১০, মে, ২০২১, সোমবার | | ২৮ রমজান ১৪৪২

কালিহাতীতে শিশু ধর্ষণ জরিমানার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০১৯

কালিহাতীতে শিশু ধর্ষণ জরিমানার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কালিহাতী(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ৩য় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৪০ হাজার টাকায় মিমাংসা করেছে সমাজপতিরা। সেই সাথে জরিমানার টাকাও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ওই সমাজপতিদের বিরুদ্ধে।ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী এলেঙ্গা পৌর এলাকার একটি মাদ্রাসায় ৩য় শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। আর ধর্ষক আনোয়ার হোসেন এলেঙ্গা হাই স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র। সে নেত্রকোনা মদনপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের মাহবুব আলমের ছেলে। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে এলেঙ্গাতে হোটেল ব্যবসার পরিচালনা করে আসছে।ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, আমি এলেঙ্গাতে বাসা ভাড়া নিয়ে একটি সেলুন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। বখাটে আনোয়ারের পরিবার আমাদের পাশের বাসার ভাড়াটিয়া ।গত ১২ এপ্রিল (শুক্রবার) সকালে আমার মেয়েকে আনোয়ার তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় মেয়ে চিৎকার করলে আমার স্ত্রী ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে থানায় মামলা করতে যাবো শুনে ধর্ষকের বাবা ও বড় ভাই স্থানীয় সমাজপতিদের জানালে তারা আমাকে মিমাংসায় বসতে বাধ্য করে। শালিসে ধর্ষণের জন্য ৪০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে সমাজপতিরা। পরে তারা আমাকে ২০হাজার টাকা দিলে আমি আপত্তি জানালে কৌশলে আমার স্ত্রীকে ২০হাজার টাকা দিয়ে আসে। পরে আমার কাছে শালিসের কাগজে স্বাক্ষর চায়। তবে আমি মিমাংসার কোন কাগজে স্বাক্ষর করিনি।

স্থানীয় সমাজপতি মশাজান গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল মিমাংসার কথা স্বীকার করে বলেন, ছেলে মেয়ে নাবালক হওয়ায় জালাল হাজী, নবাব আলী, দেলোয়ার হোসেন, মোহনসহ ১০-১২জন মিলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করি। এসময় ছেলে পক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিতে পারবেনা জানালে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরো বলেন, মেয়ের পরিবারকে ৪০ হাজার টাকাই দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ধর্ষক আনোয়ার হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আমার বাবা ও বড় ভাই মাতব্বরদের নিয়ে মিমাংসা করে দিয়েছে। এ বিষয়ে আমি আর কিছুই জানিনা।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আনোয়ারের বাবা মাহবুব হোসেন বলেন,ছোট একটি বিষয় নিয়ে স্থানীয় সমাজপতিরা আমার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে মিমাংসা করে দিয়েছে। মানসম্মানের কথা ভেবে আমি টাকাগুলো দিয়ে দিয়েছি।এবিষয়ে এলেঙ্গা পৌর সভার মেয়র নুর-এ-আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এবিষয়ে কেউ আমার কাছে কোন অভিযোগ করেনি। যদি কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে আসে বিষয়টি আমি দেখবো।এবিষয়ে কালিহাতী থানার ওসি মীর মোসারফ হোসেন বলেন,বিষয়টি আমার জানা নাই। যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।