১৮, এপ্রিল, ২০২১, রোববার | | ৬ রমজান ১৪৪২

চায়ের আড্ডায় করোনা প্রসঙ্গ, ঘরে থাকছে না গ্রামাঞ্চলের লোকজন!

আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০২০

  • Facebook Share
চায়ের আড্ডায় করোনা প্রসঙ্গ, ঘরে থাকছে না গ্রামাঞ্চলের লোকজন!


 হাসানুজ্জামান হাসান,লালমনিরহাটঃ 

বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া লোকজনকে ঘরের বাহিরে না যেতে সরকারিভাবে বলা হলেও তা মানছে না গ্রামের লোকজন। গ্রামবাসীর চলাচল প্রায় আগের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে শহরের তুলনায় সংক্রামনের ভয়াবহতা গ্রামে বেশি ছড়ানোর শঙ্কা। প্রশাসনের লোকজন এলে ছত্রভঙ্গ হলেও পরক্ষনেই আড্ডায় মেতে উঠছে গ্রামবাসী। প্রায় প্রতিদিনই হাটবাজারগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কিছু ব্যবসায়ীর জরিমানা আদায় করছেন প্রশাসন। দিনমজুর শ্রমজীবি ও ছিন্নমুল মানুষদের জন্য সরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হলেও মানুষকে ঘরে আটকানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকারের সকল পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বসেছে সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটের গ্রামগুলোতে।
গ্রামের মাঠ-ঘাট, হাট-বাজার, সড়কের মোড়ে মোড়ে জমে উঠেছে মানুষের খোঁশ গল্পের আড্ডা। এসব আড্ডায় করোনা ভাইরাস সংক্রামন নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চললেও নেই তাদের মাঝে সচেতনতা। এ গ্রাম সে গ্রাম বা এ পাড়া সে পাড়ায় অবাদে ঘুরে বেড়াচ্ছে মানুষ। ভিক্ষাবৃত্তিও বন্ধ হয়নি। সরকারিভাবে ছিন্নমূল মানুষদের জন্য দুইশত মেট্রিক টন জিআর চাল ও নগদ ১০লাখ ৩৫ হাজার টাকা অর্থ বরাদ্ধ বিতরণ করছে জেলা ত্রাণ শাখা। মজুদ রয়েছে ৩০৭ মেট্রিক টন চাল ও ৩লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা। 
হাট বাজারের বিষয়ে কৃষিপণ্য হিসেবে তামাক ক্রয় বিক্রয় অব্যহত রয়েছে। এসব তামাক হাটে সমাগম ঘটে কয়েক হাজার মানুষের। সংশ্লিষ্ট হাটের ইজাদার ও জনপ্রতিনিধিদের ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
ছুটি পেয়ে গ্রামে চলে আসা ঢাকা বা চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা ফেরত মানুষরাও মানছেন না হোম কোয়ারেন্টাইন কিংবা সামাজিক দূরত্ব। ফলে গ্রামের পরিবেশ অনেকটাই শ্বঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রামন রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিকল্প নেই। বিদেশফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা গেলে ঢাকা ফেরতরা তা মানছেন বলে শোনা যাচ্ছে। যা সংক্রামিত করতে পারে। এজন্য সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখা জরুরি বলে দাবি করেন তিনি।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, বিক্রয় যোগ্য পণ্যের দোকানেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। তামাকের ক্ষেত্রে অনেক জায়গা লাগে তাই ইজারাদার ও জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।