২২, আগস্ট, ২০২০, শনিবার | | ৩ মুহররম ১৪৪২

এবারের বিশ্বকাপ যেনো সাকিবময়

আপডেট: জুন ২৭, ২০১৯

  • Facebook Share
এবারের বিশ্বকাপ যেনো সাকিবময়

খুরশিদ জামান কাকন
স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ। চারবছর পর পর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপকে ঘিরে ক্রিকেট পাড়ায় কতোইনা জল্পনাকল্পনা থাকে। এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরেও ক্রিকেট বোদ্ধাদের যুক্তিতর্কের দৌড়ঝাঁপ ছিলো দেখার মতো।নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম তো এবার জ্যোতিষীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকৃত দলগুলোর পারফরমেন্সের উপর ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন। সেখানে বাংলাদেশকে একেবারে টেবিলের তলানির দিকে রেখেছিলেন। এমনকি আসরের সর্বাপেক্ষা দুর্বল দল আফগানিস্তানের কাছেও বাংলাদেশ পরাজিত হবে, এমনটাই তার উদ্ভট চিন্তাভাবনায় উঠে এসেছিলো ।
কিন্তু বাংলাদেশ যে কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী এটার প্রমাণ অনেকবারই দিয়েছে। এবারের বিশ্বকাপেও নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী সাউথ আফ্রিকাকে কুপোকাত করে সেটার প্রমাণ আরেকবার দেয়। সেই সাথে জানান দেয়, এবারে টাইগার বাহিনী শুধু খেলতে আসেনি, জিততেও এসেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া পাহাড় সমান ৩২২ রানের টার্গেটকে মামুলি বানিয়ে বাংলাদেশ এই আসরে তার দ্বিতীয় জয় তুলে নেয়। ক্রিকেটের পরাশক্তি হিসেবে খ্যাত অস্ট্রেলিয়ার সাথে পেরে না উঠলেও চোখে চোখ রেখে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে ম্যাশবাহিনী। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৩৭৪ রানের জবাবে বাংলাদেশ থেমেছে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বচ্চো ৩৩৩ রানে। যা বাংলাদেশ বিদ্বেষী অনেক ক্রিকেট বোদ্ধাদের চিন্তার কারণ। এরপরেই প্রত্যাশিত ভাবে আফগানিস্তানকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশ এই বিশ্ব আসরে তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে। সেই সাথে সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দিয়েছে। আর এসবের পিছনে যার একক অবদান দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তিনি হলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বদায় ব্যাটে-বলে চোখ ধাঁধানো  পারফরমেন্স করা সাকিব যে এবারের বিশ্বকাপে তার ক্যারিয়ারের সেরা সময় পাড় করছেন তা তার ব্যাটে রানের ফোয়ারা দেখলেই বুঝা যায়। পছন্দের তিন নাম্বার পজিশনে ব্যাট করতে নেমে এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটিতে করেছেন ৪৭৬ রান। ব্যাটিং গড় ৯০ এর বেশি। টুর্নামেন্ট সর্বাধিক রান সংগ্রহকারীদের তালিকায় সাকিবের অবস্থান উপরের দিকেই। সেই সাথে বল হাতে নিয়েছেন মূল্যবান ১০ টি উইকেট। পেস সহায়ক উইকেটে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপের একমাত্র স্পিনার হিসেবে আফগানিস্তান ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্বটাও তার। যুবরাজ সিংয়ের পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে সাকিব বিশ্বকাপের একম্যাচে ফিফটি ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার গৌরবটা নিজের করে নিয়েছেন। দেশের হয়ে মাহামুদুল্লাহ রিয়াদের পর সাকিব ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরির রেকর্ডটাতেও চলতি বিশ্বকাপে ভাগ বসান। 
সাকিব মানেই রেকর্ডের ছড়াছড়ি। পুরনো রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়ার হাতছানি। এবারের বিশ্বকাপের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই সাকিব কোন না কোন রেকর্ড গড়েছেন। যা হয়তো বলে শেষ করা যাবেনা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সাকিবই একমাত্র ক্রিকেটার যার ১০০০+ রান ও ৩০+ উইকেট আছে। এই বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফর্ম করা সাকিবই এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। দল যদি সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারে তাহলে সাকিবের হাতেই যে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্টের পুরস্কার উঠবে তা নিশ্চিত বলাই যায়। হাতে এখনো বাকি দুই ম্যাচ। সেমিফাইনালে যাওয়ার সমীকরণে বাংলাদেশেরও জোরালো সম্ভাবনা আছে। এজন্য অন্য দলগুলোর ফলাফলের উপর যেমন তাকাতে হবে, তেমনি নিজেদের কাজের কাজটাও ঠিকভাবে করে যেতে হবে। অর্থাৎ আগামী ২ জুলাই ভারত ও ০৫ জুলাই পাকিস্তানকে বধ করতে হবে। তবেই প্রথমবারের মতো পঞ্চপাণ্ডবের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট মঞ্চের সবচেয়ে বড় এই আসরে সেমিফাইনাল খেলার টিকিট পেলেও পেতে পারে।