আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০১৯

আপডেট:

স্টাফ রিপোর্টার// ময়মনসিংহ// যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এয়াকুব আলী খান আসন্ন ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি সময়ের কন্ঠ পত্রিকার প্রতিনিধির সাথে তাঁর যোদ্ধের অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন অর্জন সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেন।
৭১ এর রনাঙ্গনের এ যোদ্ধা বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বশরীরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ভারতের শিববাড়ি ইয়ুথ ক্যাম্প থেকে ১ মাসের ট্রেনিং গ্রহণ করে ১২৫ জনের কোম্পানি কমান্ডার এর দায়িত্ব নিয়ে মাহেন্দ্রগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে অবস্থান করেন। মেজর তাহেরের নির্দেশে আরও কয়েকটি কোম্পানির সাথে মিলে ধানুয়া কামালপুর নামক স্থানে পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। উক্ত যুদ্ধে তিনিসহ মোট এগারোজন গুরুতর আহত হন এবং ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। আহত হয়ে তুরা আর্মি ক্যাম্পে ১৫ দিন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর, ক্যাপ্টেন আব্দুল মান্নানের কাছে ৫ দিনের ছুটি নিয়ে শিববাড়ি ক্যাম্পে যান। সেখান থেকে ৬ জন যোদ্ধাকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়িতে পৌঁছান।
নিজ বাড়িতে পৌঁছেও বিশ্রাম নিতে পারেননি তিনি। তিনি জানতে পারেন মেকিয়াকান্দা নামক স্থানে ৪০ জন রাজাকার অবস্থান করছে। এ সময় তিনি একটি ব্রিটিশ এলএমজি ও অন্য ৬ জন মুক্তিযোদ্ধা রাইফেল ও হ্যান্ডগ্রেনেড নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। এক ম্যাগজিন ব্রাশ ফায়ার করার পর এক পর্যায়ে ৪০ জন রাজাকার আত্মসমর্পণ করে।
১৯৭৩ সালে তিনি প্রথম ইউপি ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ভাইস-চেয়ারম্যান পদ বিলুপ্ত হওয়ার পর এলাকাবাসী তাঁকে মেম্বারের দায়িত্ব দেয়। ১৯৯১ সালে ইউপি নির্বাচনে তিনি বাঘবেড় ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি সফলভাবে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এয়াকুব আলী দলের দুঃসময়েও হাল ছাড়েননি, সারা জীবন আওয়ামী লীগেই ছিলেন।
২০০৪ সালে হজ্জ করার পর তিনি হাজী কল্যাণ সমিতির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একইসাথে এ শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তিত্ব মুন্সির হাট মুসলিম ইনস্টিটিউশনের সভাপতি ও মুন্সির হাট ফাজিল মাদ্রাসার বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রবীণ এ নেতা ধোবাউড়া উপজেলাবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে এবার উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান হতে চান। এলাকাবাসীর সাথে মিলেমিশে তাদের দুঃখ দূর করতে চান। সেজন্য তিনি তার কৃতিত্ব ও ত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ আওয়ামীলীগের মনোনয়নের জন্য জোর দাবি জানান।