১৪, মে, ২০২১, শুক্রবার | | ২ শাওয়াল ১৪৪২

অসহায় নারীকে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের দোকান উপহার বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১

অসহায় নারীকে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের দোকান উপহার বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর

টাঙ্গাইলে স্বামী পরিত্যক্তা অসহায় এক নারীকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি দোকান উপহার দিলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। উপহার পাওয়া ওই দোকানে আনুষ্ঠানিকভাবে চা বিক্রিও শুরু করেছেন ওই নারী। দোকানটির মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। স্বামী পরিত্যক্তা চায়না বেগমকে (৪৫) উপহারস্বরূপ দোকানটি দেয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফিতা ও কেক কেটে উপহার দেয়া দোকানের উদ্বোধন করেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও তার সহধর্মিণী নাসরিন সিদ্দিকী।

স্বামী পরিত্যক্তা চায়না টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের (৮০) মেয়ে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০ বছর আগে কালিহাতী উপজেলার মগড়া গ্রামের আনছের আলী ছেলে কদর আলীর (৫০) সঙ্গে চায়না বেগমের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের মাত্র দুই বছর যেতে না যেতেই পাঁচ মাসের মেয়েসহ চায়নাকে ছেড়ে যান স্বামী। শিশু মেয়েকে নিয়ে চায়না বেগমের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্দশা। একমাত্র মেয়েকে লালন-পালন করার ভাবনায় ১৩ বছর আগে গ্রামের বাড়ি থেকে চলে আসেন টাঙ্গাইল পৌর শহরের পশ্চিম আকুরটাকুর পাড়ায়।

সেখানে ৮০০ টাকায় ছোট একটি ঘর ভাড়া নেন। এরপর শহরের কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের বাসভবন ‘সোনার বাংলা’ এবং টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাব ভবনের মাঝখানে শুরু করেন চায়ের দোকান। প্রতিদিন যা আয় হয় তা দিয়েই চলে চায়না বেগমের সংসার।

সংসারের অভাব-অনটনের কারণে ২০১৩ সালে অপ্রাপ্ত বয়সেই একমাত্র মেয়ের বিয়ে দেন টাঙ্গাইল পৌর শহরের সন্তোষের বালুচড়া এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে আল-আমিনের সঙ্গে। এক বছর পরই তার মেয়ের সংসারে জন্ম নেয় একটি কন্যাসন্তান। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় কন্যাসন্তানও আসে এই সংসারে। এরপরই মেয়েজামাই আল-আমিন বায়না ধরেন বিদেশ যাওয়ার। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে আর মেয়েজামাইয়ের বিদেশ যাওয়ার বায়নায় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধারদেনা করে প্রায় তিন লাখ টাকা এনে দেন চায়না। ২০১৮ সালে টাকা পেয়ে বিদেশে পারি জমান মেয়েজামাই। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ নেই মেয়েজামাই আল-আমিনের।

তবে চায়না বেগম শুনেছেন, তার মেয়েজামাই আরেকটি বিয়ে করেছেন। এরপর আবার নেমে আসে তার জীবনে অন্ধকার। মেয়ে এবং নাতনিকে লালন-পালন করতে আবার শুরু হয় সংগ্রাম।

এরই মধ্যে কাদের সিদ্দিকীর সহধর্মিণী নাসরিন সিদ্দিকীর নজরে আসে চায়নার জীবন-সংগ্রাম। তিনি স্বামীকে বিষয়টি জানান এবং চায়নার জন্য একটি দোকানের ব্যবস্থা করে দিতে বলেন।

স্ত্রীর কথা শুনে কাদের সিদ্দিকী তার নিজ বাসভবনের নিচতলার মার্কেটে ও নিজ খরচে টাইলস, লাইটিং, পানির লাইন এবং অন্যান্য আসবাবপত্র দিয়ে সাজিয়ে চায়না বেগমকে উপহার দেন একটি দোকান।

প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের দোকানটি উপহার পেয়ে চায়না বলেন, ‘স্যার (কাদের সিদ্দিকী) এবং ম্যাডাম (নাসরিন সিদ্দিকী) দোকানটি আমাকে উপহার দিয়েছেন। শুধু দোকানই নয়, আমার মেয়ে ফাতেমাকে (১৫) একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমি এবং আমার মেয়ে যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন আল্লাহর কাছে তাদের জন্য দোয়া করে যাব।’

দেশবাসীর কাছেও তাদের জন্য দোয়া চেয়েছেন চায়না বেগম।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘চায়না খুবই অসহায়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এবং তার স্ত্রী দেখে আসছেন চায়না বেগম দিন-রাত ফুটপাতে বসে চা বিক্রি করছেন। তিনি যাতে ভালোভাবে চলতে পারেন, এজন্য স্ত্রীর পরামর্শে আর অনুরোধে চায়নাকে দোকানটি উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছে।’