আপডেট: মার্চ ১, ২০১৯

আপডেট:

শান্ত দেবনাথঃ বাঘারপাড়ার ধলগ্রাম স্লুইসগেটের অব্যবস্থাপনার কারণে চলতি বোরো আবাদে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান হুমকির মুখে। গেট খালাশি না থাকায় নদীতে জোয়ারে পানি ঠিকমত উঠছে না, আবার বর্ষাার অতিরিক্ত পানিও বের করা সম্ভব হচ্ছে না। গত দুই দিনের বর্ষায় বিল জলেশ্বরের প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে ডুবে আছে। দ্রুত পানি নিস্কাশন না হলে সবুজ লকলকে ধানের গাছ সবই পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষকরা। সরেজমিনে বিল জলেশ্বরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ জমির ধান পানির নীচে ডুবে আছে। মাত্র এক থেকে দেড় মাস বয়সের সবুজ লকলকে ধানের গাছ এখন বিবর্ণ হতে শুরু করছে। পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, তার দুই একর জমির ধান সম্পূর্ণ পানির নীচে ডুবে আছে। আগামী দুই একদিনের মধ্যে জমির পানি না সরলে সব ধানই পচে যাবে।একই গ্রামের কৃষক ইনামুল হক বলেছেন, বিল জলেশ্বরে ১৬টি খালের মুখ রয়েছে। যশোর সদরের লেবুতলা, ফতেপুর, ইছালি ইউনিয়নসহ বাঘারপাড়ার প্রায় ২০ গ্রামের মাঠের পানি এ বিল দিয়ে চিত্রা নদীতে পড়ে। আর তা ধলগ্রামের স্লুইসগেট দিয়ে বের হয়। স্লুইসগেট বন্ধ থাকলে বিল জলেশ্বরের পানি নিস্কাষন হওয়ার বিকল্প কোন পথ নেই। উপজেলা সদর সংলগ্ন দোহাকুলা গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেছেন, জোয়ারের পানি আটকিয়ে বোরো আবাদে নদীর পানি সেচ কাজে ব্যবহার হয়। ধলগ্রাম থেকে বিল জলেশ্বর পর্যন্ত প্রায় ২০টি এলএলপি রয়েছে। এর আওতায় প্রায় সাত থেকে আটশ একর জমিতে বোরো আবাদ হয়। গত পূর্নিমায় জোয়ার তুলে স্লুইসগেট বন্ধ রাখা হয়েছে। যে কারণে উজানের পানি বের হতে না পারায় জলেশ্বরসহ কয়েকটি বিলে জলাবদ্ধতার সৃষ্ঠি হয়েছে। তিনি আরো জানান, স্লুইসগেট নির্মান হওয়ার পর সেখানে একজন খালাশি নিযুক্ত ছিলো। সেই সময়মত গেট তুলতো আরা নামাতো। অনেক বছর ধরে গেট খালাশি না থাকায় এ অঞ্চলের কৃষকরা ভোগান্তি পোহাচ্ছে। গেট উঠানো আর নামোর ক্ষেত্রে ধলগ্রাম অঞ্চলের কৃষকদের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করে সেখানকার কৃষকরা। এ কারণে গেটের আধিপাত্য তাদের হাতে। অথচ উজানের ৩০ গ্রামের মানুষ এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন উন্নয়ন বোর্ডের (যশোর অঞ্চল) নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানিয়েছেন, গেট খালাশির পদ অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়েছে। বিভিন্নস্থানে উপকারভোগীদের নিয়ে একটি কমিটি আছে। তারাই গেট উঠানো নামানোর দায়িত্ব পালন করে। তবে কোন কমিটি সক্রিয় নেই। গেট যে এলাকায় অবস্থিত সে এলাকার সুবিধা বিবেচনা করে গেট উঠানো নামানো হয়। এতে অন্য এলাকা বিশেষ করে উজানের কৃষকদের সমস্যা হয়। একারণে নতুন করে আবার গেট খালাশির পদ সৃষ্টির প্রস্তাবনা হয়েছে। বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার জাহীদুল আলম জানিয়েছেন, আগামী তিনদিনে যদি পানি নিস্কাষন না হয় তবে বিল জলেশ্বরের অনেক জমির ধান ক্ষতিগ্রস্থ হবে।