১০, মে, ২০২১, সোমবার | | ২৮ রমজান ১৪৪২

কলাপাড়ায় চার হাজার ভুয়া কার্ডধারী, ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম

আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২০

কলাপাড়ায় চার হাজার ভুয়া কার্ডধারী, ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি ঃ কলাপাড়ায় ১০টাকা কেজি দরের ফেয়ারপ্রাইস কার্ডের অন্তত চার হাজার দরিদ্র ব্যক্তির চাল কালোবাজারে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডিলাররা মার্চ মাসের চাল উত্তোলন করে এ পরিমান চাল বিক্রি করে দিয়েছে। সংশ্লিস্ট তদারকি কর্মকর্তারা এ কাজে সরাসরি জড়িত রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ডিলার এবং তদারকি কর্মকর্তাদের এমন আচরনে বিতর্কিত হচ্ছে সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি।

কলাপাড়ার ১২টি ইউনিয়নে সুবিধাভোগীর মধ্যে রয়েছে ২০ হাজার ১৫৩ জন কার্ডধারী। যারা বছরের মার্চ-এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নবেম্বর মাসে জনপ্রতি ১০ টাকা দরে ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু চলতি বছরের পাঁচ মাসে অন্তত তিন সহ¯্রাধিক কার্ডধারীর প্রায় ৬০ টন চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেয়। কার্ডধারী তিন সহ¯্রাধিক মানুষ জানেন না তাদের নামে এ চালের বরাদ্দ রয়েছে। তালিকায় নাম রয়েছে এমন হাজারো মানুষকে তাদের কার্ড হাতে দেয়া হয়নি ৩২ ডিলার। বছরের পর বছর এভাবে শতশত টন চাল কালোবাজারে বিক্রি করেছে ডিলাররা। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে বিত্তবান, একই পরিবারের একাধিক ব্যাক্তি, এমনকি সামাজিক সুবিধা পাওয়া ব্যক্তির নামও রয়েছে এ তালিকায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, লালুয়ায় ফেয়ার প্রাইস কার্ডের সুবিধাভোগীর নাম রয়েছে ১৫৯৬ পরিবার। দরিদ্র মানুষ এ সুবিধা পাওয়ার নিয়ম থাকলেও তালিকা তৈরিতে করা হয়েছে চরম অনিয়ম। লালুয়ার পশুরবুনিয়া গ্রামের জেলে সেলিম ফরাজীর তালিকায় নাম থাকলেও তাকে কোন কার্ড অদ্যাবধি দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেনও না। অথচ মাসের পর মাস তার নামে চাল উত্তোলন দেখিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। ডিলারের দোকানে কার্ডধারীর নামের তালিকা ঝুলিয়ে রাখতে হবে প্রশাসনের এমন নির্দেশনার পরও কোন ডিলারের দোকানে এটি দৃশ্যমান পাওয়া যায়নি।

ইউপি সদস্য ইউনুচ ফরাজি জানান, তার ওয়ার্ডের অন্তত ৪০ জনের নাম তালিকায় থাকলেও ওইসব ব্যাক্তি কোনদিন চাল তোলেননি এবং এর কিছুই জানেন না। এভাবে লালুয়ার একটি ওয়ার্ডে কার্ড দেয়া হয়নি এমন নাম রয়েছে অন্ত:ত ৩০০ জন। বছরের পাঁচ মাস এ চাল উত্তোলন দেখিয়ে বিক্রি করা হয়েছে।

অপরদিকে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারার মাখন লাল বিশ^াসের নাম রয়েছে তালিকায়। অথচ এ দরিদ্র মানুষটিকে মার্চ মাসের চাল দেয়া হয়নি। তার কার্ডটি পর্যন্ত নেই। কবে চাল পেয়েছেন তার মনে নেই। নীলগঞ্জের ২৭৬৭ জনের সকলের বিতরণের মার্চ মাসের চাল তিন জন ডিলার তুলে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। একই দশা মিঠাগঞ্জের ৬৫০ নম্বর তালিকার ব্যক্তির। মিঠাগঞ্জ, নীলগঞ্জ, চাকামইয়া, টিয়াখালী, ধুলাসার, বালিয়াতলী, চম্পাপুর, ধানখালী, মহিপুর, লতাচাপলীসহ সকল ইউনিয়নের একই অবস্থা ।

কলাপাড়া উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বিএম শফিকুল ইসলাম জানান, অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে তালিকা সংশোধন করা হয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমানে আবার নতুন করে তালিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।