আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০১৯

আপডেট:

প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী ভোরে এখানেও সূর্যের আলো ফোটে। শুরু হয় পাখির কিচির-মিচির শব্দ ও আনাগোনা। প্রতি সকালে এখানেও গাছের পাতা ও নরম ঘাষ গুলোতে শিশির জমে। নদী ও জলাশয় বেষ্টিত পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার এ অঞ্চলটিতে সবই আপন নিয়মে চললেও শুধু চলে না দারিদ্র্যের কাছে হেরে যাওয়া ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার পরবর্তী পদক্ষেপ। অথবা থমকে যায় দিনমজুর পিতার সন্তানের শৈশব পথের শিক্ষা জীবন। আর তখনই এই থমকে যাওয়াকে থমকে দিতে নতুন সূর্যের আলো নিয়ে যাত্রা শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন ‘প্রদীপন’।
বলা হচ্ছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করা স্বেচছাসেবী ও সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন ‘প্রদীপন’ এর কথা। “মানবতার কল্যাণে, মানবতার স্বার্থে” স্লোগান কে সাথে নিয়ে চলা এ সংগঠনটিকে সম্প্রতি ৪৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মাধ্যমে মতুন ভাবে সাজানো হয়েছে। সমাজসেবী এ সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী রবিউল ফয়সাল নাঈম এবং সাধারন সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন মাকসুদুল ইসলাম। এছাড়াও নব্য এ কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে মাকসুদুল হাসান মৃদুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আন্তারা বিনতে আক্কাস, দপ্তর সম্পাদক খালিদ আহমেদ শাকিল সহ প্রমুখ দায়িত্ব পালন করবেন।
দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের হতদরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ১৭ মার্চ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী শিহ্মার্থীদের নিয়ে গঠিত হয় অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সংগঠন ‘প্রদিপন’। ঐ মাসেই মহান স্বাধীনতা দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয় “১ টাকায় বিরায়ানী” কার্যক্রম। প্রায় ১২০ জন দরিদ্র শিশুর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ১ টাকার বিনিময় নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা যেন মনে না করে তাদের প্রতি করুণা করা হয়েছে।
এরপর থেকেই প্রদীপন সংগঠনটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা উপকরণ প্রদান, বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষাদান কার্যক্রম, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানো সহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাক্তিগত অর্থায়ন ও সহযোগিতায় কাজ করছে এই সংগঠনটি।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রদীপন সংগঠনের সভাপতি রবিউল ফয়সাল নাইম জানান, “দেশের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেকের কাছেই প্রশাসন শতভাগ সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারছে না, সেই উদ্দেশ্যেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। তাছাড়া অনেকের ব্যক্তিগত ইচ্ছা থাকলেও একা এ ধরনের কাজ করতে পারে না এই প্রয়োজনীয়তার স্বার্থেই সকলকে সংগঠনে আওতায় আনা”।
সংগঠনের একাধিক স্বেচ্ছাসেবী আশা করেন প্রদীপন সংগঠনটি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে সমগ্র দক্ষিণ অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করবেন। এছাড়া তারা জানান সামনে শীতকালীন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দরিদ্রদের মাঝে শীত বস্ত্র প্রদান করা হবে। একই সাথে নতুন বছরের শুরুতে সুবিধাবঞ্চিত শিহ্মার্থীদের শিহ্মা উপকরণ প্রদান করবেন বলে তারা আশা ব্যাক্ত করেন।