আপডেট: অক্টোবর ২৫, ২০১৯

আপডেট:

দীর্ঘ আট বছর গবেষণার পর বিলুপ্তপ্রায় বৈচী ফলের নতুন জাত উদ্ভাবন করলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুব রাব্বানী বৈচী ফল নিয়ে 2010 সাল থেকে এ গবেষণা করে আসছেন। মূলত বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এবং হেকেপ প্রকল্পের অর্থায়নে এ গবেষণাটি পরিচালনা করে আসছেন পবিপ্রবির এ গবেষক।
সম্প্রতি উদ্ভাবিত এ ফলের ইংরেজি নাম Governor’s Plum এবং এর বৈজ্ঞানিক নাম Flacourtia indica. ডাইওসিয়াস প্রকৃতির এ স্ত্রী গাছ নিয়মিত ফলধারী এবং দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একইসাথে চাষ উপযোগী। সাধারণত 1.5 থেকে 2.0 গ্রাম ওজনের এ ফলের মিষ্টতা 9 থেকে 10 শতাংশ হয়ে থাকে। ফলের শাঁস নরম ও সাদা বর্ণের। ফেব্রুয়ারি-মার্চে মাসে ফুল হয় এবং দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই ফল পরিপক্কতা অর্জন করে। তবে গাছটি জলাবদ্ধতা অসহনশীল। হেক্টরপ্রতি ৩ থেকে ৪ টন ফল উৎপাদন করা সম্ভব বলে আশা করছেন গবেষকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডঃ মাহবুবু রাব্বানী সময়ের কণ্ঠ’কে জানান, “জলবায়ু সহনশীল দেশীয় টেকসই ফলের গবেষণার ধারাবাহিকতায় বিলুপ্তপ্রায় বৈচীর নতুন জাত উদ্ভাবনের সক্ষম হয়েছি, নতুন এ জাত পবিপ্রবি তথা সারা দেশের সম্পদ”
বৈচী ফলটি ক্যারটিনয়েড, টিএসএস, ভিটামিন সি, আয়রন এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এর আবাদ খরচ সীমিত এবং জোড়া কলম পদ্ধতিতে বংশবিস্তার সম্ভব। এছাড়াও তিন বছরের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যাবে।
বৈচীর এ জাতের সম্প্রসারন বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ড.মাহবুবু রাব্বানি বলেন, “সহজলভ্য বংশবিস্তার, চাষাবাদ, কৌশল প্রস্তুতিকরণ, কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকা তথা সারাদেশের সম্প্রসারনের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি”
গত বুধবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ শাখার সহকারী বীজতত্ববিদ মানিক চন্দ্র কর্মকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উক্ত জাতকে পিএসটিইউ বৈচী-১ (PSTU Boichi-1) জাত হিসেবে নিবন্ধন করেন।