আপডেট: ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯

আপডেট:

।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান বিজয় দিবস ২০১৯ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আজ ১৬ ডিসেম্বর, সোমবার সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান। পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান-এর নেতৃত্বে এক বিজয় শোভাযাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিজয় শোভাযাত্রা শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ‘চির উন্নত মম শির’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. জালাল উদ্দিন, শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা পরিষদ, বিভিন্ন অনুষদের ডীন, হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় প্রধানগণ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন।
বিকেলে কর্মসূচীর দ্বিতীয় অংশে গাহি সাম্যের গান মে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ময়মনসিংহ- ৭ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাপতি আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা রুহুল আমীন মাদানী’র উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে পারেন নি। আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় উপাচার্য বলেন, ‘আজকে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মহান বীর মুক্তিযোদ্ধা একেবারেই সরলভাবে কথা বলে গেছেন। আমিও ঠিক একইরকম সরলভাবে কথা বলি। তবে এই সরলতাকে বোকা ভাবা যাবে না, আমরা বোকা না।’ ছাত্র লীগের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি বলেন, ‘আবার যদি আমাদের দেশে কোন যুদ্ধের প্রয়োজন হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি কোন যুদ্ধের ডাক দেন তাহলে প্রথমে যাবে ছাত্র লীগের সৈনিকরা।’ ‘জয় বাংলা’ জাতীয় শ্লোগান হওয়ায় স্বাধীনতা বিরোধীদের গায়ে এখন জ্বালা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবারের সকল শহীদ সদস্য, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ আলী খান, বীর প্রতীক। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সম্মূখ যুদ্ধের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে আক্রমণ করে তাদের অস্ত্র নিয়ে তাদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেছি। হানাদার বাহিনী শুধু আমাদের শত্রু নয়, তারা আল্লাহরও শত্রু। যারা মানুষের উপর এমন নির্যাতন চালাতে পারে তারা তো আল্লাহরও শত্রু।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনি যারা এখনও বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের দেশে এনে শাস্তি কার্যকরের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’ বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাস অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সুব্রত কুমার দে, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সাহাবউদ্দিন এবং অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম। এছাড়া আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি(ভারপ্রাপ্ত) ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ, কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি জনাব মো. মোকারেরম হোসেন মাসুম, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র লীগের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বাবু ও সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল হাসান রাকিব। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. সুজন আলী। একই সাথে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মার্জিয়া আক্তার।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে সংগীত বিভাগ। সবশেষে যাত্রাপালা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ পরিবেশিত হয়। পালাকার ড. আমিনুর রহমান সুলতান, থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব আল্ জাবির নির্দেশিত যাত্রাপালাটির পরিবেশনায় ছিল বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও দিনব্যাপী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মাঝে বিভিন্ন খেলা-ধুলা অনুষ্ঠিত হয়।