয়া হবে। কন্যারত্নরা জেলা প্রশাসনের বিশেষ দ্যুত (অ্যাম্বাসেডর) হিসেবে লেখাপড়ার পাশাপাশি বাল্যবিয়ের কুফল এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রত্যন্ত এলাকায় উঠান বৈঠক করবে। তিনি আরও জানান, নিজেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বৃদ্ধি করতে এসব কিশোরীদের মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’