১৩, আগস্ট, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

চানাচুর আলম,ডিস আলম থেকে এমপি প্রার্থী হিরো আলম

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৮

  • Facebook Share
চানাচুর আলম,ডিস আলম থেকে এমপি প্রার্থী হিরো আলম

 

নিজস্ব প্রতিনিধি :হিরো আলম কে? কাক খুঁজিচ্চেন? হিরো আলোমোক চিনি না। পরে চেহারার বর্ণনা দিয়ে মোবাইলে ছবি দেখালে বলে উঠলেন, ও এডা তো ডিশ আলম। উই আবার হিরো আলম হলো কদ্দিন। ওই..যে ওই বাড়িত থাকে। ডিশের ব্যবসা করে। কিছু বিটিছোল (মেয়ে) লিয়্যা মিউজিত ভিডিও বানায়। হামরা অবশ্য অল্ল্যা দেকি না। শুননু এমপির ভোটোত খাঁড়া হছে। কয়েকদিন ধরে পেপারোত লিউজ বারাচ্চে।

হিরো আলমের বাড়ি খুঁজতে গিয়ে ঠিক এভাবেই বর্ণনা দিলেন তার বাড়ি থেকে ৫শ গজ দূরে অবস্থিত ফার্নিচার দোকানের মালিক শহিদুল ইসলাম। দেখিয়ে দেয়া নির্দেশনা অনুসারে বাড়িতে গিয়ে দেখা মিলে তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক (সৎ বাবা), মা আশরাফুন বেগম, স্ত্রী সাবিহা আক্তার সুমি, বড় মেয়ে ২য় শ্রেণির ছাত্রী আলোমনি, মেজ মেয়ে ১ম শ্রেণির ছাত্রী আঁখি আলো এবং ৪ বছরের ছেলে আবির হোসেনের সঙ্গে।

কথা প্রসঙ্গে সহজ সরল মানুষ বাবা আব্দুর রাজ্জাক জানালেন, ওর বাবা আহম্মদ মারা গেলে আমি আশরাফুন বেগমকে বিয়ে করি। এরা তিন বোন এক ভাই। নিজের ছেলেমেয়ের মতোই তাদের মানুষ করেছি। মেয়েগুলোর বিয়ে হয়ে গেছে। আলমের ডিশের ব্যবসা রয়েছে।

সেই ব্যবসাটি মূলত তিনিই দেখাশুনা করেন। আলম ইচ্ছেমতো টাকা উড়ায়। মিউজিক ভিডিও বানানোর নামে রাতদিন পড়ে থাকে নানা জায়গায়। বাড়িতে বাবা-মা, স্ত্রী সন্তানদের কোনো খোঁজ রাখে না সে।

আপনার ছেলেতো অনেক বড় সেলিব্রিটি। ইউটিউবে তার ভিডিওর ভিউয়ার্স সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ। আর তার আইডি সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ৮৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এবার জাতীয় সংসদের নির্বাচনে বগুড়া-৪ কাহালু নন্দীগ্রাম আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন তুলেছেন।

জবারে হিরো আলমের বাবা বললেন, কিসের সেলিব্রিটি, ভাইরাল? এগুলা কি ? হামরা তো অতো কিছু বুঝি না। বাড়ির, ছোলপোলের খোঁজ লেয় না, আবার এমপির ভোট করিচ্চে। অক কাহালু নন্দীগ্রামের কে চেনে? আসলে এগলা অর ট্যাকা খাওয়ার জন্নে কিছু মানুষ ভুল বুঝে অক ল্যাচা লিয়্যা বেড়াচ্চে।

আলমের মেয়ে আলোমনি জানে না তার বাবা এখন কোথায়, কি করছে? বাড়ির কোন খোঁজ রাখে না সে।

এরুলিয়া ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মন্ডল। একাধারে ৫ বার তিনি ওই এলাকার চেয়ারম্যান। জানতে চাইলে একগাল হাসলেন। তারপর বললেন এক বছর আগে ওর শালি (স্ত্রীর ছোট বোন) বিলকিসকে নিয়ে পলাসলো। সেই বিচার করে দেয়া লাগছে। আর বিচারতো হামাক মাঝে মধ্যেই করা লাগে। ট্যাকা লিয়্যা দুই একদিন পরপরই ঝামেলা লাগায়। তারপরেও এলাকার ছ্যোল, ভালোই আছলো। তাই ক্যামা আবার লির্বাচন করিচ্ছে। আসলে মাতা পাগলা হলে ইংকাই হয়। এটি মেম্বরত উটবার পারেনি। আবার জাতীয় লির্বাচন। আসলে এনা ট্যাকা হচে তো। গরমে থাকপার পারিচ্চে না।

