১৪, মে, ২০২১, শুক্রবার | | ২ শাওয়াল ১৪৪২

কয়রায় লবনের আগ্রাসন থেকে বাঁচতে চায় কয়রা উপকূলে বসবাস কারি মানুষ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২০

কয়রায় লবনের আগ্রাসন থেকে বাঁচতে চায় কয়রা উপকূলে বসবাস কারি মানুষ

(শাহ্ হিরো স্টাফ রিপোর্টার)
পাউবোর বেড়িবাঁধ  ছিদ্র করে পাইপ বসিয়ে অবৈধ ভাবে লবন পানি উত্তোলন বন্ধের দাবিতে গ্রামবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য,জেলা প্রশাসক,জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাতক্ষীরার দয়িত্বরত কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে।  অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, কয়রা উপজেলার গোবরা পশ্চিমপাড়া গ্রামে লবণ পানির ঘেরের কারণে এলাকার মানুষকে পূর্ব পুরুষের পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ হিসাবে গোবরা গ্রামের মফিজুল শেখ বলেন ১০ বিঘার একটি চিংড়ি ঘেরে সারা বছর একজন কর্মচারী হলেও চলে। কিন্তু ১০ বিঘার কৃষি জমিতে এক মাস ৩৩ জন লোক কাজ করতে পারে। বর্ষাকালে জমি চাষ, ধান লাগানো, ঘাস বাছা, ধান কাটা ও মাড়াই করার জন্য তিন জন মানুষের ৩ মাস ভালোমত কাজ হয়। চিংড়ি ঘেরে ৩৩ জন লোকের কাজ একজন মানুষ করছে। এর ফলে ৩২ জন মানুষকে কাজের জন্য পেশা পরিবর্তন করে অন্য এলাকায় কাজের জন্য যেতে হচ্ছে। কৃষি কাজ ছেড়ে মানুষ এখন দূর দূরান্তের ইটভাটায়, মাটির কাজ, ভ্যান চালানোসহ বিভিন্ন কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। বছরে নয় মাস পুরুষদের বাইরে থাকতে হচ্ছে। ফলে অভিভাবকশূন্য পরিবারগুলোর সব দায়িত্ব পড়ছে নারীদের উপর। কাজের জন্য বাইরে থাকা পুরুষেরা সময় মত সাংসারিক খরচ বাড়িতে পাঠাতে পারছে না। ফলে নারীদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আলী হোসেন বলেন,“লবণ পানির ঘেরের কারণে এ অঞ্চল থেকে  স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও পাখিসহ অসংখ্য প্রাণবৈচিত্র হারিয়ে গেছে। আলামিন ইসলাম বলেন,লবণের আগ্রাসন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য স্থানীয় মানুষেরা আবার তাদের পূর্ব পুরুষের পেশা তথা কৃষি কাজের দিকে ঝুঁকে পড়তে চান। লবণ পানির ঘের শুধুমাত্র কৃষি পেশাকে বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দেয়নি বরং জীব বৈচিত্র্যর জন্য হুমকি স্বরূপ। ঘাটাখালী গ্রামের যুবক এম এম তৈয়েবুর রহমান বলেন, আমরা এলাকার জমির মালিকদের সাথে আলোচনা করছি লবণ পানির ঘের বন্ধ করে ফসল চাষ করা যায় কিনা  ১ বিঘা জমিতে বছরে ৫ হাজার টাকা হারি পাওয়া যায়। বছরে দুইবার যদি ফসল ফলানো যায় এবং ফসলের সাথে সাদা মাছ চাষ করা যায় তাহলে আমরা অনেক লাভবান হবো। মিষ্টি পানিতে হাঁস,মুরগি, গরু ছাগল পালন করতে পারবো। স্থানীয় কৃষক শামছুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কৃষি জমিতে লবণ পানি উঠিয়ে চিংড়ি চাষ করার ফলে জমির মাটিতে লবণাক্ততা বেড়েছে। জমির লবণাক্ততা কাটতে একটু সময় লাগবে। কয়েকটি বর্ষা মৌসুম গেলে জমির মাটির উপরের অংশ ধুয়ে আস্তে আস্তে জমির লবণাক্ততা কেটে যাবে।”তারপর ফসল ভাল ফসল হবে। লবন পানীর আগ্রাসন থেকে বাঁচতে পারবো। নাম না প্রকাশ করার স্বার্থে একাধিক ব্যক্তি জানায়, গোবরা গ্রামের নিজ স্বার্থনেশী কিছু ব্যক্তি পূর্বের পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তা কেটে প্লাষ্টিকের পাইপ কল বসানো ছিল ঐ কল দিয়ে রাতের আধারে লবন পানি উত্তোলন করে এলাকা প্লাবিত করার পায়তারা চালাচ্ছে। অবৈধ পাইপ অপসারন করে লবন পানি মুক্ত পরিবেশে যাতে  ফিরে পায় তার আশা করছে এলাকাবাসি। পাউবোর সেকশান কর্মকর্তা মোঃ মশিউল আবেদিনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। নিউজ সংগ্রহ কারী ওবায়দুল কবির সম্রাট।