২৮, মে, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ২৩ রমজান ১৪৪০

নীলফামারীর চিলাহাটি স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার কাজ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি

আপডেট: মে ২৬, ২০১৯

  • Facebook Share
নীলফামারীর চিলাহাটি স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার কাজ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি

নাঈম,নীলফামারী// নীলফামারীর চিলাহাটি স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার কাজ
বাস্তবায়ন করার ঘোষনা আট বছর আগে দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত
হয়নি। নীলফামারী জেলা সদরের থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার উত্তরে ডোমার
উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নে চিলাহাটি অবস্থিত। ডোমার উপজেলা সদর থেকে
নীলফামারীর চিলাহাটি স্থলবন্দর দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। নীলফামারীর
চিলাহাটি স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার কাজ গেজেট প্রকাশেই থমকে আছে । নীলফামারীর
চিলাহাটি স্থলবন্দরটি প্রতিষ্ঠিত হলে ভারত, ভুটান, চীন ও নেপালের সঙ্গে
যোগযোগ আরো সহজ হয়ে উঠবে। উত্তরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যেরও
প্রসার ঘটনোর জন্য চিলাহাটি স্থলবন্দর গুুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে।
নীলফামারী জেলায় অবস্থিত উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ(ইপিজেড) প্রতিষ্ঠান
সহ দেশের অন্যান্য ইপিজেডের বিনিয়োগে আগ্রহী হবে ব্যাবসায়িরা। তাছাড়া
চিলাহাটি স্থলবন্দরে সড়ক ও রেলপথের সুবিধা থাকায় আমদানি-রপ্তানির মালামাল
পরিবহনে খরচ কমবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়িরা।  ব্যবসায়ীরা আরো জানান,
নীলফামারীতে রয়েছে রেলওয়ে স্টেশন, দুটি ব্যাংক, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, ব্যবসাকেন্দ্র, ও বিজিবি ক্যাম্প। এ ছাড়া এ
জেলায় রয়েছে উত্তরা ইপিজেড, দারোয়ানী সুতা কল, ছয়টি পাটকল, তিনটি সিরামিক
কারখানা ও বেশ কিছু পোশাক কারখানা। তাছাড়া নীলফামারীর পাশের জেলাগুলোতেও
গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্পকারখানা। নীলফামারীর চিলাহাটি স্থলবন্দরটি চালু
হলে শিল্প কারখানাগুলো সহজেই আমদানি-রপ্তানী করতে পারবে। নীলফামারী শিল্প
ও বণিক সমিতির সভাপতি মারুফ জামান বলেন,“নীলফামারীর চিলাহাটি স্থলবন্দরটি
চালু হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সরকারের
রাজস্ব আয় বাড়বে। নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে
উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বাণিজ্যের উন্নয়ন ঘটবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে
বেকারত্ব হ্রাস পাবে।” চিলাহাটি স্থলবন্দর বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আবু
মুসা মাহমুদুল হক বলেন, “২০১১ সালের জুনে তৎকালীন নৌপরিবহনমন্ত্রী
শাজাহান খান চিলাহাটিতে জনসভায় শুল্ক স্টেশন চালুসহ চিলাহাটি স্থলবন্দর
প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এরপর ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে
চিলাহাটিকে স্থলবন্দরের বিষয়টি তোলা হয়। ঐ বছরে ১ আগস্ট সরকারি গেজেটে এ
বন্দর প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়।” এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন
বলেন, গত বছরের জুলাই মাসে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনে বিষয়টি উত্থাপন করা
হয়। সে সময় নৌসচিব অশোক মাধব রায় গেজেট প্রকাশের কথা জানিয়ে কাস্টমসের
ক্লিয়ারেন্সের জন্য অপেক্ষমান থাকার কথা বলেন। সর্বশেষ গত ১১ এপ্রিল
স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের যুগ্ম সচিব আনিস আহমেদের নেতৃত্বে একটি কমিটি
প্রস্তাবিত স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন। তখন তিনি জানান, প্রস্তাবিত
এলাকায় ৩৩ একর জমি লাগবে। এ বিষয়ে প্রস্তাব পেলে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু
হবে।