২২, আগস্ট, ২০২০, শনিবার | | ৩ মুহররম ১৪৪২

কৃষি নিয়েই কেন পড়বো?

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৮

  • Facebook Share
কৃষি নিয়েই কেন পড়বো?
সৈয়দ জাহিদ,সিকৃবি: ইঞ্জিনিয়ারিং বা ডাক্তারি পড়া বাদ দিয়ে কৃষিতেই কেন পড়বো বা কৃষিতে পড়ে কি হবে?
এমন প্রশ্ন অনেকেই করে থাকে নিজের অজান্তেই। এইচ,এস,সি পাশ করার পর ছাত্রছাত্রীদের প্রধান লক্ষ্য হয় সরকারী কোন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের যায়গা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মান পূর্বের তুলনায় অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে, এছাড়া আবাসিক হলে কোন খরচ না থাকায় দূরদুরান্ত থেকে আসা ছাত্রছাত্রিরা স্বল্প খরচেই তাদের স্নাতক শেষ করতে পারে।
তাছাড়া দেশের এত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থাকতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই বা কেন যাবো- এমন কথাও অনেকের কাছে বলতে শুনেছি। এসব চিন্তার আগে কয়েকটি ব্যাপার নিয়ে ভাবতে হবে-
১। কেনই বা পড়বো এই কৃষিতে?
২। কৃষি বিষয়ে পড়লে কি চাকরি জুটবে?
৩। দেশে কৃষিতে পড়া গ্রাজুয়েটদের মূল্যায়ন হয় ?
৪। বিসিএস এর জন্য কৃষি কতটুকু সহায়ক?
৫। দেশের কল্যাণে নিজেকে কাজে লাগাতে পারবো?
৬। বিদেশে বৃত্তি নিয়ে পড়াশুনা করতে কৃষি আমাকে কতটুকু সুবিধা দিবে?
৭। গবেষণার সুযোগ কি আদৌ আছে?
৮। কৃষিতে পড়ে আত্ননির্ভরশীল হওয়া সম্ভব?
হ্যা সব কিছুরই উত্তর আছে। যেগুলো আপনার চিন্তার সাথে মিলবেই।
তবে এসব ভাবার আগে আমাদের উচিত নিজের প্যাশনটা ভালো করে বোঝা।
প্রথমেই স্বরণ করিয়ে দিতে চাই, ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষিবিদদের দিয়ে গেছেন প্রথম শ্রেণির মর্যাদা। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়াররা যেমন দেশে চাকরিতে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পান, তেমনি কৃষিতে স্নাতকোত্তর কৃষিবিদরাও প্রথম শ্রেণির মর্যাদাসম্পন্ন হবেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠিত করে ক্ষুধামুক্ত দেশে পরিণত করতে এই কৃষিবিদদের ভূমিকাই ছিলো মুখ্য। সে সময়ের ৭ কোটি মানুষের মুখে দু’বেলা খাবার তুলে দেওয়া অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হলেও বর্তমানে  দ্বিগুণেরও বেশি এই জনগণের চাহিদা মিটিয়ে খাদ্য বিদেশে রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে ।এ যে কৃষিখাতের বৈপ্লবিক উন্নতির ফল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), ময়মনসিংহ এ অবস্থিত দেশের বৃহত্তম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। সম্পূর্ণ আবাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রতি বছর প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী ছয়টি অনুষদের অধীনে পড়ালেখার সুযোগ পায়। এর মধ্যে ভেটেরিনারি অনুষদে ১৯১, কৃষি অনুষদে ৪০২, পশুপালন অনুষদে ১৯১, মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদে ১৩৩, কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদে ১৫০ এবং কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদে রয়েছে ১৩৩টি আসন।
এছাড়া রয়েছে দেশের ২য় বৃহত্তম সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে এ বছর ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে প্রায় ৪০০ জন শিক্ষার্থী। এখানেও রয়েছে ৬ টি অনুষদ।
-কৃষি
-ভেটেরিনারি, এনিমেল ও বায়োমেডিকেল সায়িন্স
-মাৎস্য বিজ্ঞান
-কৃষি অর্থনীতি
-কৃষি প্রোকৌশল ও কারিগরি
-বায়োটেকনলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
এছাড়া রয়েছে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, , বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
এছাড়াও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে কৃষি বিষয়ে পড়াশুনার সুযোগ।
কৃষিতে গ্রাজুয়েট হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য দেশে-বিদেশে রয়েছে অবারিত চাকরির সুযোগ।
বাংলাদেশ কর্ম কমিশনে (বিসিএস) কৃষিবিদেরা টেকনিক্যাল ও সাধারণ উভয় ক্যাডারে আবেদনের সুযোগ পাওয়ায় দেশের সব কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পারে।
তাছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিরি), পাট, ইক্ষু, মসলা, তুলা, চা গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে চাকরির সুযোগ।
ভেটেরিনারি অনুষদ থেকে গ্রাজুয়েটরা বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে সার্জন পদে যোগদান করতে পারে। তাছাড়া বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় গো প্রজনন কেন্দ্র ও দুগ্ধখামার, হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, ছাগল প্রজনন কেন্দ্র, মহিষ প্রজনন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রাণী গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে চাকরির সুযোগ। মাৎস্য বিজ্ঞান থেকে গ্রাজুয়েটদেরও রয়েছে এমনই অবারিত চাকরির সুযোগ। অন্যদিকে দেশের কৃষি ব্যাংকগুলোতে অগ্রাধিকারসহ দেশের সরকারি-বেসরকারি সকল ব্যাংকে চাকরির সুযোগ রয়েছে এখানকার গ্রাজুয়েটদের।
অনেকে আবার নিজের পায়ে দাঁড়াতে নিজেই হয়ে ওঠেন উদ্যোক্তা, গড়ে তোলেন নিজস্ব খামার। শিক্ষাজীবনের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলেন নিজস্ব প্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেন অসংখ্য বেকারকে।
দেশ ও দেশের মানুষকে সেবা প্রদান এবং সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেখাচ্ছে আলোর হাতছানি। তৈরি করছে শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ গ্রাজুয়েট। কৃষি গবেষকরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দেশ থেকে দেশান্তরে। জীবনে সফল ও মর্যাদার সাথে প্রতিষ্ঠিত হতে এবং দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণ অবশ্যই সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত।