আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৮

আপডেট:

বামনা প্রতিনিধিঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনার বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগীতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন প্রধান দুইটি দলের নেতাকর্মীরা। মনোনয়ন প্রত্যাশিরা মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। ১১০-বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসন একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে এটি দখলে নেয় আওমীলীগ। তবে এ আসন পুনরায় দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি। এক্ষেত্রে বিএনপি একজন শক্তিশালী নেতা পেয়েছে। তিনি হলেন কেন্দ্রীয় দলের ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড.খন্দকার মাহবুব হোসেন।
আওয়ামীলীগের বর্তমান এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত:নেই।বাবার বিরুদ্ধে যুদ্ধপরাধীর অভিযোগ এছাড়াও নিজ হাতে দলীয় নেতা-কর্মীদের মারধরেরও একাধিক অভিযোগ আছে। উপজেলা,ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নিজ দলের নেতাদের সাথেও তার সু-সম্পর্ক নেই বললেই চলে। আর এ সুযোগে জনসম্পৃক্ততায় শীর্ষে অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন আওয়ামী যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগের তরুন নেতা সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার।
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে আওয়ামীলীগের মনোনয়নের তালিকায় নাম উঠে এসেছে সুভাষ হাওলাদারের। এলাকায় দুস্থ-দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি, শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্ম সংস্থান, রিক্সাচালকদের দান-অনুদান প্রদান এবং মসজিদ, মন্দির, বিদ্যালয় ও সামাজিক সেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে মান-উন্নয়নে অগ্রনী ভূমিকা রয়েছে তার।
অন্যদিকে, আওয়ামীলীগ তথা সরকারের দমন নিপীড়ন গুম-খুন, মামলা, হামলা, জেল জুলুম, মিছিল, সভা-সমাবেশে বাঁধাসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র নেতাকর্মীরা হাতছাড়া হওয়া আসনটি পূর্নরায় দখলে নেওয়ার আশায় বুকভেদে মাঠে নেমেছেন।
বরগুনার তিনটি আসনকে ভেঙে ২০০৮ সালে দুটি আসন করা হয়। পাথরঘাটা-বামনা ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে গঠিত ১১০ বরগুনা-২ আসন। এখানে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ত্রি-ধারায় বিভক্ত রয়েছে। আর বিএনপি কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে বলে শোনা যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ : বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন, আওয়ামী যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতা সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, সাবেক এমপি গোলাম সবুর টুলুর কন্যা ফারজানা সবুর রুমকি, এ্যার্টনি জেনারেল ও বামনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড.মো: হারুন অর-রশীদ,
এ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বর্তমান সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন বলেছেন, নেতা-কর্মীদেও সাথে তার সু-সম্পর্ক আছে।
অন্য দিকে যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সভাপতি আমাকে মনোনয়ন দিলে মানুষের অসীম ভালবাসা ও সহযোগীতায় বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসনটি পুন:রায় নেত্রীকে উপহার দিতে পারবো। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষে এলাকায় সাধারন জনগনের সেবা ও কল্যানে কাজ করে যাচ্ছি।
বিএনপি : আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী, দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট আইনজ্ঞ অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য আলহজ্ব নুরুল ইসলাম মনি, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক ও বরগুনা জেলা বিএনপির যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট মো: ছগির হোসেন লিওন, কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতা ও বরগুনা জেলা বিএনপির যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক মো: মনিরুজ্জামান মনির, কেন্দ্রেীয় ওলামা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক লন্ডন প্রবাসি মাওলানা শামীম আহম্মেদ প্রমুখ।
এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট আইনজ্ঞ অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন শক্তপ্রার্থী হিসেবে এবারও পূনরায় খন্দকার মাহবুব হোসেনকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে মনে করছেন অধিকাংশ বিএনপি নেতা-কর্মী।
এছাড়া আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী গোলাম সরোয়ার হিরু।