২০, আগস্ট, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ১ মুহররম ১৪৪২

চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও ডবলমুুুুরিং আসনে আসছে নতুন মুখ

আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০১৮

  • Facebook Share
চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও ডবলমুুুুরিং আসনে আসছে নতুন মুখ

এরশাদ হোসাইন মুন্না:চট্টগ্রামের ১৬ আসনে বর্তমানে দুটিতে জাতীয় পার্টি, একটিতে জাসদ ও একটি তরিকত ফেডারেশনের এমপিরা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। আর বাকী ১২টিতে প্রতিনিধিত্ব করছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা।

তবে এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামভিত্তিক একটি শিল্পগ্রুপ অন্তত তিনটি আসনে ভূমিকা রাখছে। ইতোমধ্যে ওই গ্রুপের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণে তিনটি আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রার্থীরা অনেকটা নির্ভার। অন্যদিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। নাটকীয় সিদ্ধান্ত না হলে বন্দর আসনেও বর্তমান এমপির প্রার্থিতা বহাল থাকবে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে এবার ১৪ আসনেই প্রার্থী বহাল থাকলেও বাঁশখালী ও ডবলমুুুুরিং আসনে আসছে নতুন মুখ। বিশেষ করে এবারের চমক ডবলমুরিং হালিশহর আসনে বিএনপির সাবেক মেয়র মনজুর আলমের আওয়ামী লীগের প্রার্থীতা।

এবার মহাজোটের হয়ে নির্বাচনী মাঠে লড়বেন যারা : চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে এবারও নিশ্চিত ১৪ দলের অন্যতম নেতা বর্তমান সংসদ সদস্য তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য দ্বীপবন্ধু সাবেক সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমানের সন্তান মাহফুজুর রহমান মিতা।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক মেয়র মনজুরুল আলমের ভাতিজা শিল্পপতি মো. দিদারুল আলম।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) জোটের ভোটসঙ্গী জাতীয় পার্টির কারণে এবারও এই আসনটি আওয়ামী লীগকে ছেড়ে দিতে হচ্ছে জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতা বর্তমান সংসদ সদস্য ও বন পরিবেশমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের কাছে।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে টানা তিন বার আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়ন) আসনে টানা দুবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনেও গত দুই বারের সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জাসদের মইন উদ্দিন খান বাদলের এবারের প্রার্থিতা নিশ্চিত। জাতীয় রাজনীতি ও সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে তার উপরই আস্থা মহাজোট নেত্রীর। তাঁর দল নিবন্ধন না পেলেও ১৪ দলীয় প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন বাদল।

নগরীর প্রেস্টিজিয়াস আসন খ্যাত চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। জোটের হিসেবে ভোটসঙ্গী জাপার হেভিওয়েট প্রার্থী বাবলুর প্রার্থিতা নিশ্চিত।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাবেক গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন। তবে চমক হিসেবে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় বিএনপির সাবেক মেয়র মনজুর আলম। আফসারুল আমীনকে পাশ কাটিয়ে তার হাতেই উঠছে নৌকার টিকিট।

এম মনজুর আলম ১৯৯৪ সাল থেকে একটানা ৩টি নির্বাচনে ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর, ১ বার মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। সবশেষে ২০১৫ সালে তিনি মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনের দিন বেলা ১১টার মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে বিএনপির রাজনীতি থেকেও সরে দাঁড়ান। নির্বাচিত মেয়র ছাড়াও এক-এগারো সরকারের সময়সহ ৯ বারে প্রায় সাড়ে ৩ বছর ভারপ্রাপ্ত মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেন। মনজুর পরে আবারো আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে গত দুই বারের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আলোচিত-সমালোচিত ব্যবসায়ী নেতা আওয়ামী লীগের এম এ লতিফ। তবে নানা কারণে তাঁর মনোনয়ন-বঞ্চনার খবর প্রকাশ হলেও নানা সমীকরণে এবারও নৌকার টিকিট নিজের দখলে রাখছেন এম এ লতিফ।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) গত দুবারের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামশুল হক চৌধুরী এবারও নিজের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। পটিয়ায় সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন ও জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে শামসুল হক চৌধুরী টানা তৃতীয়বারের মত পটিয়ায় নৌকার প্রার্থী হচ্ছেন।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর সন্তান সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী জাবেদ গত দুবারের মত এবারও নৌকার টিকিটে নির্বাচন করবেন সেটা নিশ্চিত।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে এবারও নৌকার টিকিট দিচ্ছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ভোটের রাজনীতি ও গত পাঁচ বছরে এলাকায় কোনো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড না থাকার কারণে ব্যাপক জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছেন নিজ কর্মগুণে প্রবীণ এ নেতা। সে কারণে তিনিই হচ্ছেন চন্দনাইশের নৌকার প্রার্থী।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) প্রথমবারের মত জামায়াতবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচন করে ফসল ঘরে তুলে নৌকায় চড়ে সংসদে যান প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন নদভী। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমীন আলোচনায় থাকলেও কৌশলগত কারণে ও আরব রাষ্ট্রগুলোর সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করতে জামায়াতের ভোট-ব্যাংক হিসেবে পরিচিত এই আসনে আবারও নদভীকে নৌকার টিকিট দিতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাশঁখালী) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। কিন্তু নির্বাচিত হবার পর থেকে নানা বির্তকের জন্ম দেওয়ায় চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন-তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন তিনি। এ আসন থেকে নতুন মুখ হিসেবে ভোট সঙ্গী জাতীয় পার্টির মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী লাঙ্গল প্রতীকে মহাজোটের হয়ে নির্বাচন করবেন সেটা অনেকটা নিশ্চত।