আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০১৯

আপডেট:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
ছাত্রলীগের কর্মসূচীতে অংশ নেওয়ায় এক নারী কর্মীকে হেনস্থা করেছে হলের সিনিয়ররা। শনিবার রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলের কয়েকজন সিনিয়রদের কতৃক এই হেনস্থার ঘটনা ঘটে অভিযোগ করেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে হলে ছাত্র রাজনীতি করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
জানা যায়, শনিবার ছাত্রলীগ কর্মী সাজেদা আক্তার জলি তার হলের কয়েকজন জুনিয়রকে নিয়ে ছাত্রলীগের কর্মসূচীতে অংশ নেয়। এঘটনায় হলের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাথী, মার্জিয়া, রেসমা, সোমা, শর্মিলা ও নিশিসহ কয়েকজন ছাত্রী নিজেদেরকে হল প্রভোস্টের প্রতিনিধি দাবি করে তাদেরকে ডেকে পাঠায়।
এসময় তাদেরকে না জানিয়ে কেন ছাত্রলীগের কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেছে জিজ্ঞেস করেন। সেইসাথে হলে কোনো রাজনীতি করা যাবেনা বলে জানায়। এরপর যেন তাদেরকে না জানিয়ে কোনো কর্মসূচীতে অংশগ্রহন না করে এই মর্মে সতর্ক করেন এবং হল প্রভোস্টের কাছে রাজনীতি করার বিষয়ে অভিযোগ করার হুমকিও দেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে এসময় তারা বলেন, হল প্রভোস্ট হলের ভিতর কোনো প্রকার রাজনীতিকে স্থান দিতে নিষেধ করেছেন। রাজনীতি হলের বাইরে থাকবে, হলের মধ্যে নয়। সিনিয়রিটির ভিত্তিতে তারা হলের প্রতিনিধি। তাই তাদেরকে না বলে কেউ কোনো কর্মসূচীতে অংশ নিতে পারবেনা।
ভুক্তভোগী সাজেদা আক্তার জলি জানান, ‘আমি কোনো প্রকার বল প্রয়োগ না করেই আমার জুনিয়রদেরকে এক আলোচনানসভায় অংশ নিতে বলি। তারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে আমার সাথে সভায় অংশ নেয়। কিন্তু হলের সিনিয়র আপুরা আমাকে ডেকে বলেন তাদেরকে না জানিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অংশ নেওয়া আমাদের বেয়াদবি হয়েছে। আমি জোর পূর্বক তাদেরকে নিয়ে গিয়েছি। এরপর যেন আর এরকম না করি বলে সতর্ক করেছে ও প্রভোস্ট স্যার রাজনীতি করার জানলে আমার সমস্যা হবে বলে হুমকি দেয় তারা।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তদের একজন সাথী বলেন, ‘আমরা সবসময়ই ছাত্রলীগের রাজনীতিকে সমর্থন করি। আমরা কখনোই রাজনীতি করতে নিষেধ করা বা কোনো বাধা দেইনি। হল ব্লকের মিটিংয়ে শুধু তাদেরকে বলা হয়েছে যেন হলের সিনিয়রদেরকে জানিয়ে করা হয়।’
শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতি করতে বাধা দেবে এটা মানা যায় না। প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর কেউ ছাড়া ছাত্রলীগের রাজনীতিতে বাধা দিতে পারেনা। আমরা হল প্রভোস্টের কাছে অভিযোগ করেছি। স্যার দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন বলে আমাদের আশ^স্ত করেছেন।’
এবিষয়ে খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. অশোক কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘হলে আমার কোনো প্রতিনিধি নেই। আমি কখনো ছাত্র রাজনীতি করতে নিষেধ করিনি। আমি নিজেও বঙ্গবন্ধু পরিষদের একজন সদস্য তাই আমি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে কখনোই বাধা দিতে পারিনা। কেউ আমার নাম করে কিছু বললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’