১০, মে, ২০২১, সোমবার | | ২৮ রমজান ১৪৪২

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলাজুড়ে বিক্রি করা হচ্ছে,বিএসটিই’র নিষিদ্ধ করা পণ্যসমূহ

আপডেট: মে ২৩, ২০১৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলাজুড়ে বিক্রি করা হচ্ছে,বিএসটিই’র নিষিদ্ধ করা পণ্যসমূহ

মেহেদী হাসান শিয়াম,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :

ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় বাজার থেকে তুলে নিতে নির্দেশ দেওয়া ৫২টি পণ্যের বেশ কিছু এখনো জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে।  একই অবস্থা শিবগঞ্জ ভোলাহাট এবং নাচোলে যদিও দোকানিরা দাবি করেছেন, তারা এসব পণ্য ফেরত দিতে রেখে দিয়েছেন। নতুন করে অর্ডার নিচ্ছেন না, বিক্রিও করছেন না।
গত ১২ মে হাইকোর্ট বাজার থেকে যেসব পণ্য সরাতে বলেছে তার মধ্যে বহুল কাটতি থাকা সরিষার তেল, লবণ, লাচ্ছা সেমাই, ঘিসহ মশলা রয়েছে।  যেসব পণ্যে ভেজাল পাওয়া গেছে তার মধ্যে আছে তীর, পুষ্টি ও রূপচাঁদা সরিষার তেল। ওষুধের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায় নামা এসিআইর লবণ ও ধনিয়ার গুঁড়ায় মিলেছে ভেজাল। ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ী বাজার দখল করা প্রাণ কোম্পানির হলুদের গুঁড়া, কারি মশলা ও লাচ্ছা সেমাইও গুণগত মানে উত্তীর্ণ নয়।
ভেজালের তালিকায় আরো আছে ড্যানিস ফুড কোম্পানির কারি মশলা, ওয়েল ফুড অ্যান্ড বেভারেজের লাচ্ছা সেমাই, মোল্লা সল্ট লবণ, বাঘাবাড়ি স্পেশাল ঘি, সান চিপসের নাম। ডানকানের মতো নামি প্রতিষ্ঠানের পানিও পানের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ নয়।
হাইকোর্টের আদেশের পর মান নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পণ্য তুলে নিতে নির্দেশ দেয়। এই সময়সীমা পার হয়ে গেছে এরই মধ্যে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে বড় বড় দোকানে সেভাবে আর এগুলোর দেখা মিলছে না। কিন্তু পাড়া-মহল্লার বা ফটপাত,বিভিন্ন এলাকার দোকানে এখনো দেখা মিলছে কিছু কিছু পণ্যের।
রবিবার সদর উপজেলার পুরাতন বাজার,এলাকা থেকে এসিআই কোম্পানির লবণ কিনেছেন এক ব্যাক্তি। তিনি সাংবাদিক মেহেদী হাসান শিয়ামকে বলেন, ভালো লবণ চাইলে দোকানিরা আমাকে এসিআই কম্পানির লবন দেন।
সোমবারে শিবগঞ্জের মসলা পট্রি,মনাকষা,সাহাপাড়া,তারাপুর,কানশার্ট,ধোবড়া এলাকার দোকানগুলোতে ঘুরে দেখা গেলে প্রাণের গুঁড়া হলুদ, মোল্লা সল্ট, ডুডলস নুডলস, নিশিতার সুজি বিক্রি,মধুবনের লেচ্ছা সেমাই,ফ্রেশের হলুদ গুড়া বিক্রি করা হচ্ছে।কেন বিক্রি করা হচ্ছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে দোকানিরা বলেন,এই সব পণ্য কম্পানিকে ফেরত দেওয়ার অযুহাত দেখায়।
সদর উপজেলার পুরাতন বাজারে, বাজার করতে আসা বাবলু হোসেন বলেন, ‘ক্রেতারা সচেতন না থাকার কারণে তারা এসব পণ্য কিনছেন। অনেকে বিষয়টি জানেনও না। আবার বাজারে গিয়ে সময়ের অভাবে দ্রুত পণ্য কিনতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই পণ্যের গুণাগুণ বা যাচাই করে কেনা সম্ভব হয় না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রশাসনের উপর মহলে উল্লেখিত বিষয়টিকে তদন্ত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।