২০, আগস্ট, ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ১ মুহররম ১৪৪২

নতুন ওষুধে ৮০ ভাগ মশা অজ্ঞান

আপডেট: আগস্ট ৭, ২০১৯

  • Facebook Share
নতুন ওষুধে ৮০ ভাগ মশা অজ্ঞান

সামিউল্লাহ ,কোতয়ালী (ঢাকা) থানা প্রতিনিধিঃ
ভারত থেকে আনা নতুন মশার ওষুধের ফিল্ড টেস্ট চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এতে প্রথম ধাপে ৮০ শতাংশের বেশি মশা অজ্ঞান বা নক ডাউন হয়েছে। তবে এ পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপের ফলাফল অর্থাৎ প্রথম পরীক্ষার ২৪ ঘণ্টা পর চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করা হবে।

 ডিএসসিসি নগর ভবনে তিন ধরনের ওষুধের তিনটি করে মোট নয়টি নমুনা ওষুধের পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন ডিএসসিসির প্রধান ভান্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। পরীক্ষায় ছিলেন আইইডিসিআর এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মিনতি সাহা এবং কৃষি অধিদপ্তরের প্ল্যান্ট প্রটেকশন উইং এর যুগ্ম পরিচালক ড. আমিনুল ইসলাম। 

এতে প্রথম ওষুধ ডেলটামেথ্রিন ১.২৫% ইউএলভি এর তিনটি খাচায় অজ্ঞান হওয়া বা নক ডাউন মশার শতকরা পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৮৪.৯২। দ্বিতীয় ওষুধ মেলাথিয়ন ৫% আরএফভি এর তিনটি নমুনায় নক ডাউন হওয়া মশার শতকরা পরিমাণ যথাক্রমে ৯২ এবং ১০০ ও ১০০ শতাংশ। সর্বশেষ টেট্রামিথইন এর তিনটি নমুনায় নক ডাউন হওয়া মশার শতকরা পরিমাণ যথাক্রমে ৯০, ১০০ এবং ৮৪ শতাংশ।

পরীক্ষা শেষে ডিএসসিসির প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান বলেন, মশার ওষুধ আমরা তিনভাবে পরীক্ষা করি। প্রথমে ফিল্ড টেস্ট, এরপর ল্যাব টেস্ট ও সবশেষ প্ল্যান্ট প্রটেকশন টেস্ট। আজকের পরীক্ষায় প্রতিটি নমুনাতেই নক ডাউন হওয়া মশার শতকরা সংখ্যা ৮০ এর ওপরে। অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে ওষুধগুলো উত্তীর্ণ হয়েছে। এরপর এই নমুনাগুলো ২৪ ঘণ্টা পর আবার দেখা হবে যে কতগুলো মারা গেলো। তাতে ফিল্ড টেস্টের সম্পূর্ণ ফলাফল পাওয়া যাবে। সেখানে যদি ৮০ ভাগের ওপর মশা মরে তাহলে ধরে নেওয়া হবে ওষুধগুলো কার্যকর।

তিনি আরো বলেন, সিটি করপোরেশনের মশক নিবারণ অধিদপ্তর থেকে এ মশাগুলো আমরা সংগ্রহ করেছি। তারা কেরানীগঞ্জ থেকে লার্ভা সংগ্রহ করে সেখান থেকে মশা উৎপাদন করেছে। তবে এসব মশা কোন প্রজাতির এবং এডিস মশা আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন কিউল্যাক্স ও এডিস প্রজাতির।

কবে নাগাদ ওষুধ আসবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব পরীক্ষা শেষে ওষুধগুলো অনুমোদন পেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আনা হবে।

অন্যদিকে, এই পরীক্ষায় ওষুধ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন দুই বিশেষজ্ঞ ডা. মিনতি সাহা ও ড. আমিনুর ইসলাম। তারা বলেন, আমরা তো দেখছি ওষুধ উত্তীর্ণ হয়েছে।

এর আগে, গত শুক্রবার ভারতীয় অপর কোম্পানি বায়ার করপোরেশনের ‘Aque k Delthrean (Deltamethrin) 2%EW’ নামে ওষুধটির নমুনা সংগ্রহ করে ফিল্ড টেস্ট করে ডিএসসিসি। এটি জার্মানির তৈরি যা পানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হয়। তাতে মশার নক-ডাউন ভালো পাওয়া যায়নি। ওই পরীক্ষায় ১নং নমুনায় ৫০টি মশার মধ্যে ১৩টি, ২নং নমুনায় ১৪টি ও ৩নং নমুনায় ৯টি মশা জ্ঞান হারিয়েছে। ফলে এর শতকরা হার দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে-২৬, ২৮ ও ১৮ শতাংশ। ফলে ওই ওষুধটি ‘অকার্যকর’ বলে ধরে নেয় ডিএসসিসি।