১০, মে, ২০২১, সোমবার | | ২৮ রমজান ১৪৪২

মির্জাপুরে ‘টাঙ্গাইল এক্সপ্রেস’ ট্রেনে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি

আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০১৮

মির্জাপুরে ‘টাঙ্গাইল এক্সপ্রেস’ ট্রেনে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি

রাজু মিয়া : “টাঙ্গাইল এক্সপ্রেস” নামে ঢাকা-টাঙ্গাইল রেলপথে কমিউটার সরাসরি ট্রেন সার্ভিস গত ৮ নভেম্বর থেকে চালু হয়েছে। বিশেষ এই রেল সার্ভিস চালু হওয়ার পর রাজধানী ঢাকার সাথে টাঙ্গাইল জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ হয়। যার ফলে দূরত্ব ও সময় দুটোই কমে আসে। এক কথায় সরাসরি ট্রেন সার্ভিসের দাবিতে করা আন্দোলনের ফসল হিসেবে সুফল ভোগ করছেন সাধারণ যাত্রীরা।

শুরুর দিকে, মোট ১৩ টি স্টপেজ রেখে ভাড়ার তালিকা নির্ধারণ করা হলেও সার্ভিসটি চালু হওয়ার পরের দিন থেকেই মহেড়া, মির্জাপুর ও মৌচাক স্টেশনকে স্টপেজের তালিকা দেয়া বাদ দেয়া হয়। পূর্ব নির্ধারিত শিডিউল থেকে মির্জাপুরের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে মির্জাপুর উপজেলার যাত্রীসেবা প্রত্যাশীরা এর তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন। যার ফলে গত ১০ নভেম্বর স্থানীয় পৌর মেয়র সাহাদাৎ হোসেন সুমন এর উপস্থিতিতে ‘মির্জাপুরের সচেতন নাগরিক’ ব্যানারে মির্জাপুর রেল স্টেশন চত্বরে এক মানব-বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত সাধারণ জনগণ মির্জাপুরে ট্রেনটির যাত্রা বিরতির জোড়ালো দাবি জানান। এরপর বিষয়টি কর্তৃপক্ষ অবগত হলে দাবি আমলে নিয়ে মির্জাপুর রেলওয়ে স্টেশনে স্টপেজ দেয়ার নতুন সিধান্ত গৃহীত হয়।

টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থেকে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত শুক্রবার বাদে সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে ট্রেনটি। যার মধ্যে টাঙ্গাইল কমিউটার-২ (টি/সি-২-১০২৮) নামের ট্রেনটি ঢাকা যাওয়ার সময় সকাল ৭টা ৩২ মিনিটে মির্জাপুরে যাত্রা বিরতি দিয়ে ৭টা ৩৫ মিনিটে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

অপরদিকে, টাঙ্গাইল কমিউটার-১ (টি/সি-১-১০২৭) নামের ট্রেনটি ঢাকা থেকে আসার পথে সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে মির্জাপুরে স্টপেজ দিয়ে ৭টা ৫৮ মিনিটে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে চলে যায়। এর মধ্যে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ট্রেনটি কমলাপুর থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্য ছেড়ে আসে।

তবে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে মির্জাপুর স্টপেজের জন্য মাত্র ১০টি আসন বরাদ্দ দেয়া আছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এগুলো হচ্ছে শোভন চেয়ার কোচ ৫টি যার ভাড়া জনপ্রতি ৮৫ টাকা এবং সাধারণ চেয়ার ৫টি যার যার ভাড়া ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় সহ সেবার মানের তুলনায় ভাড়া বেশি বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন। পাশাপাশি দাড়িয়ে গেলেও সমান ভাড়ার বিষয়ে আপত্তি রয়েছে যাত্রীদের। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আজ বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) সকালের ট্রেনটি টাঙ্গাইল থেকে দেরিতে ছেড়ে আসার কারণে মির্জাপুরে সকাল ৮টার দিকে এসে পৌছায়। এতে করে কাংখিত সময়ে অনেকেই নির্ধারিত গন্তব্যে পৌছাতে পারেনি।

মির্জাপুর উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী এমদাদ হোসেন শুভ অভিযোগ করে বলেন, মাত্র ১০টি আসন থাকার কারণে ভোর ৬টার সময় স্টেশনে এসে তিনি আগে-ভাগে টিকিট ক্রয় করেন। সকাল সাড়ে ৭টার ট্রেনে চড়ে তার ঢাকার উদ্দেশ্যে ব্যবসায়িক কাজে কমলাপুর যাওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়েরও অনেক পরে আধঘণ্টা দেরিতে আসায় তিনি সড়ক পথে নাবিল পরিবহনে করে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দেন বলে উল্লেখ করেন।

কিন্তু সল্প সময়ে নিরাপদে গন্তব্য স্থলে পৌছানোর কারণে দিন দিন মির্জাপুরবাসীর কাছে রেল সেবার জনপ্রিয়তা ও আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন সেবা বেড়েই চলছে। সে অনুযায়ী টিকিটের বিনিময়েও আসন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।

মির্জাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সরেজমিনে সকালে গিয়ে দেখা যায়, কমিউটার ট্রেনের অপেক্ষমান যাত্রীদের ভিড়ে টিকিট দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। এসময় চাহিদা অনুযায়ী আসন না পাওয়ায় কয়েকজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মির্জাপুর পৌর সদরের চাকুরীজীবী লাভলু সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের প্রাণের দাবি এই কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালু হওয়ার ফলে আমরা মির্জাপুরবাসীরা বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছি। এখন বাড়ি থেকেই সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ঢাকায় গিয়ে অফিস করতে পারি। তবে আসন সংখ্যা বাড়ানো সহ ট্রেনটির সেবার মান বৃদ্ধির দিকে কর্তৃপক্ষ আরো নজর দিবে বলে আমি আশা করি।’

এ ব্যাপারে মির্জাপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার নাজমুল হুদা বকুল জানান, মির্জাপুরের যাত্রীদের জন্য মাত্র ১০টি আসন সংরক্ষিত থাকলেও অতিরিক্ত যাত্রীরা চাইলে ট্রেনটিতে পরিবহন সেবা নিতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে একই মূল্যে টিকিট ক্রয় করতে হবে।

আর শিডিউল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করে বলেন, আজ টাঙ্গাইল থেকে ট্রেন দেরিতে ছেড়ে আসায় এবং অনেক সময় বিপরীত মুখী ট্রেন ক্রসিং করার কারণে যাত্রা বিরতি দেয়ার ফলে দেরি হয়ে থাকে। একই সাথে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ট্রেনের আসন সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।