বগুড়ার এরুলিয়া ইউনিয়নের আরজি পলিবাড়ি এলাকা। মূল সড়ক পার হয়ে ছোট একমুখো পথের সড়কটি মূলত কাঠ ব্যবসায়ীদের দখলে। সেই সুবাদে সেখানে গড়ে উঠেছে কাঠের ফার্নিচার তৈরির ব্যবসা।

হিরো আলমের বাড়ির ঠিক সামনের বাড়ির বয়স্ক ৩ জন নারী জানালেন, ওই দেকেন এখনো গাছত আলমের পোস্টার ঝুলিচ্চে। মেম্বর ভোট করার পোস্টার। হমরা এলাকার মানুষ হিসেবে ভোট দিসনু। তাও উটপার পারেনি। তবে ছোলডা ভালো। খালি এনা বিটিছোলপোল লিয়্যা নাচ গান করার অব্যাশ (অভ্যাস) আছে।

বর্তমান সময়ে এখন সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তি বগুড়ার হিরো আলম। যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ভিডিও আপলোডের মাধ্যমে ঝড় তুলেছেন তিনি। ঠিক তেমনি সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন তুলে সারাদেশের মতো নন্দীগ্রাম-কাহালুতেও আলোচনায় এসেছেন। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিসপাড়ায় তাকে নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। যারা তাকে দেখেননি তারা নতুন প্রজন্মের কাছে নাম শুনেই চিনে নিচ্ছেন।

আসলেই তিনি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে মহাজোটের প্রার্থী হতে পারবেন কীনা তা নিয়েও চলছে হিসাব-নিকাশ।

প্রতিদিন বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে তিনি লাইভ অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে জনসমর্থনের কথা বলছেন। কিন্তুু বাস্তব চিত্র কি ? সেটি খুঁজে বের করতেই অনুসন্ধান চালানো হয় সারা ফেলানো হিরো আলমের নিজের বাড়ি এরুলিয়া ও নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।

হিরো আলমের বাবা আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে বড় মেয়ে আলোমনি ও ছোট মেয়ে আঁখি আলো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকার তরুণ প্রজন্ম হিরো আলম সম্পের্কে জানলেও প্রবীণরা তাকে চেনেই না। প্রবীণদের কাছে হিরো আলম সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তারা বলেন বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যেভাবে এলাকায় গণসংযোগ করেছেন হিরো আলম বগুড়া-৪ আসনে গণসংযোগ করেননি। এমনকি তার নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ নেই।

তথ্যমতে, হিরো আলম লাঙ্গল প্রতীকে যে আসনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন সেই বগুড়া-৪ নন্দীগ্রাম-কাহালু উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসন। এই আসনে এবার ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ১২ হাজার ৮১ জন।

২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রবীন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শহীদুল আলম দুদু (নৌকা) প্রতীকে ৭২ হাজার ৪৬৪ ভোট পান এবং বিএনপি থেকে ডা. জিয়াউল হক মোল্লা (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ১৪ হাজার ৮১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি একেএম রেজাউল করিম তানসেন (নৌকা) প্রতীকে ৭৫ হাজার ৯৯১ ভোট পান এবং বিএনপি থেকে ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আলী মুকুল (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

২০১৪ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হাজ্বী নূরুল আমিন বাচ্চু (লাঙ্গল) প্রতীকে ১৩ হাজার ৪৮৯ ভোট পান এবং বগুড়া জেলা জাসদের সভাপতি একেএম রেজাউল করিম তানসেন (মর্শাল) প্রতীকে ২২ হাজর ২০৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

ভাগ্যই বলে দেবে এবার হিরো আলমের ভাগ্যে সংসদের হিরোগিরি এসে যায় নাকি!!! যদি জনগন তাকে ভালোবেসে ভোট দেয় তবে সংসদে হিরোগিরী করার নতুন সুযোগ পেতে পারেন এই ডিস ও চানাচুর ব্যবসায়ী