আপডেট: নভেম্বর ৩০, ২০১৮

আপডেট:

জীবনের হিসেব,কবিতাটি পড়েছিলাম যেখানে মাঝি বাবুকে বলেছিলেন তীরস্কার করে,
‘বাঁচলে শেষে আমার কথা হিসেব কর পিছে,
জীবনটা তোমার নেহাৎ গেলো ষোল আনাই মিছে’
ভাল সময়গুলো খুব দ্রুত কেটে যায়, এটাই নিয়ম।মাঝে মাঝে মনে হয় অতীতটা যদি আবার ফিরে পাওয়া যেত,ভালই হত মনে হয়,ভুলগুলো শুধরে নিয়ে আবার সামনে চলে আসতাম,এসব কথা বলে কোন লাভ নেই, আসলে মজার ব্যাপার হচ্ছে মানুষ এমন জাতি যে কোনভাবেই তার লোভ সম্বরন করতে জানে না,মৃত্যু নিশ্চিত জানা থাকলে ও খাবার খেতে ভুলে যায়না,মনে আছে,কোথাও পড়েছিলাম, এক ফাঁসির আসামীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তার শেষ ইচ্ছা কি?সে তার প্রিয় খাবারগুলোর নাম বলেছিল,আচ্ছা আমাকে যদি ফাঁসি দেওয়া হয়,তাহলে কি চাইব?কবি হলে বলতাম,জোৎস্না।ডাকাত হলে বলতাম,রক্ত।মসজিদের ইমাম হলে বলতাম,মিলাদ মাহফিল আর খারাপ লোক হলে বলতাম,মদ,মেয়ে মানুষ।আস্তাগফিরুল্লাহ!আমি নিজের ফাঁসির কথা ভাবছি,কি ভয়ানক ব্যাপার,আমি এখন যে সময়টা পার করছি,নিঃসন্দেহে খারাপ সময়,বেচে থাকলে সময় বদলাবে,ভাল সময় আসবে কিনা জানিনা,কিন্তু হয়ত একটা সময় নিজেকে নিয়ে হাসব।কি পাগলামি করেছি,এতদিন।
ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশুনা,সেই হিসেবে কবি সাহিত্যকদের বক্তব্য খুব ভালো করেই জানি,মানুষ নাকি জীবনে অনেকবার প্রেমে পড়ে,তবে ভালবাসে একবারই। ভালবাসা অনেক রকম হয়,শরীরের প্রতি ভালবাসা,অর্থের প্রতি ভালবাসা,রুপের প্রতি ভালবাসা,মনের প্রতি ভালবাসা,শেষেরটা ছাড়া বাকি সব ক্ষণস্থায়ী।অনেকে মনে করেন বিয়ে করে বাচ্চাকাচ্চা পয়দা করতে পারলেই স্বার্থকতা,আমিও এরকমভাবেই ভাবতাম, তবে এখন ধারনাটা কিছুটা পাল্টাচ্ছে,আসলে কিছু ধাক্কা মানুষকে আত্মউপলব্ধি এনে দেয়,আমার ভিতরেও ঠিক এই উপলব্ধিটা চলে এসেছে।
আসলে একটা সময় আমাদের সবাইকে মারা যেতেই হবে।বাবা মারা যাওয়ার আগে উনার ভিতরে মৃত্যুভয়টা দেখতাম এবং মানসিক প্রস্তুতি নিতেও দেখতাম,ভয় পেতেও দেখতাম মানে অনুভব করতাম আর কি।মৃত্যু কত ভয়ানক বিষয়।ইদানীং মাকেও দেখি নামাযের বিছানায় বসে প্রার্থনা করেন,মৃত্যু ভয় মনে হয় মানুষ বৃদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে।আমার ভিতরে এখনো ওইভাবে আসেনি,কারন আমি এখনো বুড়িয়ে যাইনি।আসবে একসময়।সিনিয়ররা বলেন বিয়ে করে ফেলো। বিয়েতেই শান্তি,বিয়েতেই মুক্তি।হা হা হা।বেঁচে থাকতে গেলে বিয়ে করতেই হবে এমন কি কোন কথা কোথাও লিখা আছে,জানিনা,মনে হয় নাই।কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধুর সাথে এ বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম, দুই বন্ধুতে সিগারেট খেতে খেতে একমত পোষন করলাম,বিয়ে করতেই হবে এমন কিছু নয়, আবার না করে বসে থাকতে হবে তাও নয়।তবে আমি তসলিমা নাসরিন হতে চাইনা।হা হা হা।ইংল্যান্ডের একটা মেয়ের সাথে কিছুদিন কথা বলেছিলাম, জিজ্ঞেস করলাম যে উনার বিয়ে বিষয়ক সাইকোলজী কি? উত্তর হচ্ছে, একসাথে শোওয়ার পার্মানেন্ট ব্যবস্হা। শুনে ২ জনেই হাসলাম।উনাদের চিন্তাধারা অনেক আপগ্রেড।
