২৩, আগস্ট, ২০২০, রোববার | | ৪ মুহররম ১৪৪২

নীলফামারীতে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননা করায় চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনেই উপযুক্ত জবাব দিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি

আপডেট: জুলাই ৬, ২০১৯

  • Facebook Share
নীলফামারীতে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননা করায় চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনেই উপযুক্ত জবাব দিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি

মো: নাঈম শাহ্, নীলফামারীঃ
জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দেশরতœ প্রধানমন্ত্রীর ছবি
অবমাননা করায় ডিজিটাল সেবার উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন
জেলা সদরের পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হবিবর রহমান, সেখানে
সাংবাদিকদের সামনেই চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলনের উপযুক্ত জবাব দিলেন
চেয়ারম্যান কতৃক অভিযুক্ত উদ্যোক্তা আজহারুল ইসলাম।

শুক্রবার রাতে পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হবিবর রহমান জেলার বিভিন্ন
গণমাধ্যমের কর্মীদের নিয়ে ইউপি ভবনের চেয়ারম্যানের কক্ষে সাদা
হার্ডবোর্ডে মার্কার কালী দিয়ে লেখা ‘তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন’ নামে একটি
ব্যানার টাঙিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে সংবাদ
সম্মেলনে বলেন “জিডিটাল সেবার উদ্যোক্তা আজহারুল ইসলাম রাজা বাথরুমের
দরজায় প্রধান মন্ত্রীর ছবি এবং বাথরুমের মেঝেতে বঙ্গবন্ধু ও প্রধান
মন্ত্রীর ছবি ফেলে তার উপর দিয়ে হাটাচলা করেছে, এতে বঙ্গবন্ধুসহ দেশরতœ
প্রধান মন্ত্রীকে অবমাননা করা হয়েছে”। এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের
জবাবে তিনি বলেন, “আগে ওইটা বাথরুম ছিল, পরে ষ্টোররুম বানিয়ে কম্পিউটারের
বিভিন্ন যন্ত্রাংস রেখেছে ডিজিটাল সেবার উদ্যোক্তা আজহারুল ইসলাম রাজা”।
ওই ষ্টোর রুমের চাবি কয়টা আর কার কার কাছে থাকে জানতে চাইলে, চেয়ারম্যান
বলেন, “আগে ৩টি চাবি ছিল, আজ থেকে একটাই করা হয়েছে, আর কার কাছে চাবি
থাকে সেটা আমি বলতে পারবো না চৌকিদার জানে”। সিসিটিভির ফুটেজে নিজ হাতেই
ব্যাংক এশিয়ার সাইনবোর্ড ভাঙানোর বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, “ওই
বিষয়ে তো ডাকিনি, যেটার জন্য ডেকেছি আপনি সেটাই করেন” বলে কৌশলে বিষয়ে
এড়িয়ে যান।

বিষয়টি নিয়ে পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেবা (ইউডিসি)র উদ্যোক্তা আজাহারুল
ইসলাম রাজা বলেন, “আমি উদ্যোক্তা হিসেবে আমার ডিজিটাল সেবায় নীলফামারীতে
শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা নির্বাচিত হয়ে আসছি, এই ডিজিটাল সেবার কারণেই বিভিন্ন
সরকারী ও বেসরকারী দপ্তর থেকে বিভিন্ন সনদপত্র অর্জন করেছি। এ এলাকার
মানুষের দোড় গোড়ায় ডিজিটাল সেবা পৌছিয়ে দিচ্ছি, এই ডিজিটাল সেবার কারণে
এলাকার মানুষ বিভিন্ন ভাবে উপকৃত হচ্ছে এবং একই কারণে বিশ্বে বাংলাদেশ
সরকারের ব্যাপক সাফল্য বাড়ছে, এটা উনি (চেয়ারম্যান) সরকারের সাফল্যকে
পছন্দ করছেন না এটা আমার বিশ্বাস, পাশপাশি আমি চেয়ারম্যানের কাছে ৩০
হাজার টাকা পাবো সেটা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্য নিয়েই স্বীয় পরিকল্পনা মাফিক
বঙ্গবন্ধু ও প্রধান মন্ত্রীর ছবি অবমাননার দায় আমার উপর চাপাতে চাইছেন,
এক কথায় উদর পিন্ডী বুদর ঘাড়ে”। তিনি আরও বলেন, “ধ২ও এর নীতিমালা অনুযায়ী
ডিজিটাল সেবা প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘদিন ধরেই সততা ও নিষ্ঠার সাথে এ এলাকার
মানুষকে জিডিটাল সেবা দিয়ে আসছি। আমার দ্বারা কখনই জাতির পিতাসহ দেশরতœ
প্রধান মন্ত্রীর ছবি অবমাননা হয়নি। তিনি (চেয়ারম্যান) শুক্রবার সকালে
ইউপি অফিসে আসেন এবং মেইন গেটে তালাবদ্ধ করে স্বীয় পরিকল্পনা মাফিক
শুক্রবার রাতে ইউপি ভবনে গণমাধ্যমের কর্মীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে
আমার উপর তার এহেন অপকর্মের দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছেন। তিনি
(চেয়ারম্যান) এর আগেও অফিসে এসে ব্যাংক এশিয়ার সাইনবোর্ড নিজ হাতেই
ভেঙ্গেছেন যা সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে ”।

এদিকে, এ ঘটনায় ইউপি চত্তরে বহু লোকের সমাগম বেড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে
কয়েকজন এলাবাসীর সাথে কথা হলে তারা সংবাদিকদের জানান, “ডিজিটাল সেন্টারের
উদ্যোক্তা আজাহারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই এ এলাকায় ডিজিটাল সেবা দিচ্ছে।
চেয়ারম্যানের সাথে তার (উদ্যোক্তার) অনেক মিল ছিল। কিছুদিন ধরেই
চেয়ারম্যানের সাথে আর্থিক লেনদেন নিয়ে উদ্যোক্তার বিরোধ চলতেছে। শুক্রবার
সকালে চেয়ারম্যান দুইজন চৌকিদার নিয়ে ভবনের ভিতের যায় এবং মেইন গেটের
তালাবদ্ধ করে। আর রাতে জানতেছি যে, উদ্যোক্তা প্রধান মন্ত্রীর ছবি
বাথরুমের মেঝেতে ফেলে তার উপর দিয়ে হাটাচলা করেছে, এটা আমাদের বিশ্বাস হয়
না কারণ ওইটা বাথরুম হলেও সেটি ব্যবহার করতো না কেউ এবং সেটা ষ্টোররুম
হিসেবে ব্যবহার করতো উদ্যোক্তা আজহারুল”।

এ বিষয়ে পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন এর সাথে
কথা হলে তিনি জানান,“জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধান মন্ত্রীর ছবি মেঝেতে
ফেলে তার উপর দিয়ে হাটাচলা করা শুধু অবমাননাই নয়, বরং চরম অবরাধ। তাই
এটাকে লঘু করে না দেখে তদন্ত সাপেক্ষে মুল অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ
ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশা করছি প্রশাসনের কাছে।