২১, আগস্ট, ২০২০, শুক্রবার | | ২ মুহররম ১৪৪২

ধর্ষনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে

আপডেট: মে ১৫, ২০১৯

  • Facebook Share
ধর্ষনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে

মোঃ নুরুন্নবী:দেশে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে ধর্ষণ। ধর্ষকের লোলুপ দৃষ্টি থেকে বাদ যাচ্ছে না কন্যাশিশু ও বৃদ্ধ নারীরাও। এমনকি রেহাই পাচ্ছে না বাক বা বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরাও। শুধু তাই নয়, ধর্ষণ শেষে নির্মম নির্যাতন, এমনকি চলন্ত বাস থেকে ফেলে দিয়ে কিংবা আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটছে। মানুষ নামধারীরা এক বিভত্স রূপ নিয়ে হাজির হচ্ছে আমাদের কন্যাশিশু, কিশোরী ও নারীদের সামনে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি মাসের প্রথম আটদিনে ৪১টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। মূলত অপসংস্কৃতি, আকাশ সংস্কৃতির বেসামাল প্রভাব, অশ্লীলতা, ঘুষ, দুর্নীতিসহ নানা কারণে দেশে দিনে দিনে সামাজিক অবক্ষয় আর অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। অশ্লীলতার আগ্রাসনের পাশাপাশি মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ে ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে চরম নৈতিক অবক্ষয়, আকাশ সংস্কৃতির বিরূপ প্রভাব, মাদকের বিস্তার, বিচারহীনতা, বিচার প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতা।
কেন এত ধর্ষণ: মনোবিদরা বলছেন, যারা ধর্ষক তারা মনোবিকারগ্রস্ত। নারীর ওপরে ক্ষমতা দেখানো, তাকে দখল করার মনোবৃত্তি এবং অবদমিত কাম চরিতার্থ করতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। সেইসঙ্গে তারা এটাও বলছেন যে, ধর্ষণ করলে অপরাধীর কোনো শাস্তি হবে না। তাই এ ধরনের ঘটনা কমানো যাচ্ছে না। দিন দিন বাড়ছে, সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে ধর্ষণ। সংবাদপত্রের পাতায় প্রতিদিন ধর্ষণের খবর ছাপা হচ্ছে। সভ্যতা যত এগুচ্ছে দিন দিন ধর্ষণের মাত্রা যেন আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, অফিস, রাস্তা-ঘাট, বাস— কোথাও নারী নিরাপদ নয়। যেখানেই সুযোগ মিলছে সেখানেই বিকারগ্রস্ত পুরুষদের দ্বারা ধর্ষিত হচ্ছে নারী। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে কিশোর বয়সের মেয়েরা সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এরপরেই রয়েছে শিশুরা। অর্থাত্ অল্পবয়সী মেয়েরা যাদের প্রতিরোধের শক্তি-সাহস নেই তারাই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে বেশি। প্রতিদিন কত মেয়ে যে ধর্ষিত হয় তার কোনো হিসাব নেই। যারা সামনে এসে বিচার চায় আর যারা হত্যার শিকার হন তাদের খবরই আমরা শুধু জানতে পারি। অনেকে অপমানের জ্বালা ও যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকে। মানুষে মানুষে সম্পর্ক, নারী পুরুষের সম্পর্ক মমতা, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার ওপরে টিকে রয়েছে। সেই শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর সম্মানটাই যেন নারীর ওপর থেকে চলে গেছে এক শ্রেণির পুরুষের। নারী হয়ে উঠেছে ভোগের বস্তু।
ধর্ষণের যন্ত্রণার তীব্রতা যে কতখানি, তা আমরা কিছুটা বুঝতে পারি যখন দেখি ছোট্ট মেয়ের ধর্ষণের বিচার না পেয়ে বাবা আর মেয়ে মিলে একসঙ্গে আত্মহনন করেছিল রেললাইনে মাথা পেতে। তাদের কাছে এই শব্দের যন্ত্রণা মৃত্যুর থেকেও অনেক ভারি। সমাজবিদরা জানাচ্ছেন, ধর্ষকদের বিচার না হওয়ার কারণে সমাজে ধর্ষণের মাত্রা কমছে না। সঠিক বিচার সমাজের অপরাধ কমিয়ে আনতে সহায়ক।
ধর্ষণের মাত্রা কমছে না: আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য সংরক্ষণ ইউনিট জানাচ্ছে, ধর্ষণের মাত্রা কমছে না। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে ২০১৮ সালে দেশে মোট ধর্ষণের সংখ্যা ৭৩২টি। আর এ বছর প্রথম চার মাসে মোট ধর্ষণের সংখ্যা ৩৫৪টি। তাদের হিসাবে দেখা যাচ্ছে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী মেয়েরা সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। গতবছর এই সংখ্যা ছিল ১১৬ জন। এরপরেই রয়েছে ৭ থেকে ১২ বছরের মেয়েরা। ২০১৮ সালে ১০৪ মেয়েশিশু ধর্ষিত হয়েছে। আর এবছর এই চার মাসেই ১৩ থেকে ১৮ বছরের ৬৪ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে, আর ৭-১২ বছরের মধ্যে এ সংখ্যা ৫২ জন। আর এক বছরের কম থেকে ছয় বছরের শিশু ধর্ষণের সংখ্যা খুব মারাত্মক। গতবছর যা ছিল ৫১ জন। এবছর এই চার মাসেই এই সংখ্যা ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে।