২১, আগস্ট, ২০২০, শুক্রবার | | ২ মুহররম ১৪৪২

জয়ের হাত ধরে যুবাদের ইতিহাস

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২০

  • Facebook Share
জয়ের হাত ধরে যুবাদের ইতিহাস

সামিউল্লাহ, (ঢাকা)

টার্গেটটা যখন ২১২, তখনই পোচেস্টর্মে পেয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল জয়ের আবহ। তৃতীয় উইকেট জুটির ৬৮ রানে পথটা হয়েছে সুগম। বাকি দায়িত্বটা পালন করেছেন মাহামুদুল হাসান জয়।

সেমিফাইনালে তার সেঞ্চুরি ( ১২৭ বলে ১৩ চার-এ ১০০)এবং ৪র্থ উইকেট জুটিতে তার নেতৃত্ব দেয়া ১০১ রানে স্বপ্ন পূরন করেছে বাংলাদেশ। হুইলারকে মিড অনে বাউন্ডারির চুমোয় ৩৫ বল হাতে রেখে নিউজিল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ৬ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ।  

 আইসিসির কোন মেগা আসরে ফাইনালিস্টের অতীত ছিল না বাংলাদেশের কোন দলের। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালিস্ট, ওটাই ছিল সেরা সাফল্য। মিরাজের দলের সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে ফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। 

নিউজিল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ যুবাদের সাম্প্রতিক রেকর্ডটা ভালই। গত অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের বিপক্ষে ৪-১ এ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের নিকট অতীত থেকে টনিক নিয়ে ফেভারিট মর্যাদায় অবতীর্ন হয়েছে বাংলাদেশ দল বৃহস্পতিবার। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পোচের্স্টমে বেজ ক্যাম্পে এমনিতেই ভেন্যুটির সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছে আকবর আলীর দল। সেই পোচেস্টর্মে গ্রুপ রাউন্ডের ৩ ম্যাচ এবং সেমিফাইনালে খেলে হোম আমেজ পাওয়া ম্যাচে  টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে পাওয়ার প্লে তে দারুন বল করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ২৬/১ এ আটকে রেখেছে নিউজিল্যান্ডকে। তবে শ্লগে নিউজিল্যান্ড যুবারা চড়াও হয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের উপর। শেষ ৬০ বলে যোগ করেছে কিউই যুবারা ৭২ রান। শেষ ৩০ বলে ৪৪ ! তাতেই নিউজিল্যান্ড স্কোর টেনে নিয়েছে ২১১/৮ পর্যন্ত। 

নিউজিল্যান্ডের লোয়ার অর্ডার ব্যাটিং শক্তিশালী। তা এদিনও জানিয়ে দিয়েছে তারা পোচেস্টর্মে। ৫ম উইকেট জুটির ৯০ বলে ৬৭-ই দলটিকে ২’শর স্বপ্ন দেখিয়েছে। লোয়ার অর্ডার হুইলার বেকহ্যাম একাই গড়ে তুলেছেন দেয়াল। অফ স্পিনার পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে ও রাখতে পারেন অবদান।

চলমান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৮০ রানের ম্যাচ উইনিং ইনিংসের পর সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮৩ বলে ৫ চার,২ ছক্কায় ৭৫ রানের হার না মানা ইনিংসটাই বাংলাদেশ যুবাদের জন্য কঠিন করে দিয়েছে ম্যাচটি। বাঁ হাতি স্পিনার রকিবুলের বোলিংয়ে সতর্ক ব্যাটিং করেছে নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যানরা ( ১০-৩-৩৫-১)। পেস বোলার শামীম পেয়েছেন ২ উইকেট (২/৩১)। অপর পেস বোলার শরীফুল সেমিফাইনালে পেয়েছেন ৩ উইকেট (৩/৪৫)। ৪ ওভারের প্রথম স্পেলে ২টিই পেয়েছেন মেডেন, উইকেটহীন এই স্পেলে খরচা মাত্র ৭ রান। 

এমন এক ম্যাচে ওভারপ্রতি ৪.২৩ রানের টার্গেট কঠিন হতে দেয়নি কখনো বাংলাদেশ। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে তে ২ ওপেনারকে হারিয়েও করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৪২। ইনিংসের মাঝপথে তৌহিদ হৃদয় (৪০)-মাহামুদুল হাসান জয় এর ৬৮ এবং মাহামুদুল হাসান জয়-শাহাদত  হোসেনের ১০১ রানের জুটিতে দ.আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশ উড়িয়েছে লাল-সবুজ পতাকা। তাসকাফকে সুইপে বাউন্ডারির চুমোয় সেঞ্চুরি উদযাপনের পরের বলে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে যখন ফিরে এসেছেন জয় (১২৭ বলে ১৩ চার এ ১০০) তখন জয় থেকে ১১ রান দূরে বাংলাদেশ। বাকি কাজটা সেরেছেন শাহাদত (৪০ নট আউট) -শামীম (৫ নট আউট)।