২২, আগস্ট, ২০২০, শনিবার | | ৩ মুহররম ১৪৪২

আমার নির্বাচনী এলাকা এমন ভাবে গড়ে তুলবো, যেন সারা দেশ তাকিয়ে থাকে- শিবলী সাদিক

আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০১৯

  • Facebook Share
আমার নির্বাচনী এলাকা এমন ভাবে গড়ে তুলবো, যেন সারা দেশ তাকিয়ে থাকে- শিবলী সাদিক

_জাকিরুল ইসলাম, বিরামপুর, (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
তিনি একজন রাজনীতিক। সংসদ সদস্য। কিন্তু তিনি যে একজন গীতিকার, একজন শুটার, এ কথা খুব একটা প্রচলিত নয়। 
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী দিনাজপুর-৬ আসনের সাংসদ শিবলী সাদিক সম্প্রতি আলোচনায় উঠে আসেন শ্রমিকদের সঙ্গে মাটি কাটা, নেতাকর্মী ও শ্রমিকদের সঙ্গে বসে কলাপাতায় খাবার খাওয়া, ও সে রাস্তা দিয়ে চলার পথে যে কোনো বৃদ্ধা মহিলাকে পায়ে হেঁটে যেতে দেখলে বাসায় পৌছে দেওয়া, অনাহারে কাটানো রাস্তার প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মুখে অন্ন তুলে দেওয়া, অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার দ্বায়িত্ব নেওয়া, তার নির্বাচনী এলাকার গ্রামে গ্রামে রিক্সা কিম্বা ভ্যানে চড়ে সাধারন জনগণের খোঁজখবর নেওয়া, এলাকায় বন্য দৃর্গত মানুষের পাশে দাড়ানো, বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সর্বশেষ বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ‘ভিজে’ কাঁদার মধ্যে হেঁটে মৃত্যু ব্যাক্তির জানাযায় শরিক হওয়ার ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
একজন এমপি হিসেবে তার এ উদারতা ও দায়িত্ববোধ তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে একজন এমপির যে চিরাচরিত ছবি চিত্রায়িত, তা থেকে বেরিয়ে আসতেই তার এই প্রচেষ্টা।
উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া শিবলী সাদিকের আলোচিত কর্মকাণ্ডকে অনুকরণীয় বলছেন অনেকে। 
বিস্তারিত জানতে মঙ্গলবার সকালে তার মুখোমুখি হয় প্রতিবেদক, সেখানে উঠে আসে তার ব্যতিক্রমী কাজের পেছনের কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিরামপুর, নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি জাকিরুল ইসলাম।
কেমন আছেন?
ভালো আছি। এলাকায় থাকলে তো অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়। এই ব্যস্ততায় আমাকে ভালো রাখে।
এলাকায় কেমন ব্যস্ততা?
প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা সময় জনগণের পেছনে দিই। মানুষের সঙ্গে কাজ করি। তাদের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করি।
সম্প্রতি আপনার দুটি ঘটনা বেশ আলোচিত হয়েছে?
এটা আমার জনসেবারই অংশ। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ করি। এর কাণ্ডারি জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে একটি উন্নত ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছেন। তার একজন অনুসারী ও কর্মী হিসেবে আমাদের কাজের পরিধি সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও বেশি প্রসার করতে হবে। আমরা যারা জাতীয় সংসদের সদস্য আছি, তাদের সকলকে সাধারণ মানুষের পাশে পৌঁছাতে হবে। সরকারের উন্নয়নের তথ্য মানুষের মাঝে তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমাদের অর্থনীতি চাঙা রাখে, তাদের সঙ্গে মিলেমিশে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বেগবান করতে হবে। আমি সাধারন মানুষের আত্মার সঙ্গে মিশে যেতে চাই। শ্রমিকদের সঙ্গে আপনার মাটি কাটা গ্রামগঞ্জে রিক্সা ভ্যানে চড়ে এলাকার মানুষের খোঁজ খবর নেওয়া এবং বৃষ্টিকে উপেক্ষা না করে জানাযায় যাওয়ার দৃশ্য খুবই আলোচিত। এসব কর্মকাণ্ড আপনি কখন থেকে শুরু করেছেন?
