১০, মে, ২০২১, সোমবার | | ২৮ রমজান ১৪৪২

সন্তানকে সুন্দর ও আগামীর স্বপ্ন দেখান , কামরুল হাসান

আপডেট: এপ্রিল ২০, ২০১৯

সন্তানকে সুন্দর ও আগামীর স্বপ্ন দেখান , কামরুল হাসান

মহিদুল আলম চঞ্চল গাজীপুর প্রতিনিধি

জীবনের একটা সময় এসে উপলব্ধির জায়গায় হোঁচট খেতে হচ্ছে। এক অভিবাবক ধরলেন, সন্তানদের অবক্ষয় রোধের ব্যাপারে আমরা নাকি সীমাহীন উদাসীন। বাস্তবতাও তা-ই। কারোর জেনো কোনো মাথা ব্যথা নেই। আমি বিভিন্ন সভাসমাবেশে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। বারবার বলেছি, আমাদের সন্তানদের বাঁচতে দিন। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচান। সন্তান শিক্ষিত হচ্ছে মানুষ হচ্ছে না। সন্তান দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছে অথচ দেশপ্রেমে ঘাটতি। সবাই দেখেও দায়সারা। ফলাফল নিজের চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছি। সন্তান বখে যাচ্ছে। যাও কিছু হচ্ছে দুখের বিষয় সে শিক্ষিত ছেলেটা আর মানুষ হয়ে ফিরছে না।

শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য যেমন উন্নত জাতি সৃষ্টি করা, তেমনি জাতির প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে দেশপ্রেম, নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ ও সর্বোপরি মানবপ্রেম থাকবে। সেজন্য সমাজের জন্য হলেও শিক্ষার চলমান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাঝে মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া উচিৎ। আর এই মূল্যবোধের শিক্ষা থেকে একজন শিক্ষার্থীর শৈশব বয়স থেকেই সঠিক সিদ্ধান্তই এক সময় তাকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের লক্ষ্য হলে আর যাই হোক, তা দিয়ে দেশের উন্নতি আশা করা যায় না। এ শিক্ষা যদি শুধু টাকা কামানোর মাধ্যম হয় , তাহলে শিক্ষার দরকার নেই তা অনায়েসে বলা যায়। শিক্ষা যদি মানুষকে আলোকিত না করে তাহলে সেটা কিসের শিক্ষা?

যে শিক্ষা মানুষের বুদ্ধির অর্গল খুলে দেয় না বা হৃদয় প্রসারিত করে না সেটা শিক্ষা নয়। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়লেও সে নৈতিক শিক্ষা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। জগৎকে বোঝা ও জানাই হলো শিক্ষা। আমরা সেই শিক্ষা চাই যা মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত হয়। একজন মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষই জনগণের কল্যাণে এগিয়ে আসতে দ্বিধাবোধ করে না। অথচ একজন মূল্যবোধহীন মানুষ চোখের সমানে সব ঘটে যাওয়া অন্যায় অবিচারগুলো অবনতমস্তকে মেনে নেয়। তাই সন্তানকে মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। শিক্ষা দিতে হবে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠার।

