আপডেট: জুলাই ২১, ২০১৯

আপডেট:

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
গত ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতা বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেন। তখন বাংলাদেশের প্রতিনিধি প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় চাপের মুখে আছে। প্রিয়া সাহা বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। অভিযোগে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান নিখোঁজ রয়েছে দয়া করে আমাদের বাঁচান। আমরা দেশে থাকতে চাই। তিনি আরো বলেন, ১ কোটি ৮০ হাজার সংখ্যালঘু আছে। আমরা আমাদের বাড়ি- ঘর, জায়গা জমি খুইয়েছি। এখনো কোন বিচার হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তার করা অভিযোগের ভিডিওটি সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে দেশ জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। প্রিয়া সাহা কে দেশদ্রোহী বলে আখ্যায়িত করেন সাধারণ জনগন। এদিকে শনিবার (২০ জুলাই) দুপুর ১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে প্রিয়া সাহার দেয়া বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্ঠান সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোন অধিকার খর্ব হচ্ছে না। বর্তমান সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে সদা তৎপর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দৈনিক সময়ের কন্ঠকে বলেনঃ ১৬ বছর আমরা মুসলিম মালিকানাধীন একটা বাড়িতে ভাড়া থেকেছি আশপাশের সবাই ছিল মুসলিম অধিবাসী কিন্তু আমাদের সেখানে থাকতে কোন অসুবিধা হয়নি। কেউ কখনো আমাদের সাথে কোন বিদ্বেষ মূলক আচরণ করেনি। সন্ধা বেলায় শুধু মাত্র আমাদের বাসায়ই পূজার ঘন্টা বাজতো কেউ কখনো বাঁধা দেয়নি। প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে যে অভিযোগ করেছেন আমি তার সাথে বিরোধিতা করছি। প্রিয়া সাহা হয়তো কোন বিশেষ স্বার্থ হাসিলের জন্য এমন মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তবে মাঝে মাঝে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা ঘটে, এর জন্য আমি ধর্মকে দায়ী করতে চাই না। বিশেষ কোন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়েই এই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি মনে করেন। যারা ধর্মকে যথাযথভাবে বিশ্বাস করে তারা কখনো কারো প্রতি উগ্রবাদী হবে না সে হিন্দুই হোক আর মুসলমানই হোক।