আসলে আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, আমার বাবা এই আসনের এমপি ছিলেন, বড় চাচা ছয় বারের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন, তাই অনেক আগে থেকেই এসব কর্মকাণ্ডে অভ্যস্ত ছিলাম। আমি যখন ২০০৮ সালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলাম, তখন থেকেই এই কাজ করে আসছি। আমার কাজ সম্পর্কে জানেন আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই আমি ফের সাধারণ মানুষের সেবায় মনোনিবেশ করি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যেসব কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তাদের অনুকরণে আমি শ্রমজীবী ও সাধারন মানুষের সঙ্গে কাজ করছি।
কিন্তু মিডিয়ায় এসব খবর আগে দেখা যায়নি?
কী কারণে মিডিয়ায় আগে এসব খবর আসেনি সেটা আমি বলতে পারব না। তবে আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করছি শুরু থেকেই। আর আমৃত্যু করে যাব। তবে সম্প্রতি যেসব মিডিয়ার বন্ধুরা আমার এসব ইতিবাচক কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। এর মধ্য দিয়ে আমি আরও অনুপ্রাণিত বোধ করছি।
এই উৎসাহ, অনুপ্রেরণার উৎস কী?
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন আমার কাছে বড় অনুপ্রেরণা। বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার বাস্তব জীবন থেকে আমি শিখি। তাকে আমি অনুসরণ করি। প্রধানমন্ত্রী হয়ে শেখ হাসিনা যেভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশে যান, রিকশা-ভ্যানে চড়ে যেভাবে মানুষের দুঃখ-দুদর্শা দেখেন, সেখান থেকে আমি শিক্ষা নেই। আমি তো তারই কর্মী।
আপনার এসব কাজে সাড়া পাচ্ছেন কেমন?
আমি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। আমি খুবই অনুপ্রাণিত হয়েছি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় এসব কাজ আমি করে যাচ্ছি। 
কেউ কেউ আবার একে লোক দেখানো বলছেন?
সমাজে মানুষ দুই শ্রেণির। কিছু মানুষ আছে যারা ভালো কাজের মধ্যেও নেতিবাচক কিছু খোঁজে। নিন্দুকরা কী বলল সেটা বড় কথা নয়। আমি আমার কাজ করে যাব। বিচার করবেন জনগণ। মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য আমি এসব কাজ করি না। এলাকার মানুষ জানেন। আমি ধারাবাহিকভাবে দেশ ও জাতিকে নতুন কিছু দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
দুঃস্থ-অসহায়দের নিয়ে সাংগঠনিক বা কাঠামোবদ্ধ কিছু করার পরিকল্পনা আপনার আছে কি না?
আমাদের সরকারেরই এমন কিছু প্রকল্প আছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে অসহায় হতদরিদ্রদের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ আছে। সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। আর আমি তো অসহায় মানুষদের নিয়েই বেশি কাজ করি। সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য আমি কাজ করি।
বর্তমান পরিকল্পনা কি?
আমার এলাকায় এখনও প্রায় ১হাজার কিলোমিটার রাস্তা কাচা আছে, এই ১হাজার কিলোমিটার রাস্তা পাকা করণ করাটাই আমার বর্তমান পরিকল্পনা।
কার দিকনির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছেন আপনি?
জননেত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় আমি কাজ করে যাচ্ছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আমি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছি। মানুষের দোরগোড়ায় সরকারের সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। আমি মনে করি স্বাধীনতার পক্ষের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকা উচিত। দেশের উন্নয়নের জন্য এই সরকারের বিকল্প নেই। দেশের প্রয়োজনেই এই সরকার বারবার দরকার।
রাজনীতির বাইরে, আপনার সৃজনশীল কাজের কথাও জানা যাচ্ছে?
আসলে আমি ছোটবেলা থেকেই গান করি। কবিতা লিখি। সুর করি। মানুষকে আমি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও উৎসাহ জোগাই।
আপনার কোনো প্রকাশনা আছে?
না। আমার সৃষ্টিকর্মগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এগুলোই আমার প্রকাশনা।
সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
আপনাকেও ধন্যবাদ।