১৯, আগস্ট, ২০২০, বুধবার | | ২৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

আমাদের বিচক্ষণ ক্ষমতা লোপ পাচ্ছে

আপডেট: এপ্রিল ১৩, ২০১৯

  • Facebook Share
আমাদের বিচক্ষণ ক্ষমতা লোপ পাচ্ছে

খুরশিদ জামান কাকন// এইতো কিছুদিন আগের আগের কথা। কয়েকজন বন্ধু মিলে বাংলাদেশের বিখ্যাত একজন লেখকের বাড়িতে গেলাম। উদ্দ্যেশ্য ছিলো লেখকের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ঘুরেফিরে দেখা। লেখকের জীবনী সম্পর্কে ধারনা নেওয়া। সেই লক্ষে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করি।


বাড়ির একপাশে কংক্রিটের ব্রেঞ্চ, কৃত্রিম পশু-পাখি ও বাগানে বেশ সাজানো হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য উপভোগ্য একটা পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। সবাই সেদিকেই ছুটলো। ব্যস্ত হয়ে পড়লো ছবি উঠাতে। অন্যদিকে আমি লেখকের স্মৃতিবিজড়িত গোটা বাড়ি ঘুরেফিরে দেখতে লাগলাম। লেখকের শৈশব সম্পর্কে ধারনা নেওয়ার চেষ্টা করলাম। পুরনো দিনের শিল্পকর্ম দেখতে থাকলাম।
সময় একেবারে শেষ পর্যায়। সবাই বের হতে লাগলাম। এমন সময় আমার এক বন্ধুকে  জিজ্ঞেস করলাম। আমরা এখানে কেনো এসেছি? সে জানালো, কেনো আবার লেখকের বাড়ি দেখতে। তাহলে কি আমরা লেখকের বাড়ি দেখলাম? নাকি শুধু এলাম, ঘুরলাম আর ছবি তুললাম? আমার এমন প্রশ্নে সে অনেকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেলো। উত্তরে কিছুই বলতে পারলো না।


আজকাল আমাদের মানসিকতায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। আগে আমরা ঘুরতাম ফিরতাম মনের আনন্দের জন্য। সময়টাকে বেশ উপভোগ্য গড়ে তোলার জন্য। আর এখন আমরা ঘুরিফিরি শুধুমাত্র ছবি তোলার জন্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে উপস্থাপন করার জন্য। আগে আমরা নিজেদের আনন্দের মুহূর্ত গুলো স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ফ্রেমবন্ধি করতাম। আর এখন আমরা ফ্রেমবন্ধি করার জন্য মিছে আনন্দের বন্দোবস্ত করি। আমরা কেনো জানি বদলে যাচ্ছি। দিনেদিনে আমাদের মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটছে। যা আমরা হয়তো অনেকে আচ করতেও পারছি না। 
আমরা সস্তা বিনোদনের পিছনে ছুটছি। নিজেকে জাহিল করার নেশায় ভুলে পথে পা বাড়াচ্ছি। এরই ফলশ্রুতিতে লোপ পাচ্ছে আমাদের বিচক্ষণ ক্ষমতা। সেই সঙ্গে হারাচ্ছি নিজেদের চিন্তাচেতনা ও সৃজনশীলতা।