১৪, মে, ২০২১, শুক্রবার | | ২ শাওয়াল ১৪৪২

গুজব ও গণপিটুনিরোধে লালমনিরহাট পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ

আপডেট: জুলাই ২২, ২০১৯

গুজব ও গণপিটুনিরোধে লালমনিরহাট পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ

হাসানুজ্জামান হাসান,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ

ছেলেধরা নিয়ে গুজবে কান না দিতে এবং এ ধরনের গুজব না ছড়ানোর জন্য জনসাধারণকে আহ্বান জানিয়েছে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ। পাশাপাশি কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশকে খবর দিতে এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি ‘পদ্মা সেতু তৈরীতে শিশুর মাথা লাগবে’- এমন গুজবের প্রেক্ষিতে দেশব্যাপি গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা গত কিছুদিন ধরে ঘটছে। যার আতঙ্ক লালমনিরহাট জেলা জুড়েও ছড়িয়ে পড়ে।

গত দুই দিনে জেলা শহরের শাহজাহান কলোনী ও আদিতমারী উপজেলা সাপ্টিবাড়িতে দুইজনকে স্থানীয়রা আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে পঞ্চাশোর্ধ এক মানসিক বিকারগ্রস্ত মহিলা এবং অপর এক মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়।
 পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়। এ ঘটনায় এক পুলশ সদস্যও আহত হয়।
এদিকে ‘ছেলেধরা’ গুজবের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নানা প্রচার প্রচারণা চালানো অব্যহত রেখেছে জেলা পুলিশ। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে আলোচনা সভা, নানা সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, স্থানীয় ডিশ চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার এবং ফেসবুকে নানা সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে। 

এদিকে সোমবার, ২২ জুলাই বিকেলে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে জরুরি প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে। ব্রিফিংয়ে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
 বিভিন্নস্থানে গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনিতে হত্যার মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চলছে। এটি শুধুমাত্র গুজব। এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হতে জনসাধারণকে আহ্বান জানাই।’
তিনি বলেন, ‘গুজব ছড়িয়ে এবং গণপিটুনি দিয়ে মৃত্যু ঘটানো ফৌজদারী অপরাধ। গণপিটুনির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
 গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে ছেলেধরা সন্দেহে কাউকে গণপিটুনি দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে সকলকে অনুরোধ জানাই। কাউকে ছেলেধরা সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক পুলিশকে সংবাদ দিন এবং গণপিটুনি না দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিন।’