আপডেট: জুন ১৬, ২০১৯

আপডেট:

মোঃ খোরশেদ আলম( কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক সময়ের কণ্ঠ)ঃআর মাএ তিন দিন বাকী।২০ জুন, বৃহঃপতি বার ফজর বাদ বয়ানের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলা ইজতেমা শুরু হতে যাচেছ এবং শনিবার সকালে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে ইজতেমা সমাপ্ত হবে এবং ইজতেমার সকল কাজ বুধবারের আগেই সমাপ্ত হবে বলে ইজতেমা আযোজকরা জানান।ইজতেমার সকল মুসুল্লিদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্হা থাকবে। পুরো ইজতেমা মাঠ সিসি ক্যামারার আওতাভুক্ত থাকবে এবং মাঠে একটি ওয়াচ টাওয়ারও থাকবে।
বিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও সাধক হজরত মাওলানা ইলিয়াস আখতার কান্ধলভি (১৮৮৫-১৯৪৪ খ্রি.) দাওয়াতে তাবলিগ জামাতের পুনর্জাগরণ করেন। রাসুলুল্লাহ ব(সা.)-এর মুখ নিঃসৃত শাশ্বত বাণী: ‘তোমার কাছে যদি কোনো বাণী থাকে, তা অন্যের কাছে পৌঁছে দাও।’ এ দাওয়াতি আহ্বানকে কেন্দ্র করেই পর্যায়ক্রমে তাবলিগের বিশ্বব্যাপী প্রচার ও প্রসার ঘটে।
বাংলাদেশে ১৯৪৬ সালে ঢাকার রমনা পার্কসংলগ্ন কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের বার্ষিক সম্মেলন বা ইজতেমা প্রথম অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামে তৎকালীন হাজি ক্যাম্পে ইজতেমা হয়, ১৯৫৮ সালে বর্তমান নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। তখন এটা কেবল ইজতেমা হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রতিবছর ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আশাতীতভাবে বাড়তে থাকায় ১৯৬৬ সালে ইজতেমা টঙ্গীর পাগার গ্রামের খোলা মাঠে আয়োজন করা হয়। ওই বছর স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অংশ নেওয়ায় ‘বিশ্ব ইজতেমা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৬৭ সাল থেকে বর্তমান অবধি (২০১১ সাল থেকে দুই পর্বে) ‘বিশ্ব ইজতেমা’ টঙ্গীর কহর দরিয়াখ্যাত তুরাগ নদের উত্তর-পূর্ব তীরসংলগ্ন ডোবা-নালা, উঁচু-নিচু মিলিয়ে রাজউকের হুকুমদখলকৃত ১৬০ একর জায়গার বিশাল খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রতিবছর ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আশাতীতভাবে বাড়তে থাকায় ২০১৬ সাল থেকে সিদ্ধান্ত হয়। ৩২ জেলা যে বছর ইজতেমায় অংশ গ্রহন করবে বাকী ৩২ জেলা নিজ নিজ জেলায় জেলা ইজতেমা করবে।
ইজতেমার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, তিন দিন দেশ-বিদেশের ইমানদার ত্যাগী আলেম-ওলামাদের কাছ থেকে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে বয়ান শুনে আখেরি মোনাজাত করে ইমান-আমলের দাওয়াত সারা বিশ্বে পৌঁছে দেওয়া। শুধু ইসলামি বয়ান শোনা কিংবা আখেরি মোনাজাতে প্রচুর লোকজনের অংশগ্রহণ করা ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য নয়।