২২, আগস্ট, ২০২০, শনিবার | | ৩ মুহররম ১৪৪২

অসম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ বাংলাদেশ গ্রাম প্রতিরক্ষা পদক পেয়েছেন সাহাদাত হোসেন

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯

  • Facebook Share
অসম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ বাংলাদেশ গ্রাম প্রতিরক্ষা পদক পেয়েছেন সাহাদাত হোসেন

জনাব মোঃ সাহাদাত হোসেন সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানার পারুলিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৮৩ সালের ১২ আগস্ট খ্রিষ্টাব্দ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বীর মুক্তিযাদ্ধা মোঃ আতিয়ার রহমান ও মোছাঃ পারভীন আক্তারের দ্বিতীয় পুত্র। তার পিতা মোঃ আতিয়ার রহমান ছিলেন বাংলাদেশ লিবারেশন্স ফাইটার্স অর্থাৎ মুজিব বাহিনীর একজন গ্রুপ লিডার ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ০৯ নং সেক্টরের অন্যতম সংগঠক। তার পিতা দেবহাটা উপজেলায় সর্ব প্রথম পাক হানাদারদের উপর হামলা চালান। তার পিতা মোঃ আতিয়ার রহমান ০৯ নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন শাহাজাহান মাস্টারের অন্যতম সহযোগী যোদ্ধা ছিলেন। মোঃ সাহাদাত হোসেন পারুলিয়া সাগর সাহা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় উত্তীর্ন হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০০৭ সালে স্নাতক ও ২০০৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০১২ সালের ০৩ জুন খ্রিষ্টাব্দ তারিখে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস ক্যাডারের ৩০তম ব্যাচে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি ২০১৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ইন হিউম্যান সিকিউরিটিতে আবারও মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি পার্বত্য চট্রগ্রামে অত্যন্ত সাফল্যের সাথে বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতে প্রায় ০৩ বছর যথাক্রমে ২১ এবং ১৫ আনসার ব্যাটালিয়নের ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে ইটালী, জার্মানী, ভ্যাটিক্যান সিটি, পোল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও ভারত সফর করেন। 
অত্যন্ত মেধাবী ও তরুণ এই কর্মকর্তা ছাত্রজীবনে সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, মাদক ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ কলেজ তথা দেবহাটার ছাত্র সমাজকে নেতৃত্ব দেন। স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রানিত এই কর্মকর্তা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির নির্বাচন মনিটরিং সেলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সাতক্ষীরা জেলা জন সমিতির আজীবন সদস্য এবং এলাকার সামাজিক সংগঠনগুলোকে উৎসাহ ও সহযোগিতা করে থাকেন। ছাত্রজীবনে তিনি আন্তজার্তিক মানবতাবাদী সংগঠন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং এই সংগঠনের আয়োজনে তিনি দীর্ঘ ০১ মাস ইতালিতে সাংগঠনিক কাজে সফর করেন। বর্তমানে তিনি বিসিএস আনসার এসোসিয়েশনের একজন নির্বাচিত সদস্য। 
তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে “অসম  সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ ”  কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে বাংলাদেশ গ্রাম প্রতিরক্ষা দল পদকে ভূষিত হন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-পরিচালক মনিটরিং এবং মহাপরিচালকের স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মূলত তিনি প্রায় দেড় বছর যাবত গোটা বাহিনীর গোয়েন্দা প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। এর পূর্বেও অত্যন্ত দক্ষতা ও সাফল্যের সাথে তিনি গোয়েন্দা শাখার সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেন এবং পাশাপাশি আইসিটি শাখায় সিস্টেম এনালিষ্টের দায়িত্ব পালন করেন। মেধাবী এই কর্মকর্তা চাকরি জীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে সিভিল ও মিলিটারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি গোয়েন্দা কার্যক্রমের উপর আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন (এএফডি) এবং সামরিক গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) থেকে কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক।