২০, আগস্ট, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ১ মুহররম ১৪৪২

সবুজ ক্যাম্পাসে তারুণ্যের জয়গান

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৮

  • Facebook Share
সবুজ ক্যাম্পাসে তারুণ্যের জয়গান

সৈয়দ জাহিদ হাসান, সিকৃবিঃ সিলেটে চারিদিকে টিলাঘেরা সবুজে মোড়ানো ৫২ একরের প্রাণোচ্ছল ক্যাম্পাস সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ১২ বছরের নবীন এই ক্যম্পাস তবুও শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি এবং খেলাধুলায় অন্য যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতি বছর এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করা ছাত্র-ছাত্রীরা বিসিএস, সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যংক, বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সহ বিদেশের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রেও নিজেদের মেধা আর অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। এছাড়াও প্রতিবছরই  এই বিশ্ববিদ্যালইয়ের ছাত্রছাত্রীরা অর্জন করছে প্রধানমন্ত্রী স্বরপদক সহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণামূলক বৃত্তি।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের স্বেচ্ছায় অংশগ্রহনে নিয়মিত চলছে বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজ। প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীই এসব গবেষণায় তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখছে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা । এই সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চাই সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্য যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করেছে। সুস্থ সংস্কৃতির চর্চাই পারে একটি দেশকে বিশ্বের বুকে পরিচয় করাতে, টিকিয়ে রাখতে পারে দেশের সংস্কৃতি।

৫২ একরের ছোট ক্যাম্পাস হলেও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে প্রায় ২০ এর অধিক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্লাব। এসব ক্লাব ধরে রেখেছে তাদের স্বকীয়তা। প্রতিটি ক্লাব তাদের সাংস্কৃতিক ও সমাজ গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে সারা ক্যাম্পাসকে মুখরিত করে রেখেছে।

বিনোদন সংঘ– সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একটি ক্লাব যেখানে নিয়মিত সংস্কৃতির চর্চা হয়, আয়োজন করা হয় বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান ।

কৃষ্ণচূড়া সাংস্কৃতিক সংঘ – এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সক্রিয় একটি ক্লাব। প্রতিবছর তারা প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা করে। যেখানে সবাই নিজেদের প্রতিভাগুলো বিকশিত করার সুযোগ পায়। নিয়মিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি – দক্ষ বিতার্কীক তৈরিতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির নাম অনেকেরই জানা।

লুব্ধক থিয়েটার – মঞ্চ নাটকের নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ইতোমধ্যে কয়েকটি নাটকের মঞ্চায়নের করে নিজেদের নাম লেখিয়েছে জাতীয় দৈনিকে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আর্ট ক্লাব – দেশের বৃহত্তম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ক্যানভাস “জয় বাংলা ক্যানভাস” তৈরি করে সারা দেশকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল কাজের জানান দেয়। জাতীয় দৈনিক সহ ট্বলিভিশন চ্যানেলেও প্রচার হয় তাদের এই অসাধারন কাজ।

মৃত্তিকা –  একমাত্র ক্লাব যারা সিলেট এলাকায় কৃষি এবং কৃষকদের নিয়ে কাজ করে। তারা বাংলাদেশ বেতার সিলেটে নিয়মিত কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান শ্যামল সিলেটে কাজ করে থাকে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম সোস্যাইটি – প্রতিবছর “আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভাল” আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে পরিচিত করানোর কাজ করে যাচ্ছে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোস্যাইটি – ইতোমধ্যে কয়েকটি “জাতীয় ফটোগ্রাফি এক্সিবিশনের” আয়োজন করেছে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি –  বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পৌছে দেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে চলেছে।

এছাড়াও অন্যান্য ক্লাব যেমন ট্যূরিস্ট ক্লাব, বাঁধন, ক্যারিয়ার ক্লাব, ইনোভিশন টিম, প্রাধিকার, বন্ধুসভা সহ আরো বেশ কিছু ক্লাব রয়েছে। এসব সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্লাবগুলো ছাত্রছাত্রীরা নিজারাই পরিচালনা করে । এর ফলে তাদের মধ্যে গড়ে উঠছে নেতৃত্বের গুণাবলি । এছাড়াও এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বেশ সংস্কৃতি প্রেমী। প্রতিবছর ৬ টি অনুষদ আলাদা আলাদা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সনম। ক্যাম্পাস তাঁর কাছে ক্যামন লাগে জানতে চাইলে সে জানায়, প্রথমে অনেক আশা নিয়ে সে ক্যাম্পাসে আসে। কিন্তু এত ছোট ক্যাম্পাস দেখে তাঁর মন খারাপ ছিলো প্রথমে। কিছুদিন যেতেই যখন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন বিষয় সে জানতে পারলো তখন থেকেই ক্যাম্পাসের জন্য অন্য এক ভালো লাগা কাজ করে তার মধ্যে।  সে আরো জানায়, চারিদিক সবুযে ঘেরা এই ক্যাম্পাস আর সিলেটের সুন্দর বৃষ্টি সব মিলিয়ে তার কাছে তার ক্যাম্পাসই প্রিয়।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র ফুচকা চত্ত্বর । তাঁর পাশেই রয়েছে মনোমুগ্ধকর লেক। তারুণ্যের আড্ডা বসে এখানেই। রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর শহীদ মিনার যার নাম “সূর্যালোকে বর্ণমালা”।  রয়েছে জাতির পিতার নামে চত্ত্বর; বঙ্গবন্ধু চত্ত্বর।  পাশেই রয়েছে সুন্দর টিলা আর ইকো পার্ক ।

সবমিলিয়ে বলা যায় চারদিক সবুজে মোড়া ক্যাম্পাস আর তাঁর মাঝে তারুণ্যের উচ্ছ্বলতা, এ যেন তারুন্যেরই জয়গান।