১৯, আগস্ট, ২০২০, বুধবার | | ২৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

যানবাহন পারাপারের পরিমাণ বেড়ে গেছে কিন্তু বাড়েনি ফেরির সংখ্যা

আপডেট: এপ্রিল ২৫, ২০১৯

  • Facebook Share
যানবাহন পারাপারের পরিমাণ বেড়ে গেছে কিন্তু বাড়েনি ফেরির সংখ্যা

আনিস সেখ,(রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে গত কয়েকদিন ধরে যানবাহন পারাপারের পরিমাণ বেড়ে গেছে। কিন্তু বাড়েনি ফেরির সংখ্যা। বরং ফেরি বিকল ও প্রাকৃতিক বৈরিতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পারাপার। এতে করে ঘাট এলাকায় ৩দিন ধরে শতশত যানবাহন আটকা পড়ছে।
বুধবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া প্রান্তে প্রায় ৩ কিমি জুড়ে এবং টার্মিনাল মিলিয়ে অন্তত ৪ শতাধিক যানবাহন নদী পারের অপেক্ষায় আটকে থাকতে দেখা যায়। এর মধ্যে পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যাই বেশী। আটকে থেকে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যানবাহনের যাত্রী, চালক ও পণ্যের ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, আসন্ন পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সার্বিকভাবে দেশে পণ্যদ্রব্যের আমদানী-রপ্তানীতে বেশ কিছুদিন ধরে চাঙা অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে পণ্যবাহী যানবাহন পারাপারের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে দুই ঘাট দিয়ে যেখানে ১৫-১৬শ পণ্যবাহী যানবাহন পার হতো সেখানে গত কয়েকদিন ধরে পার হচ্ছে প্রায় ২ হাজার পণ্যবাহী যানবাহন। এর সাথে অন্যান্য গাড়ী তো রয়েছেই। যানবাহন বাড়লেও বাড়েনি ফেরি। রুটে মাত্র ৭টি রোরো (বড়) ও ৯টি ছোট ফেরি মিলে মাত্র ১৬টি ফেরি চলছে। বিকল রয়েছে চন্দ্রমল্লিকা নামের একটি ফেরি। নারায়ণগঞ্জ ডক ইয়ার্ডে মেরামতে রয়েছে আরো ৩টি বড় ফেরি। এ অবস্থায় দু’য়েক দিন পর পর কালবৈশাখী ঝড়ে ১-২ ঘন্টা করে রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় যানবাহন পারাপারে সমস্যা আরো প্রকট করে তোলে। এতে করে আটকে পড়া যানবাহনের যাত্রী ও চালকেরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দুরপাল্লার কয়েকশ নৈশকোচ প্রায় সারারাত উভয় পারে আটকে থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত নদী পার হয়।
সরেজমিন আলাপকালে কয়েকজন ট্রাক চালক জানান, তারা ২ দিন ধরে সিরিয়ালে আটকে আছেন। দালাল ছাড়া ফেরি টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। ফেরির টিকিট কাটতে দালালদের হাতে বাড়তি দিতে হচ্ছে ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর বাইরেও যারা গাড়ী প্রতি ১-২ হাজার টাকা পর্যন্ত দিচ্ছে তারা দালালের সহায়তায় ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করে আগে ফেরিতে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে। আমরা এ অবস্থার প্রতিকার চাই। সামনে রোজা। বাসের সাথে ট্রাক পারাপারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
বিআইডব্লিউটিসি’র অফিসের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, পর্যাপ্ত ফেরি না থাকা, ঝড়ে প্রায়ই ফেরি বন্ধ থাকা এবং যানবাহন পারাপারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ঘাট এলাকায় যানবাহনের সিরিয়াল সৃষ্টি হচ্ছে। তবে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে অপচনশীল মালবাহী যানবাহনগুলোকে বন্ধ রেখে যাত্রীবাহী ও অন্যান্য জরুরী যানবাহনগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে নদী পার করা হচ্ছে। কাউন্টারে সরকার নির্ধারিত টাকার বাইরে বাড়তি টাকা নেয়া হয় না। দালালদের ব্যাপারে কোন অভিযোগ জানা নেই।