২৭, জানুয়ারী, ২০২০, সোমবার | | ১ জমাদিউস সানি ১৪৪১

মৌলভীবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালাল চক্রের হাতে জিম্মি গ্রাহকরা মুজিব বর্ষে বোধন’র নিবেদন আবৃত্তি-নাটকে বাক্ বন্ধন আগামী ২৯ জানুয়ারী রংপুর রেঞ্জের বিশেষ পুরষ্কার পেলেন নীলফামারী সদর থানার মাহমুদ উন-নবী এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক মিলাদ ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত আমতলীর গ্রামীণ জনপদে আলোর পথ দেখাচ্ছেন গ্রাম আদালত লেখাপড়ার পাশাপাশি মানসিক বিকাশে খেলাধুলা অপরিসীম- ফেরদৌসী বেগম আমাদী জায়গীর মহল ত‌কিম উদ্দীন উচ্চ বিদ্যাল‌য়ের এস,এস‌,সি পরীক্ষার্থি‌দের বিদায় ও নবীন বরণ অনুষ্ঠান ২০২০ পালিত সামাজিক ও মানবিক কাজের ব্যতিক্রমী এক অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নলছিটি সিটিজেন ফাউন্ডেশন !

রাউজান পুলিশের অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী আলম ডাকাত গ্রেফতার

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৯

  • Facebook Share
রাউজান পুলিশের অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী আলম ডাকাত গ্রেফতার

কাজী মোহাম্মদ শিহাবুদ্দীন (চট্টগ্রাম প্রতিনিধি) 

চট্টগ্রামের রাউজানে বুধবার ভোররাতে উপজেলার পূর্ব রাউজানের রাবার বাগান সংলগ্ন ঘোড়া শামসুর টিলা এলাকায় রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ কেফায়েত উল্লাহ, উপ পরিদর্শক (এস.আই) সাইমুল ইসলাম, কনস্টেবল কামাল, হামিদ হোসাইনের যৌথ অভিযানে পাহাড়ী দূর্গম এলাকায় অস্ত্র তৈরীর একটি কারখানা থেকে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ডাকাত আলমগীর (৪১) প্রকাশ আলম ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সন্ত্রাসী ও ডাকাত আলমগীর রাউজান পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের পূর্ব রাউজান এলাকার সিদ্দিক চৌধুরী বাড়ির মোহাম্মদ আব্দুল সাত্তারের পুত্র।
সেখান হতে মোট ২০টি অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরীর বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জামাদির মধ্যে রয়েছে, দেশীয় তৈরি ১০টি শর্টগান, ৬টি দেশীয় তৈরি পাইপ গান, তিনটি দেশীয় তৈরি এক নলা বন্দুক, ১টি গ্যাস গান সদৃশ অস্ত্র, পুরাতন ম্যাগজিন ১টি, ৭টি কার্তুজ, ৭টি কার্তুজের খোসা,দেশীয় তৈরী এক নলা বন্দুকের তটি অংশ, কাঠের বাট ২৭টি, ছোট লেদ মেশিন ১টি, তৈলের পাম্প বক্স ১টি, হ্যান্ড ড্রিল মেশিনসহ আরো বেশ কিছু অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ডাকাত সর্দার আলমগীরের নামে রাউজান, পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও থানায় খুন, ডাকাতি ও অস্ত্রমামলা সহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে রাউজান থানা পুলিশ।
অভিযানের সময় রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ কেফায়েত উল্লাহ, উপ পরিদর্শক (এস.আই) সাইমুল ইসলাম, কনস্টেবল কামাল, হামিদ হোসাইন আহত হয়। আহতদের রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহন করেন। তবে ডান হাতের তর্জনীতে ছুরির আঘাত প্রাপ্ত হওয়ায় রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ কেফায়েত উল্লাহকে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে সেখান থেকে নগরে   চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

এই সময় রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ কেফায়েত উল্লাহ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, রাউজানের পূর্ব রাউজানের একটি দূর্গম পাহাড়ে ঘোড়া শামসু টিলার উপর কতিপয় কিছু লোক দেশীয় অস্ত্র তৈরী করে বিক্রি করছে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই খবর পেয়ে রাউজান থানার উপ পরিদর্শক সাইমুল ইসলাম, মহসিন রেজা, শেখ জাবেদ মিয়া, মৃদুল বড়–য়া ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রাত আনুমানিক পৌণে তিনটার দিকে অভিযানে যান রাউজান থানার ওসি কেফায়েত উল্লাহ।  এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আলম ডাকাতসহ তার অনুসারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ১৫ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। পুলিশ আত্নরক্ষার্থে ৫ রাউন্ড গুলি করে। বেশ কিছুক্ষণ গুলি বিনিময় শেষে এ সময় আলম ডাকাত তার হাতে থাকা অস্ত্র ফেলে দিয়ে ধারালো ছুরি হাতে নিয়ে দৌঁড়ে পালানোর সময় রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ কেফায়েত উল্লাহ তাকে ধরে ফেললে সে ওসির হাতে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এ সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও ডাকাত আলমের সহযোগিরা পালিয়ে যায়। পরে আহতাবস্থায় রাউজান থানার ওসিসহ চার পুলিশকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে থানায় ফিরলেও ওসির আঘাত বেশী হওয়ায় তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
রাউজান থানার ওসি কেফায়েত উল্লাহ বলেন, ভাগ্য সহায় ছিল বলে আমরা বেঁচে গেছি। তবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও ডাকাত সর্দার আলমকে গ্রেফতার করায় এলাকার মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। অনেকেই ফোন করে থানার কর্মকর্তাদের সাধুবাদ জানান। স্থানীয় লোকজন জানান, ডাকাত আলম ছিলো এলাকার আতংক। সে কয়েকমাস পূর্বেই জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর নাশকতার উদ্দেশ্যে এই অস্ত্র তৈরীর কারখানাটি গড়ে তুলেছিল। স্থানীয় একটি সূত্র জানায় সে এক সময়ের অধুনালুপ্ত এনডিপির ক্যাডার হিসেবে কাজ করেছিল।
রাউজান থানার ওসি কেফায়েত উল্লাহ জানান, স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে দূর্ঘম টিলার পাদদেশে দুয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবারের বসতি রয়েছে। এই ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারের পর ডাকাত আলমকে জিজ্ঞাসাবাদে সে একেক সময় একেক রকম তথ্য দিচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখার সময় (বিকেল সাড়ে চারটা)রাউজান থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


আরও পড়ুন