১৪, মে, ২০২১, শুক্রবার | | ২ শাওয়াল ১৪৪২

সিন্ডিকেট সভার ফলাফল নেই, অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধে ববির শিক্ষার্থীরা

আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০১৯

সিন্ডিকেট সভার ফলাফল নেই, অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধে ববির শিক্ষার্থীরা

(ববি প্রতিনিধি:বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ( ববি) উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হকের  পদত্যাগ চেয়ে মুখে কাফনের কাপড় বেঁধে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ করল  আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা  । গতকাল সন্ধ্যায়  ঢাকার কলাবাগান লিয়াজো অফিসে এক জরুরী সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল এই সিন্ডিকেট সভায় উপাচার্য কে পদত্যাগ করার জন্য বাধ্য করা হবে।সিন্ডিকেট সভায় পদত্যাগের কোনো ফলাফল আসেনি। সিন্ডিকেট সভায় শেষে এধরণের কোন ফলাফল দেখতে না পেয়ে গভীর রাতে তিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা আলোচনায় বসে। সিন্ধান্ত নেয় বুধবার সকাল ১১ টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কালের জন্য রাস্তা অবরোধ কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। যতক্ষণ না উপাচার্য পদত্যাগ করছেন, ততক্ষণ রাজপথ ছাড়বেন না। 
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি শিক্ষার্থীরা সকাল ১১ টা থেকে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-পটুয়াখালি মহাসড়ক অবরোধ করেন । বৈরি আবহাওয়া, ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মহাসড়কে অবস্থান করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে যানচলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। বরিশালের সাথে পটুয়াখালি, বরগুনা, ভোলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে । এসময় শিক্ষার্থীরা জরুরী পরিবহন, যেমন অ্যাম্বুলেন্স,বিভিন্ন এনজিও,ঔষুদের গাড়িগুলো যেতে দিচ্ছে । এর আগে সকাল ৯ টা থেকেই  শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলায় অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করে। উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মার্কেটিং   বিভাগের শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন বলেন,”আজ ১৬ দিন ধরে উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছি। কার্যত অচল রয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা দুই দুই বার উপাচার্য কে আন্টিমেটাম দিয়েছি। দু:খের বিষয় তিনি আমাদের কথা আমলেই নিচ্ছেন না। গতকাল সিন্ডিকেট সভায় আমরা আশা করেছিলাম উপাচার্য কে পদত্যাগের জন্য বাধ্য করা হবে। কিন্তু তা করা হয়নি। তাই আমরা আজ কাফনের কাপড় মুখে বেঁধে অনির্দিষ্টকালের কালের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছি। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ছি না। হয় উপাচার্য স্যার ববিতে থাকবেন। না হয় আমরা থাকবো।”
গত ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে উপাচার্যে চা চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন করে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে বিইউডিএস এর এক অনুষ্ঠানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী দের রাজাকার বললে আন্দোলন বেগমান হয়।বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসনে  গত শনিবার বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা ভেস্তে যায়। উপাচার্য কে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর আশ্বস্ত করলেও শিক্ষার্থীরা তা লিখিত চেয়ে আন্দোলনে অনড় রয়েছেন।