এখনকার সমাজে বহুগামিতা অনেক বেড়েছে, মানুষ এখন আর একে সন্তুষ্ট নয়।বাবামার আমলে শুনতাম,প্রেমিক, প্রেমিকা। আর এখন শুনি জি,এফ-বি,এফ।খুবি হাস্যকর এবং লজ্জাজনক বিষয় হচ্ছে, এখনকার মানুষ এটা বলে অভ্যস্হ যে, আমার রিলেশন আছে,ব্রেকাপ হয়েছে।এসব ফালতু শব্দগুলো চিন্তা করতেও কেমন যেন লাগে।ভালবাসা তো অবিনশ্বর, তাহলে এই শব্দগুলো কেন?ডিভোর্স , বিচ্ছেদ এখনকার সময়ে সাধারণ ব্যাপার।এগুলো হওয়ার পর মানুষের সাধারণ পরামর্শ হচ্ছে আরেকটা প্রেম কর,অথবা বিয়ে কর।কেমন যেন মাংস লোভী জানুয়ার মনে হয় না তখন নিজেকে। বিরহ জ্বালায় বসে থাকতে হবে,এটা যেমন ঠিক নয়,ঠিক তেমনি ভাবে উদ্দেশ্যমুলক ভাবে নতুন করে প্রেম করতে হবে, এটিও ঠিক নয়।মানিয়ে নিতে হবে কারন জীবন থেমে থাকে না।মনের মিল হচ্ছে না,ভাল কথা অথবা বোঝাপড়া ভাল নয়,এজন্য আলাদা থাকা যায় কিন্তু পরের দিনই আরেকজনকে যদি বলতে হয় আমি তোমাকে ভালবাসি, কেমন যেন নোংরামির পর্যায়ে পড়ে।উদাহরণস্বরুপ বিখ্যাত লেখিকা( উপমহাদেশের জন্য কুখ্যাত)তসলিমা নাসরিন এর উদ্দেশ্যে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ এর লিখা গান ‘ভাল আছি,ভাল থেকো ‘,এই গানটির জবাব কিন্তু তসলিমা নাসরিন দিয়েছিলেন অনেক বছর পরে,খোলা চিঠি লিখে।যেখানে রুদ্রের প্রতি ভালবাসা স্পষ্টত ফুটে উঠেছিল।বারে বারে তসলিমা নাসরিনের নাম নিচ্ছি দেখে আমাকে আবার উনার ভক্ত ভাববেন না।খুব কাছের এক বড়ভাইকে দেখেছিলাম কোন এক আপুর সাথে অনেক বছর প্রেম করার পর ঐ আপু যখন চোখ উল্টালেন,সহ্য করতে না পেড়ে ভাইটি আত্মহত্যা করে ফেললেন।ঐ আপুর এখন ৩ সন্তান,নিশ্চিতভাবে স্বামীসন্তান নিয়ে ভালই আছে।
খুব ইচ্ছা করে উনাকে জিজ্ঞেস করতে উনি কি এখনো ভাইয়াকে ভালবাসেন বা মনে করেন।সত্যি হয়ত বলতে পারবেন না।কিন্তু সত্যি তো হচ্ছে ভালবাসা কখনো ফুরিয়ে যায়না। মানুষ কেবল মানিয়ে নেয়।রুদ্রের মত আমি আর আমার প্রিয়তমা এ বছরই কোন এক পার্কে একসাথে গানটি গেয়েছিলাম ‘ভাল আছি,ভাল থেকো ‘ গানটি এখনো আছে।মানুষ ২ জন ২ জায়গায় চলে গেছি।আমার অভিজ্ঞতা যে কেবল আমার একার তা নয়,হয়ত একশবছর আগেও এরকম অন্য কারো হয়েছে,একশবছর পরেও এরকম হবে।এটাই জীবন,এখানে ভুল শুদ্ধ বলতে কিচ্ছু নেই,আছে কেবল মানিয়ে নেওয়া।আমার প্রিয়তমা যিনি হয়ত অনেক বছর আমাকে বলে গেছেন ‘আমি তোমাকে ছাড়া বাঁঁচব না’।এখন অন্য কাউকে ঘুড়িয়ে একি কথা বলবেন’আমি তোমার জন্যই বেঁচে আছি’।কারন এটাই জীবন,কচু পাতায় পানি। (চলবে)..
তালুকদার তুহিন
প্রভাষক, ইংরেজি বিভাগ
বিশ্বনাথ সরকারি কলেজ।