আমরা জানি, শিক্ষা ও নৈতিকতা মুদ্রার এপিঠ ওপিঠের মতো। মানবিক নৈতিকতা ছাড়া শিক্ষা কুশিক্ষার নামান্তর, যা মানুষকে পশুর চেয়েও নিম্নস্তরে নামিয়ে ফেলে। আর মানবিক নৈতিকতা পূর্ণ শিক্ষা মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত রাখে। শিক্ষার জন্য শিক্ষা মানুষকে মনুষ্যত্ব নিয়ে গড়ে উঠতে সহায়তা করে না। যে শিক্ষা মানুষের জীবনবোধের সঙ্গে নৈতিকতার সমন্বয় সাধন করে তাই নৈতিক শিক্ষা। নৈতিকতা ও মনুষ্যত্বের মাঝে রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। নৈতিকতার স্বরূপ প্রকাশিত হয় সততা, ন্যায়পরায়ণতা, আদর্শবাদী মনোভাব প্রভৃতি গুণের সমাবেশের মাধ্যমে। আমাদের মহৎ, সৎ ও সুন্দর জীবন–যাপনের জন্য নৈতিক শিক্ষা অপরিহার্য। মানুষের বড় সম্পদ হলো মূল্যবোধ। নৈতিক শিক্ষা নৈতিক মূল্যবোধের জন্ম দেয়। প্রকৃতিলব্ধ জ্ঞানের সাথে অর্জিত জ্ঞানের সুসমন্বয়ই নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের মূল ভিত্তি। মনুষ্যত্ব অর্জনের অন্যতম নিয়ামক হলো নৈতিক শিক্ষা। মানুষের জীবনের যাবতীয় কল্যাণকর, শুভবুদ্ধি ও শুভচিন্তা এবং তার বিপরীত বুদ্ধি ও চিন্তা বিচারের আপেক্ষিক মানদণ্ডই হলো নৈতিক মূল্যবোধ। নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের জীবন ব্যবস্থা ও জীবন পদ্ধতিকে সুন্দরভাবে, নির্মলভাবে পরিচালনার অনুসরণযোগ্য কিছু আচরণ। তাই আমাদের উচিৎ সন্তানের শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার বিষয়টি মাথায় রাখা। যেসকল কারণে সন্তানের নৈতিক অবক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে সে বিষয়ে তৎপর থাকতে হবে।

মানুষের আদিমতা ও হিংস্রতা সহজাত, সেরকম বুনো পরিবেশ পেলে মানুষ তার সভ্যতার লেবাস খুলে হিংস্র হয়ে ওঠে।” আমাদের সমাজের মানুষ নৈতিক শিক্ষার অভাবে নৈতিক মূল্যবোধের ব্যাপক অবক্ষয় শুরু হয়েছে। চারদিকে কেবল ঠকানোর প্রতিযোগিতা। অন্যায় করে কে কত বড় হতে পারে সেই প্রতিযোগিতায় উন্মাদ হয়ে ছুটছে সবাই। তাই এখনই এসবের লাগাম টেনে ধরা উচিৎ। ভাই আমি আপনি কে সেটা বড় কথা না। বড় কথা হলো আমরা আমাদের স্ব স্ব জায়গায় থেকে দেশের জন্য আমাদের সন্তানদের জন্য কতটুকু করছি বা কতটুকু করতে পেরেছি।

মিথ্যাচার, আদর্শহীনতা, উচ্ছৃঙ্খলতা, ঘুষ,জালিয়াতি, রাহাজানি, ধর্ষণ প্রভৃতি সমাজ বিরোধী কার্যকলাপে নিমজ্জিত মানুষের দ্বারা উন্নতির পরিবর্তে অধঃপতনই ঘটে। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় বড়দের কাছ থেকে ভালো কিছু শেখার যেমন আশা করা যায় না আবার ছোটরাও অনেক সময় ভালো কিছু গ্রহণ করতে নারাজ। ঘরে–বাইরে আজ মানুষের দৈন্যের চিত্র। দেখা যায় বড়রা শিক্ষা বলতে বোঝেন পরীক্ষা ও ‘এ’ প্লাস এবং জীবনের উন্নতি বলতে বোঝেন টাকা ও প্রতিপত্তি। ফলে শিক্ষার মধ্যে শিক্ষার্থীরা খুঁজে পায় না কোনো মহত্তর জীবনবোধ। যার ভয়াবহ পরিণাম আমরা দেখতে পাচ্ছি। ভাইরে এখনো সময় আছে, সন্তানকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। তাকে বুঝুন, তাকে বুঝান। এই সন্তানদেরকে সুন্দর ও আগামীর স্বপ্ন দেখান৷ বলেন, অন্যের জন্য না হলেও অন্তত নিজের জন্য মানুষ হতে। শিক্ষা দিন কিভাবে মানুষ হওয়া যায়। এবং মানুষ হয়ে সে শিক্ষা পরিবার সমাজ রাষ্ট্রের জন্য কাজ করা সকল নাগরিকের কর্তব্য।